kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আইনস্টাইন হাজির

স্কুলে পড়া চার বন্ধু, থাকে হোস্টেলে। তাদের শখ প্ল্যানচেট করা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিকে তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আজকে তাদের প্ল্যানচেটে হাজির মহান বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। নিরাপদ দূরত্বে থেকে পুরোটা কাভার করেছেন ঘোড়ার ডিমের নির্ভীক রিপোর্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আইনস্টাইন হাজির

পল্টু : হে মহান বিজ্ঞানী, আপনি কি এসেছেন?

আইনস্টাইন : হ্যাঁ, বৎস, আমি হাজির। বলো, কেন ডেকেছ আমাকে?

শফিক : আপনি তো খুবই বিখ্যাত ও জনপ্রিয় একজন বিজ্ঞানী। আমরা আপনার সঙ্গে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় আর নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ডেকেছি।

বচকা : আরে, তুই চুপ থাক। আঁতেল কুহানকার! বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে আলোচনা! বস, আমরা আপনাকে ডেকেছি—প্রথম কারণ হলো, আমাদের দেশের দুই বোলারের নাকি অ্যাঙ্গেল নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এটা নিয়ে আপনার কী মতামত?

আইনস্টাইন : তোমরা এটার জন্য আমাকে ডেকেছ? এটার জন্য জ্যামিতির কাউকে ডাকতে।

বচকা (বিড়বিড় করে) : আগেই বলছিলাম আবাডিগাবাডি মানুষ ডাকিস না।

শফিক : পিথাগোরাস স্যার ভালো বোঝাতে পারতেন, তাই না?

আইনস্টাইন : হ্যাঁ, পারতেন। কিন্তু তিনি এখন সমুচার দোকান নিয়ে খুব ব্যস্ত।

তারেক : কাম সারছে! সমুচা?

আইনস্টাইন : অবাক হওয়ার কী আছে? ত্রিভুজ আকৃতির জিনিস উনি পছন্দ করেন।

বচকা : ওনার উপপাদ্যে আমাদের জীবন ত্যানাত্যানা হচ্ছে আর উনি সমুচা বেচতেছেন?

শফিক : স্যার, আপনি আমাদের থিওরি অব রিলেটিভিটি একটু সহজ করে বুঝিয়ে দিন।

আইনস্টাইন : এটা তো খুবই সোজা। ধরো, তুমি একটা গরম কড়াই ২০ সেকেন্ড ধরে থাকলে, তোমার মনে হবে এক ঘণ্টা হাত দিয়ে আছ। আবার ধরো, কোনো সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে একটা রুমে বসে এক ঘণ্টা গল্প করলে, তাহলে মনে হবে এই তো সবে ১০ মিনিট হলো।

বচকা : (আবার বিড়বিড় করে) তাই তো বলি, ডালিয়া ম্যাডামের ক্লাস এত তাড়াতাড়ি শেষ হয় ক্যামনে?

পল্টু : স্যার, আপনি নাকি খুব ভুলো মনের ছিলেন?

আইনস্টাইন : সে আর বলতে।

পল্টু : একটা ঘটনা বলবেন?

আইনস্টাইন : একবার ট্রেনে করে যাচ্ছিলাম। টিকিট চেকার এলো টিকিট চেক করতে। আমি পাগলের মতো টিকিট খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমার অবস্থা দেখে চেকার বলল, ‘স্যার, আপনাকে আমরা সবাই চিনি। আমরা জানি, আপনি নিশ্চয়ই টিকিট কেটেছেন, কোথায় রেখেছেন ভুলে গেছেন। কোনো সমস্যা নেই স্যার। ’ এই বলে সে সামনে এগিয়ে গেল। আমি তার পরও খুঁজে চলেছি। আমার অবস্থা দেখে সে আবার আমার কাছে এলো। ‘স্যার, আপনার আর খোঁজার দরকার নেই। আমরা জানি আপনি টিকিট কেটেছেন। ’

তারেক : এরপর?

আইনস্টাইন : এরপর আমি তাকে বললাম, ‘আরে টিকিট না পেলে আমি বুঝব কিভাবে আমার কোথায় নামার কথা ছিল!’

বচকা : কী আরাম! টিকিট ছাড়া ঘুরে বেড়াতেন।

আইনস্টাইন : আরে, কে বলেছে টিকিট কাটতাম না?

বচকা : বুঝি বুঝি, সব বুঝি। কত দেখলাম।

আইনস্টাইন : আরে, এই ছেলেটা তো খুব বেয়াদব!

শফিক : বচকা, তুই থামবি।

পল্টু : স্যার, আপনার একটা ছবি ছিল জিহ্বা বের করা—এটা কেন তুলেছিলেন?

আইনস্টাইন : যেন এখন তোমাদের ফেসবুকের বিভিন্ন পেইজের অ্যাডমিনরা আমার ছবি পোস্ট করে বলতে পারে, ‘আইনস্টাইনের জিহ্বার জন্য কত লাইক?’

শফিক : আপনারা ফেসবুক চেনেন?

আইনস্টাইন : আগে খুব একটা চিনতাম না। স্টিভ জবস আসার পর থেকে প্রযুক্তি আমাদের ওখানে খুব উন্নত হয়েছে।

বচকা : ফ্রি ফেসবুক চালাইতে পারেন? আমার থেকে শিখে নিয়েন।

আইনস্টাইন : তোমার থেকে আমার কিছু শেখার দরকার নাই।

বচকা : আরে, খেপেন ক্যান? আমাদের শিকদার স্যার বলে, শেখার কোনো শেষ নাই আর মাইর খাওয়ার কোনো বয়স নাই।

শফিক : বচকা, চুপ করবি? স্যার, আপনার সঙ্গে নাকি আমাদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেখা হয়েছে?

আইনস্টাইন : হ্যাঁ, হয়েছিল। ১৯৩০ সালে, জার্মানিতে।

শফিক : কী কথা হয়েছিল ওনার সঙ্গে?

আইনস্টাইন : ওনার সঙ্গে ‘পাই’-এর মান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পাইয়ের মান নিয়ে আলোচনার পরেই, উনি এটা নিয়ে একটা গান লিখেছিলেন।

শফিক : বলেন কী? কোন গানটা?

আইনস্টাইন : মাঝে মাঝে তব দেখা ‘পাই’, চিরদিন কেন পাই না।

বচকা : বাংলা সিনেমার একটা গানও তো আছে আপনার পাই নিয়ে?

আইনস্টাইন : বলো কী? কোন গান?

বচকা : তোমাকে চাই, শুধু তোমাকে চাই

আর কিছু জীবনে পাই বা না পাই।

আইনস্টাইন : এই ছেলে দেখি ভালো ফাজিল আছে।

বচকা : সরি বস। আপনার জিহ্বাটা একটু দেখাবেন প্লিজ। একটা ছবি তুলে রাখতাম।

আইনস্টাইন : আমাদের এখানে সশরীরে হাজির হওয়ার ব্যবস্থা নেই। আমি চললাম। বিদায়।


মন্তব্য