kalerkantho


ফেসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্টেটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন গায়ত্রী মণ্ডল, এঁকেছেন কাওছার মাহমুদ

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফেসবুক অফলাইন

 

অফিস রঙ্গ : ফেস ছবি

হায় রে আইসিসি

১। তামিমের ব্যাটিং নিয়েও সন্দেহ করছে আইসিসি।

বাংলাদেশি প্লেয়ার তামিম জোরে বাড়ি মারে। জোরে বাড়ি মারা যাবে না, বল মাঠের বাইরে উড়ে গেলে আউট।

২। সাব্বিরের চোখ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে আইসিসি। তাদের ধারণা, সাব্বিরের চোখের মণিতে অত্যাধুনিক ইলেকট্রো ম্যাগনিফাইয়িং ক্যামেরা লাগানো আছে, যার মাধ্যমে সে যখন ব্যাটিং করে তখন বোলারদের বোলিং অন ফিল্ডে এনালাইসিস করতে পারে।

৩। মাশরাফির ক্যাপটেন্সির ওপর সন্দেহ করছে আইসিসি। তাদের ধারণা, সে এই পৃথিবীর কেউ না। তাই তাকে নিয়ে অনেক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

যদি তার মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তাকে আর মাঠে নামতে দেবে না।

নিয়াজ মোর্শেদ

 

প্লেয়ারদের উচিত প্রতি ওভার শেষে ফেসবুকে ঢোকা। এখানে অনেক পরামর্শ থাকে বোলিং ও ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে।

নীল অপরাজিতা

 

আমরা নির্ভরশীল

আমরা পশুপাখির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পশুপাখি আমাদের ওপর নির্ভরশীল নয়।

উদাহরণ : সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠ সুন্দর বলে আমরা সাবিনা ইয়াসমীনকে ‘কোকিলকণ্ঠী’ বলি। অথচ এক কোকিল কিন্তু আরেক কোকিলকে ‘সাবিনাকণ্ঠী’ বলে না। বিশ্বাস না হলে কোকিলদের সঙ্গে কথা বলে দেখেন।

ইকবাল খন্দকার

 

অধিকার ও কর্তব্য

মেয়েরা ডেটিংয়ে লেট করে আসবে—এটা তাদের অধিকার। আর ছেলেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করবে—এটা তাদের কর্তব্য। ...জনৈক লেট লতিফা (লেট লতিফের প্রেমিকা)।

শূন্য কানন

 

শুকিয়ে যা হয়

আঙুর শুকিয়ে কিশমিশ হয়ে যায়। আর প্রেম শুকিয়ে হয় ডিসমিস।

এজি মাহমুদ

আইসিসির কাণ্ডকারখানা

আইসিসির কাণ্ডকারখানা আমাদের ছোটবেলার গলির ক্রিকেটের মতো হচ্ছে। ব্যাট আমার, আমি আগে নামব। আউট দিলে ব্যাটের মালিক ব্যাট নিয়ে হাঁটা ধরবে। বলের ‘কষটেপ’ কেনার টাকা যে দেবে, তাকে ওপেনিং বল দেওয়া হবে। ‘উড়াইয়া’ মারলে আউট। ‘গড়াইয়া’ মারলে ডেড বল। বল বেশি জোরে করলে নো বল। কারো আব্বা বড়লোক থাকলে তাকে দুইবার আউট করতে হবে। কসম খাওয়ার সিস্টেম থাকবে, যেমন—কসম ব্যাটে লাগে নাই। কসম মাটিতে টাচ খাইছে। নতুন একটা যোগ হইছে, ভালো পেসে বল করলে ‘চাক্কা’ বল। আগে মাঠে স্লেজিং করে মনোবল নষ্ট করত স্লেজাররা, এখন সেই দায়িত্ব আইসিসি নিজে পালন করতেছে। আমাদের দাবায়ে রাখার কত শত প্রচেষ্টা...ব্যাপারটা জোশ।

তানজীর ইসলাম বৃত্ত

 

হা হা হাম—এইটা হলো পুরুষবাচক অনলাইন হাসি। হি হি হিম—এইটা হলো স্ত্রীবাচক অনলাইন হাসি।

জান্নাতুল ফেরদৌস

 

সৌজন্যের বাড়াবাড়ি

এফএম রেডিওতে ক্রিকেট খেলার ধারাভাষ্য দেন এমন একজনকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়—ভাই কেমন আছেন? বাসার সবার খবর কী? ভাবি কেমন আছে?

তাহলে তিনি উত্তরে বলবেন—আমাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রথমেই জানাই মোজাম্মেল চিপসের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। কাইয়ুম বলপেনের সৌজন্যে জানাই ভালো আছি, ছোলেমান বাইসাইকেলের সৌজন্যে বাসার সবাই ভালো আছে, মদন ড্রিংকসের সৌজন্যে ভাবিও ভালো আছেন।

মিকসেতু মিঠু

 

ছেলে

ছেলে তুই আছিস কেন এখনো বেকার। হয়ে যা হ্যাকার। দেব তোকে পটেটো ক্র্যাকার।

ঈপ্সিতা চৌধুরী

 

পরিস্থান

গুলশানের ফুটপাত ধরে হাঁটছি। একটা বাসা থেকে একের পর এক পরির মতো সুন্দর মেয়ে বের হচ্ছে দেখে বললাম, ভাই এটা কি পরিস্থান?

—না ভাই, বিউটি পার্লার। বিল্ডিংয়ের দিকে তাকিয়ে আসাদ ভাই উত্তর দিলেন।

মিঠু

 

মেসেজ

মিটিংয়ের মাঝখানে এক ডিরেক্টরকে ফোন দিয়ে বললাম, নুসরাত ফারিয়ার নম্বরটা দেন, একটা প্রোগ্রাম নিয়ে কথা বলব। ডিরেক্টর বলল, এখনই টেক্সট করে দিচ্ছি।

মিটিংয়ে বসে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করলাম, কোনো টেক্সট নাই। কাহিনী কী! আবার ফোন দিলাম ডিরেক্টরকে।

—কই, নম্বরটা তো দিলেন না।

—দিছি তো।

—পাই নাই তো।

—মেসেজ পাঠাইছি।

—আচ্ছা, দেখতেছি।

ফোন কেটে দিয়ে আবার মোবাইলটা চেক করলাম। একটা একটা করে সব মেসেজ ঘাঁটলাম, নাহ্! ফারিয়ার নম্বরসংক্রান্ত কোনো মেসেজ নাই। বিরক্ত হয়ে আবার ফোন দিলাম ডিরেক্টরকে।

—আমি কোনো মেসেজ পাই নাই তো।

—বলেন কী! আমি তো সঙ্গে সঙ্গেই পাঠাইছি।

—সেন্ট হইছে?

—হ্যাঁ, হইছে।

—কিন্তু আমি তো পাই নাই। কষ্ট করে আরেকবার পাঠাবেন?

—আচ্ছা, আবার পাঠাচ্ছি।

ফোন কেটে দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম।

১০ মিনিট...

২০ মিনিট...

৩০ মিনিট....

মিটিং শেষ... তবু কোনো টেক্সট পাইলাম না।

রাগ করে আর ওই ডিরেক্টরকে ফোন দিলাম না। দরকার নাই তার নম্বরের। কিন্তু একটু আগে বাসায় এসে ফেসবুকে লগইন করলাম। দেখলাম, ওই ডিরেক্টর ভদ্রলোক দুবার মেসেজ পাঠাইছে আমার ইনবক্সে। হুম...নুসরাত ফারিয়ার নম্বর পাঠাইছে।

হআপেল মাহমুদ

 

হ্যাকার

বাসায় ফিরছি রিকশায়। রিকশাওয়ালা পরিচিত। বলল, স্যার, হামার টাকা বলি কায় নিয়া গেইছে?

আমি বললাম, ঠিক ওভাবে না, হ্যাক হয়েছে। ফলে টাকা অন্য দেশের অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রিকশাওয়ালা বলল, কত টাকা স্যার?

বললাম, বেশ অনেক টাকা।

কতগুলান রিকশা কেনা যাইবে স্যার, ওই টাকা দিয়া?

বললাম, তা-ও ধরো লাখ পাঁচেক।

চোখ কপালে তুলে রিকশাওয়ালা বলল, কতগুলান চ্যাংড়ার কাজের জোগাড় হইত স্যার, ভাবেন দেহি। শুনতেছি সেই টাকা দিয়া নাকি জুয়া খেলাইতেছে।

হেসে বললাম, হ্যাকিংয়ের টাকা তারা তাদের ইচ্ছামতো খরচ করছে। রিকশাওয়ালা কথা না বাড়িয়ে আপন মনে বিড় বিড় করে বলতে থাকল, হামার পাড়ার সইরুদ্দি মুন্সীর বড় ব্যাটা সারা রাইত ধরি জুয়া খেলাই টাকাপয়সা শেষ করি ভোরবেলা বাড়িত আসিয় বৌউক ধরি মারে। এই জুয়া খেলাত যে কায় মার খায় কেডা জানে?

হচঞ্চল ভৌমিক

 

জীবনে যত প্রশ্ন

আমাদের জীবন প্রশ্নমুখর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নের ধরন পাল্টায়। আপাতদৃষ্টিতে প্রশ্নকর্তারা উত্তরদাতার ভালো-মন্দ জানতে চাইছেন বলে মনে হলেও মূল ব্যাপার অন্য রকম।

স্কুলজীবনের প্রশ্ন—

কোন ক্লাসে পড়ো?

রোল নম্বর কত?

রোল এত পেছনে কেন? (খারাপ ছাত্র হলে)

পড়ালেখা না করে দুষ্টুমি করো?

মা-বাবার কথা ঠিকমতো শোনো না?

খেলাধুলা করো শুধু?

 

কলেজজীবনের প্রশ্ন—

ম্যাট্রিকের রেজাল্ট কী?

খারাপ হলো কেন রেজাল্ট?

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা?

কোন সাবজেক্টে পড়বা?

ভবিষ্যতে কী করবা?

 

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রশ্ন—

কোন সাবজেক্টে পড়ো?

অনার্স শেষ করে কী করবা?

সাবজেক্টটার বাজার কেমন?

চাকরিবাকরি আছে তো?

কোন লাইনে যাবা বলে ঠিক করেছ?

 

বেকারজীবনের প্রশ্ন—

চাকরিবাকরি খুঁজতেছ নাকি?

কেমন চাকরি পছন্দ?

সরকারি চাকরিতে অ্যাপ্লাই করতেছ না কেন?

বসে বসে আর কত দিন?

মা-বাবার কথা ভাবো?

 

চাকরিজীবনের প্রশ্ন—

স্যালারি কেমন?

বেতনটেতন পাও তো?

চলে তো?

বিয়েশাদি করবা কবে?

বয়স যে শেষ হয়ে যাচ্ছে, খেয়াল আছে?

 

বিবাহিত জীবনের প্রশ্ন

সংসার ঠিকমতো চলতেছে তো?

ঝামেলা হয়?

বাচ্চাকাচ্চা নিচ্ছ কবে?

টাকাপয়সা জমাচ্ছ তো? নাকি ফালতু খরচ করো?

 

পিতামাতার জীবনের প্রশ্ন—

বাচ্চা কোন স্কুলে পড়ে?

রোল কত?

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

রেজাল্ট খারাপ কেন?

বাচ্চার গ্রোথ কম কেন?

আমরা পুরো জীবন এভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে একসময় জীবন শেষ হয়ে যায়, তবুও প্রশ্ন শেষ হয় না।

হকাসাফাদ্দৌজা নোমান


মন্তব্য