kalerkantho


সদরুল এবং যাজকের গল্প

আদিত্য রহিম

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সদরুল এবং যাজকের গল্প

 ক্রিকেট খেলা তেমন একটা বোঝে না সদরুল, তার পরও ক্রিকেটের ব্যাপারে প্রচুর আগ্রহ তার। নিজে খেলার সাহস করে উঠতে না পারলেও আম্পায়ারিংয়ের কাজটা তার খুব পছন্দ। একবার তাদের পাড়ায় ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হলো। সদরুল তার বন্ধুদের গিয়ে ধরল তাকে যেন ওই ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বন্ধুরা আর কী করে! সদরুলকেই আম্পায়ার বানিয়ে দিল। ম্যাচের দিন যথারীতি মাথায় সাদা টুপি পরে ভাবগম্ভীর চেহারা নিয়ে ম্যাচ পরিচালনার জন্য দাঁড়াল সদরুল। প্রথম ওভার শুরু হলো। তিন-চারটি বল ভালোভাবেই কাটল। চতুর্থ বলটি গিয়ে লাগল ব্যাটসম্যানের ঊরুতে। স্টাম্পের অনেক ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল বল, বোলার হালকা আবেদন করেছে কি করেনি, সদরুল গম্ভীর মুখে আঙুল তুলে দিল। আউট! সবাই, এমনকি বোলার নিজেও থ। ব্যাটসম্যান কতক্ষণ বোকার মতো সদরুলের দিকে তাকিয়ে থেকে তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘এটা কী ধরনের আউট হলো?’

সদরুল কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল, ‘রানআউট। ’

‘রানআউট?’ ব্যাটসম্যানের চোখ ছানাবড়া। ‘আরে আমি তো রান নেওয়ার চেষ্টাই করিনি, ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রানআউট কিভাবে হলাম আমি?’

সদরুল আগের মতোই গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ‘বল আপনার রানে লেগেছে, এ জন্য রানআউট। এটাও বোঝেন না?’

 

ধর্মযাজক হিসেবে এক এলাকায় নতুন যোগ দিয়েছেন এক পাদরি। তাঁর কাছে ফোন এলো স্থানীয় কবরস্থান থেকে, এক ভদ্রলোকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। জানানো হলো, এলাকায় নতুন কবরস্থান স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে এটিই প্রথম শেষকৃত্য। নতুন কবরস্থানের ঠিকানা জানতেন না পাদরি ভদ্রলোক, তবু কাউকে জিজ্ঞেস না করে একাই একসময় হাজির হলেন অকুস্থলে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়ে গেল তাঁর। সেখানে গিয়ে দেখলেন, সদ্য খোঁড়া একটি গর্তের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন মানুষ। বোঝাই যাচ্ছে, গর্তটি সবেমাত্র মাটি দিয়ে বুজে দেওয়া হয়েছে। পাদরি বুঝলেন, কবর দেওয়ার কাজটি হয়ে গেছে এবং সম্ভবত বেশির ভাগ দর্শনার্থীও চলে গেছে। তিনি লোকগুলোর কাছে গিয়ে বললেন, ‘দুঃখিত, আমার বেশ দেরি হয়ে গেল। তবে আপনারা যেহেতু এখনো আছেন, সেহেতু আমি দ্রুত কিছু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে নিচ্ছি। ’ এই বলে তিনি বুজে দেওয়া গর্তটির পাশে দাঁড়িয়ে শ্লোক উচ্চারণ করতে শুরু করলেন। লোকগুলোও মাথা নিচু করে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে রইল। দীর্ঘ সময় নিয়ে শ্লোক পাঠের কাজটি করলেন তিনি। তারপর সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেন। বেরিয়ে যাওয়ার মুখে হঠাৎ তাঁর কানে এলো উপস্থিত লোকগুলোর মধ্যে একজনের কথা—‘ভাই, আজ ২০ বছর ধরে পানির ট্যাংক বসাচ্ছি; কিন্তু ট্যাংক উদ্বোধনের এই সিস্টেম আর কোথাও দেখিনি!’


মন্তব্য