kalerkantho

সোমবার । ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩ মাঘ ১৪২৩। ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৮।


প্রেমিকার বাবা

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রেমিকার বাবা

প্রেমিকার বাবার সঙ্গে প্রেমিকের অলিখিত এক গ্যাঞ্জাম থাকে। একজন আদর্শ প্রেমিকের কাজ হলো হবু শ্বশুর আব্বার সঙ্গে গ্যাঞ্জামে না জড়ানো। সেভাবে চলার চেষ্টা ছিল।

প্রেমকে বিয়েতে পরিণত করার জন্য আমার প্রেমিকা তার বাবার কাছে পাঠিয়েছিল। ঘরে ঢুকে দেখি, তিনি আধমরা হয়ে পড়ে আছেন। একটু ঘাবড়ে গেলেও বুঝতে পারলাম—এটা তার স্টাইল। পাশে বসতেই তিনি মদের বোতল এগিয়ে দিয়ে বললেন, খাও।

আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। বললাম, আজ না আঙ্কেল, আরেক দিন।

তিনি আমার ভদ্রতায় মুগ্ধ হলেন। মুগ্ধতা প্রকাশেও তাঁর নিজস্ব স্টাইল আছে। তিনি ধমক দিয়ে বললেন, আরেক দিন খাইলে আজকে আসছ কেন?

কথা তো ভুল বলেননি। তাঁর আন্তরিকতায় আমি এতটাই মুগ্ধ হলাম যে ঢকঢক করে দু ঢোক মেরে দিলাম। তিনি খুবই খুশি হলেন।

তাঁর খুশি প্রকাশেরও একটা নিজস্ব স্টাইল আছে। তিনি পকেট থেকে এক প্যাকেট তাশ বের করলেন। বললেন, স্পেডস খেলা পারো?

আমি লজ্জায় বেগুনি হয়ে গেলাম। বললাম, পারি। কিন্তু আজ না আঙ্কেল, আরেক দিন।

তিনি ধমক দিয়ে বললেন, আরেক দিন খেললে আজকে আসছ ক্যান?

কথা তো ভুল বলেননি। তাঁর আতিথ্যে আমি এতটাই মুগ্ধ হলাম যে দু দান তাশ খেলে ফেললাম। তিনি খুবই অবাক হলেন।

অবাক হওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর একটা নিজস্ব স্টাইল আছে। তিনি বললেন, বলো, কী বলতে আসছ।

বললাম, আপনার মেয়ে আপনাকে বলতে বলছে আমার সঙ্গে ওকে বিয়ে দিতে। আর বলতে বলছে, আমি ওকে অনেক ভালোবাসি।

তিনি ধমক দিয়ে বললেন, তাতে আমার কী, এখন কি তোমাকে মাথায় তুলে নাচব?

আমি লজ্জায় কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করলাম। বললাম, আজ না আঙ্কেল, আরেক দিন।

হতানভীর আহমেদ হ্যামলেট


মন্তব্য