kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।

ভাষা

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভাষা

প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে, নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে। ’

চট্টগ্রামের মানুষ হিসেবে ব্যাপারটা আসলেই চিন্তা করার মতো। সত্য বলতে কি, বাংলা ভাষার সঙ্গে চট্টগ্রামের ভাষার ৭০ ভাগই ন্যূনতম মিল নেই। যেমন ধরেন : মুরগীকে চট্টগ্রামের ভাষায় বলে কুরো। মোরগকে বলে লাতা কুরো। শালিক পাখিকে বলে দেচ্ছো। তেলাপোকাকে বলে তেইল্লেচুরা। কাককে হাউওও। টয়লেটকে টাট্টি। খারাপ মানুষকে জারগো। মাওলানাকে মুলিছাফ। পেয়ারাকে গুয়াছি। শিমের বিচিকে হাইস্যে। সমুদ্রকে দইজ্জে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর চট্টগ্রামের ভাষায় এমন কিছু এপিক এক্সপ্রেশন আছে, যা শুধু বাংলা কেন! পৃথিবীর কোনো ভাষায় অনুবাদ করা যাবে না।

যেমন ধরেন—অবাইজ্জেকুদা, আত্তামারেবাপ, মাইল্লেফিরে, অবাজিরে, উম্মারেম্মা।

তা ছাড়া চট্টগ্রামের প্রবাদগুলোও পুরোপুরি ভিন্ন। যেমন—ধরেন পুন্দত নাই তেনা, মিডে দি ভাত হানা (পাছায় কাপড় নেই, তা-ও মিঠা দিয়ে ভাত খেতে চায়)। ফুয়াদেল্লাই ছাড়িত ন পারির, কেড়ারলাই গিলিত ন পারির (স্বাদের জন্য ছাড়তে পারছি না, কাঁটার জন্য গিলতে পারছি না)। হাত পাঁচ চইদ্দ, দুই টিয়া নইদ্দো (সাত পাঁচ চৌদ্দ, দুই টাকা দিয়ো না)। ঘরের গরু ঘাড়ার খেড় ন হায় (ঘরের গরু সামনের মাঠের ঘাস খায় না)।

এ রকম হাজারো প্রবাদ আছে যা বাংলা ভাষায় বুঝে নেওয়া অনেক কঠিন। মানুষ এই ভাষাকে কঠিন, বাজে—যে যা-ই বলুক, এটিই আমাদের মায়ের ভাষা। এ ভাষা শেখা যায় না। যুগের পর যুগ মানুষ চট্টগ্রাম থেকেও এ ভাষা আয়ত্ত করতে পারে না। এ ভাষা জন্ম থেকে আয়ত্ত করতে হয়। বেঁচে থাকুক চাটগাঁইয়া ভাষা অনন্তকাল।

এডুকেশন নিউজ


মন্তব্য