kalerkantho

ত্রিরত্ন

আদিত্য রহিম

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ত্রিরত্ন

হোটেলে খেতে বসেছে দুই বন্ধু কালাম আর সালাম। ভাতের সঙ্গে কালাম নিল দুটি ছোট মাছ আর সালাম নিল পুরো এক বাটি গরুর গোশত।

খেতে শুরু করার আগে সালাম ব্যঙ্গ করে কালামকে বলল, ‘তুই তো দারুণ কিপটা, মাত্র দুটি ছোট মাছ নিলি?’

কালাম গম্ভীর স্বরে বলল, ‘মাছ খেলে বুদ্ধি বাড়ে, আর তুই যেটা নিয়েছিস সেটা খেলে বুদ্ধি কমে। ’

সালাম এক মুহূর্ত চিন্তা করে বলল, ‘তাহলে এক কাজ করা যাক। তুই আমারটা নে, আর আমাকে তোরটা দে। ’

কালাম মাথা নেড়ে বলল, ‘প্রশ্নই ওঠে না। আমার বুদ্ধি দরকার, ছোট মাছ আমাকে খেতেই হবে। ’

সালামের জেদ চেপে গেল। বলল, ‘শোন, তুই যদি আমাকে তোর মাছের তরকারিটা দিস, তাহলে আমারটা তো তোকে দেবই, সঙ্গে দেব আরো ১০০ টাকা। ’

কালাম তার পরও ইতস্তত করছে দেখে সালাম বলল, ‘আচ্ছা, ১০০ না, দেড় শ টাকা দেব। ’ কালাম এবার রাজি হলো।

তরকারি আদান-প্রদান শেষে এবার খাবার পালা। ভাতের প্রথম গ্রাসটা মুখে তুলতে গিয়ে কী মনে করে থেমে গেল সালাম। কালামকে বলল, ‘আচ্ছা দোস্ত, বেয়ারাকে বললেই তো আমার মাংসের তরকারিটা বদলে মাছ নিয়ে নিতে পারতাম। কেন খামাখা তোকে দেড় শ টাকা দিলাম?’

কালাম মুচকি হেসে বলল, ‘দেখলি তো ছোট মাছের ক্ষমতা? এখনো মাছটা মুখেও দিসনি, তবু তোর কেমন বুদ্ধি খুলে গেছে!’

 

একবার এক মানসিক হাসপাতালের ডাক্তার ঠিক করলেন, তাঁর তিনজন রোগীর জন্য একটি বিশেষ পরীক্ষার আয়োজন করবেন। পরীক্ষায় যে পাস করবে, তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে যে পরীক্ষায় পাস করতে পারবে না, তাকে আরো পাঁচ বছরের জন্য হাসপাতালে রেখে দেওয়া হবে।

ডাক্তার তিন রোগীকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালের সুইমিং পুলের পাশে। তারপর তাদের বললেন, উঁচু একটা ডাইভিং বোর্ড থেকে সুইমিং পুলে ঝাঁপিয়ে পড়তে। কিন্তু মুশকিল হলো, পুলের মধ্যে কোনো পানি নেই।

প্রথম রোগী ডাইভিং বোর্ডে উঠে নিচের দিকে একবার তাকাল। তারপর ঝাঁপ দিয়ে পড়ল নিচে। পুলে যেহেতু পানি নেই, সেহেতু সরাসরি কংক্রিটের ওপর পড়ল সে এবং তার দুটি পা-ই ভেঙে গেল। এবার দ্বিতীয়জনের পালা। সে ডাইভিং বোর্ডের ওপর উঠে কতক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে থাকল, তারপর দিল লাফ। সে-ও সরাসরি কংক্রিটে পড়ল এবং তারও দুই পা ভেঙে গেল। এবার তৃতীয়জনের পালা। সে ডাইভিং বোর্ডে উঠে নিচের দিকে তাকিয়েই পিছিয়ে এলো। বলল, ‘আমি লাফ দেব না। ’

‘অভিনন্দন’, ডাক্তার বললেন। আপনি মুক্ত। ইচ্ছা করলেই চলে যেতে পারেন। আচ্ছা, আমাকে বলুন তো আপনি কেন ঝাঁপ দিলেন না?’

‘কারণ আমি সাঁতার জানি না। ’ রোগী উত্তর দিল।

 

নতুন চাকরিতে জয়েন করেছে মাহতাব। চাকরিটা বেশ ভালো, তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সহকর্মীদের সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা করে সে। এ জন্য অফিসের সবাই তাকে বেশ পছন্দ করে। একদিনের কথা। অফিস ছুটি হয়ে গেছে, সহকর্মীরা সবাই চলে গেছে। হাতের কাজগুলো সেরে মাহতাবও বেরিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ দেখল কম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর একটি পেপার শ্রেডার, মানে কাগজ কুচি কুচি করে কাটার যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর হাতে একটি কাগজ। এমডি সাহেবের চোখে পড়ার এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইল না মাহতাব। তাঁর কাছে গিয়ে বিনীত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, ‘আমি কি কোনো সাহায্য করতে পারি, স্যার?’

‘হ্যাঁ’, কিছুটা অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে বললেন এমডি সাহেব, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট। আমার সেক্রেটারি এই মাত্র চলে গেছে। আমি যন্ত্রটা ব্যবহার করতে পারি না। তুমি কি এটি ব্যবহার করতে পারো?’

‘অবশ্যই স্যার’, এমডি সাহেবকে খুশি করার সুযোগ পেয়ে গদগদ হয়ে গেল মাহতাব। পেপার শ্রেডার অন করে কাগজটাকে ভেতরে রাখল সে। তারপর টিপে দিল ‘স্টার্ট’ বোতামটা। কাগজটা ধীরে ধীরে যন্ত্রের ভেতর চলে গেল।

‘দারুণ, দারুণ!’ ডিরেক্টর সাহেব বললেন। ‘আমাকে কিন্তু দুটি কপি করে দিতে হবে, কেমন?’


মন্তব্য