তিন গল্প-330601 | ঘোড়ার ডিম | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭

তিন গল্প

ফারজানা

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তিন গল্প

চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেছে জয়নাল। বিশাল ফার্ম, অফিসটাও বেশ জমকালো। এমডির রুমের সামনে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর ডাক এলো তার। দুরু দুরু বুকে ভেতরে গেল জয়নাল। গম্ভীর চেহারায় বসে আছেন চার-পাঁচজন রাশভারী চেহারার মানুষ। একটা চেয়ারে বসল জয়নাল। মানুষগুলোর মধ্য থেকে বাঘা চেহারার একজন বললেন, ‘জয়নাল সাহেব, বেশি কথা বলে কাজ নেই। আমরা যদি আপনাকে নিয়োগ দিই তাহলে আপনি কত বেতন প্রত্যাশা করেন?’

ভদ্রলোকের কথার ভঙ্গিতেই জয়নাল বুঝল, তাকে দ্রুত বিদায় করার জন্যই এ প্রশ্ন করা হয়েছে। চাকরি তার কপালে নেই। ভাবল, চাকরি যখন হবেই না, ভাব নিতে সমস্যা কোথায়! সার্কুলারে যদিও বলা আছে, মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা, তবু বেপরোয়া ভঙ্গিতে বলল সে, ‘আমি মাসে আশি হাজার টাকা চাই। সঙ্গে পারফরম্যান্স আর অন্যান্য বোনাস তো আছেই!’

ভদ্রলোক ভ্রু কুঁচকালেন। তারপর বললেন, ‘আচ্ছা, আমরা যদি আপনাকে মাসে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, বছরে ছয়টি বোনাস, প্রতিবছর ৫০ পারসেন্ট করে বেতন বৃদ্ধি ও অফিসের খরচে বছরে দুবার বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ দিই, তাহলে আপনি কী বলবেন?

বিস্ময়ের ধাক্কায় সোজা হয়ে বসল জয়নাল। তোতলাতে তোতলাতে বলল, ‘স্যার, আপনি নিশ্চয়ই মজা করছেন?’

ভদ্রলোকের গম্ভীর চেহারায় এক চিলতে হাসি ফুটল, ‘মজাটা আপনিই আগে শুরু করেছেন জয়নাল সাহেব!’

 

এক প্রতিবেশীর কাছে নিজের কুকুরটা বিক্রি করার চেষ্টা করছিল ফজলু, ‘এটা কোনো সাধারণ কুকুর নয়’, বলল সে। ‘অন্য কুকুরের সঙ্গে এর পার্থক্য হচ্ছে, এটি কথা বলতে পারে। মাত্র এক হাজার টাকা দিলেই আপনাকে দিয়ে দেব।’

প্রতিবেশী বললেন, ‘ফজলু, তোমাকে তো ভালো মানুষ বলেই জানতাম। কিন্তু মাত্র এক হাজার টাকার জন্য আমাকে গাঁজাখুরি গল্প শোনাতে এসেছ? কুকুর কথা বলতে পারে, এটা কি কোনো দিন বিশ্বাসযোগ্য?’

ফজলু বলল, ‘বিশ্বাস করুন, যা বলছি সব সত্যি।’

এবার মুখ খুলল কুকুরটি, ‘ভাই, দয়া করে ওর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। ফজলু খুবই নির্দয়। আমাকে আধপেটা খাইয়ে রাখে, কখনো গোসল করায় না, বেড়াতে নিয়ে যায় না। অথচ এর আগে এক লোকের বাসায় ছিলাম, খুবই ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। কত জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গেছেন আমাকে! প্রতিদিন ভালো ভালো খাবার খাওয়াতেন। নানা রকম কসরৎ শিখিয়েছিলেন। সেগুলো মানুষকে দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছি। আমার কথা পেপারেও ছাপা হয়েছিল।’

প্রতিবেশী ভদ্রলোকের চোখ রীতিমতো ছানাবড়া। ‘আরে!’ ফজলুর উদ্দেশে বললেন তিনি, ‘তোমার কুকুর তো আসলেই কথা বলতে পারে। এ রকম একটা কুকুর মাত্র এক হাজার টাকায় বেচতে চাইছ কেন তুমি?’

‘কারণ’, ফজলু বলল ‘ও এতক্ষণ যা বলল সব চাপা। ওর চাপাবাজি শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত।’

 

স্থানীয় নিরামিষাশী সমিতির সভাপতির বহু দিন ধরে ইচ্ছা একটু আমিষ ভোজন করবেন। তবে যেখানেই যান সমিতির সদস্যদের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় আছে, এ জন্য বহু দিন ইচ্ছাটা মনের মধ্যে পুষে রাখতে হয়েছে। এভাবে দীর্ঘদিন কাটার পর সভাপতি সাহেবের একদিন মনে হলো, ‘আহা রে, মজার মজার সব খাবার না খেয়েই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাব? নাহ, এবার একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে!’ যেই ভাবা সেই কাজ। তিনি একদিন গভীর রাতে এক কানাগলির মধ্যে একটি খাবারের দোকানে ঢুকলেন। ঢুকেই জাঁকিয়ে বসে অর্ডার দিলেন, ‘আমার জন্য আস্ত একটা খাসির রোস্ট নিয়ে এসো তো!’ প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর রেস্টুরেন্টের বেয়ারা একটা বড় ট্রেতে করে বিশাল এক খাসির রোস্ট তাঁর জন্য নিয়ে এলো, রেস্টুরেন্টের নিয়মমতো রোস্টটির মাথার ওপর একটা আপেল বসানো। দেখেই জিবে জল এসে গেল সভাপতি সাহেবের। ছুরি-কাঁটা চামচ নিয়ে রোস্টটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছেন, এমন সময় বিপত্তি। নিরামিষাশী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে দেখা গেল গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে আসতে। মাথায় যেন বাজ পড়ল সভাপতির। কতক্ষণ হতভম্ব হয়ে বসে রইলেন তিনি, তার পরই মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সাধারণ সম্পাদকের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বললেন, ‘দেখলে অবস্থা! ওদের একটা আপেল দিতে বলেছিলাম, গাধারা আপেলের সঙ্গে কী দিয়ে দিয়েছে দেখো!’

মন্তব্য