kalerkantho

চিরঘুমে গানের পাখি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিরঘুমে গানের পাখি

শাহনাজ রহমতউল্লাহ, [১৯৫২—২০১৯]

দীর্ঘ পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে বাংলা দেশাত্মবোধক গানকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন গানের পাখিখ্যাত শিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহ। পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন নতুন দ্যোতনা। সুরেলা কণ্ঠের সেই শিল্পীকে গতকাল রবিবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় জানায় তাঁর ভক্ত, অনুরাগীসহ নানা শ্রেণির মানুষ। জোহরের নামাজের পর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয় তাঁকে।

৬৭ বছর বয়সী শিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় বারিধারায় নিজ বাসায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গতকাল দাফনের আগে বারিধারায় পার্ক রোড জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন চিত্রনায়ক উজ্জল, সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম, ফুয়াদ নাসের বাবু, গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজীসহ আত্মীয়স্বজন ও ভক্ত-অনুরাগীরা।

জানাজার আগে শিল্পীর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবুল বাশার রহমত উল্লাহ স্ত্রীর আত্মার শান্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

জনপ্রিয় এই শিল্পীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর দাফনের সময় বনানী সামরিক কবরস্থানে তথ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দিন আহম্মদ।

দাফনের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক ও বিএনপির সংস্কৃতি সম্পাদক আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জল, বিএনপির প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির প্রমুখ। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলাদা বিবৃতিতে এই শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’সহ বহু জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শাহনাজ রহমত উল্লাহ। বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গানের পাশাপাশি তাঁর গাওয়া ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘সাগরের তীর থেকে’, ‘খোলা জানালা’, ‘পারি না ভুলে যেতে’ এমন অনেক গান এখনো বাঙালির মুখে মুখে। গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজী সাংবাদিকদের বলেন, যত দিন মানুষ বাংলা গান শুনবে তত দিন তাঁর গান বেঁচে থাকবে।

আগামী শুক্রবার পার্ক রোড জামে মসজিদে শাহনাজ রহমত উল্লাহর জন্য দোয়া মাহফিল হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বামী। শিল্পীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই তাঁর বাসায় ছুটে গিয়েছিলেন গীতিকার কবির বকুল, কণ্ঠশিল্পী তপন চৌধুরী, ফুয়াদ নাসের বাবু, দিনাত জাহান মুন্নি, শফিক তুহিন প্রমুখ। গতকাল সকালে তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে যান শিল্পী কনকচাঁপা, সামিনা চৌধুরী প্রমুখ।

শাহনাজ রহমত উল্লাহর জন্ম ১৯৫২ সালের ২ জানুয়ারি, ঢাকায়। তাঁর ভাই প্রয়াত আনোয়ার পারভেজ ছিলেন প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক। আরেক ভাই জাফর ইকবাল ছিলেন জনপ্রিয় নায়ক। শাহনাজ রহমত উল্লাহর গান গাওয়া শুরু স্কুলজীবন থেকেই। মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন তিনি। এরপর বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। টেলিভিশনে গাইতে শুরু করেন ১৯৬৪ সাল থেকে। সত্তরের দশকে অনেক উর্দু গীত ও গজল গেয়েছেন শাহনাজ।

২০০৫ সালে বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমত উল্লাহর গাওয়া চারটি গান স্থান পায়। সংগীতে অবদানের জন্য একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

মন্তব্য