kalerkantho

রিমান্ডেও বেপরোয়া চালক সিরাজুল

সুপ্রভাতের মালিক হেলপার অধরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রিমান্ডেও বেপরোয়া চালক সিরাজুল

‘পালানোর সুযোগ পাইনি বলে ধরা খাইছি। তয় অসুবিধা নাই। দুর্ঘটনায় ধরা পড়লেও একদিন জামিন হয়। আবার গাড়ি চালানোর সুযোগ পাওয়া যায়।’ গুলশান থানা-পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডের প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রভাত পরিবহনের চালক সিরাজুল ইসলাম। গুলশান থানা-পুলিশের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে চালক সিরাজুলের তেমন কোনো অনুশোচনা বা উদ্বেগ নেই।

এদিকে বাসের চাপায় আবরারকে হত্যার মামলাটি গত বৃহস্পতিবার গুলশান থানা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়ছে বলে জানিয়েছেন ডিবির উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান। ডিবি সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের নির্দেশে মামলাটি হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, থানা থেকে মামলার ডকেট (নথিপত্র) হাতে পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সুপ্রভাত পরিবহনের চালক সিরাজুল ইসলামকে।

সুপ্রভাত স্পেশাল পরিবহনের গাড়িটির মালিক গোপাল চন্দ্র সরকার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানতে পেরেছে, মালিক পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজারের বাসিন্দা। তাঁর মালিকানায় আরো কয়েকটি বাস রাজধানীতে চলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, মালিককে ধরতে এরই মধ্যে পুরান ঢাকায় কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হেলপার ইব্রাহিমও পলাতক বলে জানায় পুলিশ।

বুধবার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হলে গুলশান থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সিরাজুল ঘটনার দায় স্বীকার করেন। সিরাজুল অনেকটা বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে নিজের মতো করে ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আমিনুল ইসলাম।

সূত্র মতে, জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজুল পুলিশকে বলেছেন, তাঁর গাড়ির নিচে প্রথমে পড়ার কথা ছিল একটি মেয়ের। ভাগ্য সহায় হওয়ায় মেয়েটি বেঁচে যায়। সিরাজুলের ভাষ্য, ‘তাকে থাক্কা দেওয়ার পর আমি ভয় পেয়ে যাই। ওই সময় রাস্তা থেকে চিৎকার শুনে দ্রুত গাড়ি টেনে পালাতে গিয়ে সামনে একজন (আবরার) চাপা পড়ে। তবে যখন দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তখন আর কিছু করার থাকে না। এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। এরপর গাড়ি রেখে পালানোর চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু সুযোগ পাই নাই। সবাই যা-ই বলুক না কেন, গাড়ি চালানোর সময় সবদিকে খেয়াল রাখা যায় না’। সূত্র মতে, সিরাজুল আরো বলেছেন, ‘কখনো কখনো নিজের মধ্যে একটা বেপরোয়া ভাব কাজ করে। সেটা রাতে। যখন মাদক (গাঁজা) সেবন করে গাড়ি চালাই তখন আর কোনো কিছুই তোয়াক্কা করতে ইচ্ছা করে না।’ তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ জানায়,  হালকা যান চালানোর লাইসেন্স নিয়ে বাস তথা ভারী যান চালানোর কথাও স্বীকার করেন সিরাজুল। মালিকের অনেক প্রেশার নিয়ে গাড়ি চালাতে হয় উল্লেখ করে সিরাজুল যুক্তি দেখান, বিভিন্ন কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কে ছোট-বড় অনেক গাড়ি থাকে। তার ওপর মানুষ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। একটু ভুল করলেই বা মনোযোগ হারালেই দুর্ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্রগতি সরণিতে জেব্রাক্রসিংয়ে ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীকে চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় আবরারের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী মামলাটি করেন। এজাহারে দণ্ডবিধির ২৭৯/৩৩৮-ক/৩০৪/১০৯ ধারায় বেপরোয়া, তাচ্ছিল্যপূর্ণ ও দ্রুতগতিতে বাস চালিয়ে পথচারীকে গুরুতর জখমসহ মৃত্যু ঘটানো ও সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়।

মন্তব্য