kalerkantho

শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি

সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠনসহ ১১১টি খসড়া সুপারিশ

পার্থ সারথি দাস   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠনসহ ১১১টি খসড়া সুপারিশ

প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব রেখে সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য ১১১টি খসড়া সুপারিশ তৈরি করেছে এসংক্রান্ত ১৫ সদস্যের কমিটি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ কমিটির প্রধান সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং ২০১১ সালে তখনকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সুপারিশমালা আমলে নিয়ে চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব খসড়া সুপারিশ তৈরি করেছে কমিটি। এসব সুপারিশ আগামী ৪ এপ্রিল জমা দেওয়া হবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে। চূড়ান্ত হলে এসব সুপারিশ চার মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে বলে কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

কমিটির প্রধান সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ১১১টি সুপারিশ তৈরি করেছি। এগুলো আমরা তৈরি করেছি একাধিক বৈঠকে বসে। আগামী ৪ এপ্রিল আমরা তা তুলে ধরব সরকারের কাছে।’

জানা গেছে, সুপারিশগুলো চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করা হলে এখন থেকে আগামী ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল ও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এবং চলমান প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্য ঠিক করেছে কমিটি। কমিটি এসব সুপারিশ নিজেরা বারবার পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করবে। 

কমিটির সুপারিশমালার মধ্যে আছে, ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামকে (সিএসডি) দ্রুত সময়ে ঢাকার বাইরে স্থানান্তর, সরকারি খরচে বিআরটিএকে গাড়ি চালনার প্রশিক্ষক তৈরির কার্যক্রম গ্রহণ, ২০২০ সালের মধ্যে এক হাজার প্রশিক্ষক তৈরি, পেশাদার চালকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, যুব উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ড্রাইভিং ট্রেড চালু, মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা, সব ড্রাইভিং স্কুলকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের নবায়ন প্রশিক্ষণ, সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর প্রশিক্ষণ, অবৈধ চালকদের শনাক্ত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হালকা শ্রেণির লাইসেন্স প্রদান, নারী চালকদের এ পেশায় আলাদা সুযোগ দেওয়া, শিক্ষিত বেকারদেরও এ পেশায় উৎসাহিত করা।

সুপারিশমালার মধ্যে আরো রয়েছে ফুটপাত দখলমুক্ত করে রেলিং তৈরি, ফুটপাতহীন স্থানে ফুটপাত নির্মাণ ও রাস্তা থেকে ফুটপাত আট ইঞ্চি উঁচু রাখা, স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে উঁচু করে জেব্রাক্রসিং নির্মাণ, সড়ক বিভাজকে পথচারী প্রতিবন্ধক, রাস্তায় ম্যানহোল ও ডাস্টবিন না রাখা, যেসব স্থানে সাইকেল বেশি সেসব রাস্তায় সাইকেল লেন করা। দেশের সব সড়কে প্রয়োজনীয় সাইন, মার্কিং ও সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা, কোনো গতিরোধক স্থাপন না করা, মহাসড়কের দুই পাশে ২০ মিটার জায়গায় কোনো স্থাপনা না রাখা, হাট-বাজার অপসারণের লক্ষ্যে ইজারা বাতিল করা, দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকে প্রতি পাঁচ ঘণ্টা পর বিশ্রাম এবং আট ঘণ্টা পর একজন বিকল্প চালকের ব্যবস্থা করা।

আরো সুপারিশ করা হয়েছে, মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ জায়গায় গতিবেগ নির্ধারণ এবং ১০০ মিটারের মধ্যে গাছপালা কেটে দিতে হবে। নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সময় সার্ভিস রোডের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কের লেনসংখ্যা বাড়াতে হবে। নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর ট্রমা সেন্টার ও ফায়ার স্টেশন স্থাপন করতে হবে। শহরের ভেতর আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ না করে বাইরে করতে হবে। সিটি বাসের জন্য টার্মিনাল নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ মতামত নিতে হবে। টার্মিনালে বহুতল পার্কিংসহ চালকদের বিশ্রামাগার রাখতে হবে। ঢাকার চারদিকে নদীর নাব্যসংকট দূর করে তীর বরাবর রিং রোড নির্মাণ করতে হবে। সড়ক উন্নয়নে ৫ শতাংশ অর্থ সড়ক নিরাপত্তার জন্য রাখতে হবে

গণপরিবহনে পরস্পর প্রতিযোগিতা রোধে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করারও সুপারিশ করা হয়েছে। গণপরিবহনের নির্ধারিত জায়গায় চালক ও হেলপারের ছবি, লাইসেন্স নম্বর ও ফোন নম্বর দেখাতে হবে। শিক্ষানবিশ বা হালকা গাড়ির লাইসেন্স দিয়ে ভারী বা মাঝারি গাড়ি চালনা বন্ধ, পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারিত, মার্কেট বা বহুতল ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

সড়কে সিসিটিভি বা স্পিড রাডার গান বা গাড়ির গতি ও ছবি সংরক্ষণ উপযোগী ডিভাইস স্থাপন করতে হবে। গাড়িতে মোবাইল ট্র্যাকার লাগানো যেতে পারে। বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের আগে ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে।

রিকশাকে এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে ফেলারও সুপারিশ করা হয়েছে। ঢাকায় রাইড শেয়ারিং কম্পানিতে কত গাড়ি চলতে পারবে তার সীমা নির্ধারণ ও চালকদের নির্ধারিত পোশাক থাকার কথাও বলা হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে সুপারিশমালায়।

সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘আমি কয়েকটি সভায় ছিলাম।’

 

মন্তব্য