kalerkantho

রাস্তায় থেকেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায় শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রাস্তায় থেকেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায় শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফটকের উল্টো দিকে জেব্রা ক্রসিংয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কমছেই না। আগের দিন দাবি পূরণের আশ্বাসে সাত দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করলেও গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে মানববন্ধন করেছে বিইউপির শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

এ শিক্ষার্থীরা বলেছে, অতীতে আশ্বাসের নামে প্রহসন হয়েছে। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে রাস্তায় থাকবে তারা। ২৮ মার্চ পর্যন্ত (শুক্র ও শনিবার বাদে) প্রতিদিন প্রগতি সরণিতে আসার ঘোষণাও দেয় তারা।

এদিকে গতকালও রাজধানীর আরো কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। তবে তারা সড়ক অবরোধ না করে পাশে দাঁড়িয়ে নিরাপদ সড়কের দাবি জানায়। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীরা কিছু যানবাহনের চালকের লাইসেন্সও পরীক্ষা করে।

গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস বর্জন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করে বিইউপি শিক্ষার্থীরা। তারা প্রশাসনকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে পরে বড় আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। ওই দিন সন্ধ্যায় প্রগতি সরণিতে ওই ঘোষণা দেওয়ার সময় বিইউপির শিক্ষার্থীদের একটি অংশ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের কিছু শিক্ষার্থী সিদ্ধান্ত মানে না বলে জানায়। তারা অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে গতকাল সেই চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেউ রাস্তায় নামেনি। সকাল থেকেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফটক, যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে এবং নর্দা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করে। ঘটনাস্থলের কাছে আবরারের নামে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিইউপির শতাধিক শিক্ষার্থী হাতে হাত ধরে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে যায়। পুলিশ তাদের সরাতে চাইলে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের কথা বলে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়টির আরো কিছু শিক্ষার্থী সেখানে আসে। তাদের সঙ্গে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের কয়েকজন শিক্ষার্থীও যোগ দেয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। মাথায় কালো কাপড় বাঁধা ছিল।

শিক্ষার্থীরা বলে, বুধবারের বৈঠকে তাদের সব দাবি নিয়ে আলোচনা হয়নি এবং আশ্বাস মেলেনি। তাই আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তায় থাকবে।

বিইউপির বিবিএর ছাত্র নাজমুল করিম বলেন, ‘আমরা সময় দিতে চাই না। বাস্তবায়ন চাই। আট দফা বাস্তবায়ন না হলে আমরা রাস্তা ছাড়ব না। আমাদের কোনো কেন্দ্রীয় কমিটি নেই। যারা বৈঠক করে গতকাল (বুধবার) ঘোষণা দিয়েছে তারা সব দাবি নিয়ে কথা বলেনি।’

বিইউপির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কনসালট্যান্ট এ জেড বেলাল উদ্দিন মানববন্ধনে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোশতাক আহমেদসহ কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের ফুল দিয়ে ধন্যবাদ জানায়। এ সময় তারা গণমাধ্যমকর্মীদেরও ফুল দেয়। শিক্ষার্থী ও জনগণের যৌক্তির দাবির পক্ষে কাজ করায় তারা এভাবে পুলিশ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানায়।

বিকেল ৩টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা চলে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইন বিভাগের ছাত্র তাজিম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের ফলটা দেখতে এসেছি। আমরা সহাবস্থান চাই। সাত দিন সময়ের রোজ আমরা রাস্তায় থাকব।’ ঘোষণার পর আবার কর্মসূচি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অতীতে দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। সুপ্রভাত বন্ধ করার কথা; তার পরও চলেছে। নাম পাল্টে সম্রাট নামে চলবে। আমরা দেখব সরকার দাবি পূরণ করছে কি না। ফুট ওভারব্রিজ হচ্ছে কি না। অনিয়ম দেখলে আমরা ব্যারিকেড দেব। রোজই মানববন্ধন করব।’

দুপুর ১২টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কিছু শিক্ষার্থী রামপুরায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দেয়। তারা কিছু যানবাহন থামিয়ে চালকের লাইসেন্স যাচাই করে। সাড়ে ১২টার দিকে মালিবাগ লেভেল ক্রসিংয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে দেখেছেন কালের কণ্ঠ প্রতিবেদক।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের কয়েক শ শিক্ষার্থী। পুলিশের বাধার মুখে তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেয়। একপর্যায় তারা কিছু যানবাহনের লাইসেন্স যাচাই করে। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

প্রায় একই সময় উত্তরার আশুলিয়া বেড়িবাঁধ সড়কে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিআইএফটি) শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে। তারা কিছু সময় রাস্তায় থেকে স্লোগান দেয়। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

তুরাগ থানার ওসি নূরুল মোত্তাকিন বলেন, মোহনা ও আলিফ নামে দুটি বাস সার্ভিসে ওঠা নিয়ে এখানকার শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ ছিল। এ বিষয়ে সমঝোতা করে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠতে যাওয়ার সময় জেব্রা ক্রসিংয়ে বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরারকে চাপা দেয় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গত বছরের আগস্ট মাসের মতোই ‘নিরাপদ সড়কের’ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

 

 

মন্তব্য