kalerkantho

মিরপুর-যাত্রাবাড়ী

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদর্শন করা হয় না

পার্থ সারথি দাস   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদর্শন করা হয় না

রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে ভিড় করে অপেক্ষায় বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী। কিন্তু বিআরটিসির বাস কম। বেসরকারি বিভিন্ন কম্পানির বাস একের পর এক ছুটছে দরজা বন্ধ রেখে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় যাওয়ার বাস মিলছিল না। হেঁটে চলার জন্য ফুটপাতও নেই। মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ চলায় রাস্তাও আগের মতো প্রশস্ত নেই। কিন্তু কর্মস্থলে তো যেতে হবে। তাই অনেকেই ভাঙাচোরা রাস্তার পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে এগোতে থাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকের চিত্র এটি।

হেঁটে মিরপুর-১০ নম্বরে গোল চত্বরের আগে কয়েকটি বাসের দেখা মিলল। দরজা খোলা পেয়ে একে অন্যকে ঠেলে হুড়মুড় করে ঢোকার চেষ্টা করছিল সবাই। ১২-১৪ জনের সঙ্গে চিঁড়াচ্যাপটা হয়ে একটি বাসে উঠতে পারলেও আসন মিলল না। ৪৫ আসনবিশিষ্ট বাসটি ‘খাজাবাবা’ কম্পানির। নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯৯৩৫। বাইরে থেকে একপলক তাকিয়েই বোঝা গিয়েছিল যে বাসটি অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে রেষারেষি করে চলে। কারণ বডির স্থানে স্থানে রং উঠে গেছে। কোনো কোনো অংশ দেবেও গেছে।

বাসটির চালকের মো. সাইদুল ইসলাম। চলন্ত বাসের কোথাও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছায়ালিপি চোখে পড়ল না। অথচ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত বছরের ১৭ আগস্ট প্রতিটি বাসে চালকের লাইসেন্সের ছায়ালিপি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সাইদুল বললেন, ‘বাসে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছায়ালিপি আগে রেখেছিলাম। কোনো কাজে লাগে না, তাই সরিয়ে নিয়েছি।’

বাস চালাতে চালাতে থেমে পড়ছিলেন সাইদুল। ওয়েবিলে চলা বাসটি থামানো হচ্ছে চেক পয়েন্টেও। মিরপুর-১০ থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত নির্ধারিত স্টপেজ চারটি। অথচ বাস থামানো হলো ৯টি স্থানে। বিরক্ত হয়ে যাত্রীরা একেকজন মন্তব্য করছিল, ‘অ্যাই, ঠেলাগাড়ি চলছে নাকি!’

তালতলায় চেকার উঠে মোট যাত্রী গুনে দেখলেন, সংখ্যাটা ৬০ ছাড়িয়েছে। তার পরও ‘ঠেলাগাড়ি’তে ভিড় ঠেলে উঠছিল যাত্রীরা। আবার ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল বাড়তি হারে। চালকের সামনে টাঙানো ভাড়ার তালিকা শুধুই নামমাত্র। শেওড়াপাড়া থেকে ফার্মগেটে এসে যাত্রী নজর আলী ভাড়া দিলেন ১৫ টাকা। আবার ফার্মগেট থেকে উঠে শাহবাগে নেমেও একই ভাড়া দিলেন আরেক যাত্রী। ‘ন্যূনতম ভাড়া তো সাত টাকা। বেশি নিচ্ছেন কেন?’—এক যাত্রীর এ প্রশ্নের জবাবে চালকের তাত্ক্ষণিক উত্তর, ‘অন্যরাও নেয়।’

তখন সকাল প্রায় সাড়ে ৮টা। শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের আগে নেমে গেলে ৯ জন যাত্রী। উল্টো এখান থেকে তোলা হলো ১৫ জন। যাত্রীর ভিড়ে দম নেওয়াও কষ্টকর। ‘শুরু থেকেই দেখছি আসনের বেশি যাত্রী তুলছেন। এখন তো দমই ফেলা যাচ্ছে না’—এমন কথার জবাবে চালকের সহকারী জুলহাজ বললেন, ‘বেশি যাত্রী না তুললে বেতন হবে না। দিনে খরচ সাড়ে ৯ হাজার। ছয়বার চলাচল করতে হবে। চেকার বসানো হয়েছে বিভিন্ন পয়েন্টে।’

শাহবাগ থেকে রওনা হয়ে গুলিস্তান পার হতেই সোয়া ৯টা। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পর্যন্ত যেতে বাজল সোয়া ১০টা। গাড়ির কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে চালক ও সহকারী বললেন, ‘সার্জেন্টদের বারবার দেখিয়েছি। কাগজ না থাকলে মামলা হয়। তবে অসুবিধা হয় না।’ জানা গেল, সাইদুলের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে। তবে প্রশিক্ষণ নেই।

‘খাজাবাবা’ কম্পানির বাসে এই রুটে নিয়মিত চলাচল করেন সজীব মাহমুদ। মিরপুর মডেল থানার ওসির প্রাইভেট কারের চালক তিনি। তিনি বললেন, ‘সাধারণ সময়ে দেড় ঘণ্টায় গন্তব্যে যাওয়া যায়। এখন সময় বেশি লাগে। অন্যান্য বাসে ভাড়া ২৫ টাকা নেয়। অথচ এই বাসে নেয় ৩০ টাকা।’

 

মন্তব্য