kalerkantho

আজিমপুর-গাবতলী

হাত তুললেই যত্রতত্র বাস স্টপেজ!

জহিরুল ইসলাম   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাত তুললেই যত্রতত্র বাস স্টপেজ!

যেখানেই উঠছে যাত্রীর হাত সেখানেই থামছে বাস। সেখানেই ‘বাস স্টপেজ’। বাস থামছে না নির্ধারিত স্টপেজে। থামে স্টপেজের আগে, নয়তো পরে। আর যেখানে-সেখানে থামার ফলে নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের সময়। রাজধানীর আজিমপুর-নিউ মার্কেট-গাবতলী সড়কে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এসব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা গেছে।

আজিমপুর থেকে গাবতলীর দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। এ পথটুকু অতিক্রমে চালক ইচ্ছা-খুশি মতো সময় নিয়েছে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট। হিসাবে ঘণ্টায় গাড়ির গতি ছিল ৯ কিলোমিটারের একটু বেশি। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে আজিমপুর এতিমখানা মোড় থেকে গাবতলী যাওয়ার উদ্দেশে ধামরাইগামী গুলিস্তান-ধামরাই (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-১৭৬৪) বাসে উঠে দেখা গেল, যাত্রী আছে ৫৫ জন। অথচ আসন ৫০টি। পুলিশ অভিযানের কারণে সড়কে যানজট ছিল না। অনেকের কাগজপত্র নেই। ফলে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামেনি। আজিমপুর এতিমখানা থেকে আজিমপুর মোড় পর্যন্ত কোনো স্টপেজ নেই। যাত্রীরা বারবার হাত তোলায় এটুকু দূরত্বে চালক পাঁচ বার বাস থামিয়েছে। কিছু জায়গায় যাত্রীরা হাত না তুললেও থেমে যায় বাস। কয়জনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেই চালক থামাচ্ছিল বাস। আবার ট্রাফিক সার্জেন্ট নজরে পড়লে বাস ছুটছিল। এর বাইরে স্টপেজ না থাকলেও যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো করছিল চালক।

নীলক্ষেত মোড়ে যাত্রীর পাশাপাশি বাসটিতে ওঠানো হয় মালামাল। নিউ মার্কেট থেকে গাবতলী পর্যন্ত সিট খালি থাকতে পারে ভেবে অতিরিক্ত যাত্রী তুলছিল চালকের সহকারী মো. শাহীন। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পরে নামানোর দোহাই দিয়ে যেখানে-সেখানে থামানো হচ্ছিল বাস। অভিযোগ রয়েছে, চালক ইচ্ছা করে ধীরগতিতে গিয়ে সিগন্যালে পড়ে যাত্রী ওঠানোর জন্য। আব্দুর রহমান নামে আসাদগেটের এক যাত্রী বলেন, চালকরা সিগন্যালে পড়বে পড়বে দেখলেই ধীরে গিয়ে থামছে। যাতে যাত্রীরা কিছু বলতে না পারে। সিটি কলেজ, ধানমণ্ডি-৩, ৪, ৫, ৬, কলাবাগান হয়ে আসাদগেট পর্যন্ত একটিও নির্দিষ্ট বাস স্টপেজে থামেনি বাস। থেমেছে হয় আগে, নয়তো পরে।

পুরো রাস্তায় যেখানেই যাত্রীরা হাত তুলেছে থেমেছে বাস। বারবার এভাবে থামায় বিরক্ত হয় বেশির ভাগ যাত্রী। শ্যামলীতে একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করেন সাবরিনা রাহা। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠলাম। কিন্তু ঠিক সময়ে আর অফিসে যাওয়া হলো না। এভাবে যেখানে-সেখানে বাস না থামলে ঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারতাম।’

এদিকে চালক বলছে, না থামলে যাত্রীরা ঝামেলা করে। কিন্তু সব যায়গায় কেন থামছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই গাড়ির চালক সবুজ বলেন, ‘আমরা উঠাইলেও দোষ, আবার না উঠাইলেও দোষ। কোনটা করমু কন?’

এ ছাড়া একই পথে চলা অন্য গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার প্রতিযোগিতাও চোখে পড়েছে। আসাদ এভিনিউ ২/১ এ সড়কে একজন যাত্রী ‘গুলিস্তান ধামরাই’ বাসে দৌড়ে উঠতে গেলে পাল্লা দিয়ে চলা একই পথের ‘ঠিকানা পরিবহনের’ একটি গাড়ির চাপাপড়া থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান। এ ছাড়া পুরো রাস্তায় চিড়িয়াখানাগামী তানজিল পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব ১৩-০৩৯০) এবং মিরপুরগামী বিহঙ্গ পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-জ ১১-১৫৭৫) মধ্যে প্রতিযোগিতা চলতে দেখা গেছে।

 

মন্তব্য