kalerkantho

বাংলাদেশের প্রতিবাদ

মানবাধিকার প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রেই প্রযোজ্য

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানবাধিকার প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রেই প্রযোজ্য

যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ওই দেশটির কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, গত সপ্তাহে প্রকাশিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্যগুলো বাংলাদেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বেশি  প্রযোজ্য। যুক্তরাষ্ট্রকে মহলবিশেষের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি না করে বড় পরিসরে অনুসন্ধান করে তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আরো অনুসন্ধান করে তথ্যবহুল প্রতিবেদন হলে আমাদের জন্য উপকার হয়। এতে আমরা আমাদের দুর্বলতাগুলো কাটাতে পারি।’

অতীতে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিজ্ঞতার আলোকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্যগুলোর জবাব দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিরাট প্রতিবেদন হয়েছে। অনেক সময় পত্রিকার মারফত বা কোনো কোনো বিশেষ মহলে যা যা তথ্য সেগুলো ওরা তুলে ধরেছে। ওদের নিজস্ব অনুসন্ধান কতটা হয়েছে সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।’ তিনি বলেন, ‘তারা অনেক বিষয় দিয়েছে, যে অধিকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই বেশি বিঘ্নিত হয়। যেমন এলজিবিটি, গে, লেসবিয়ানদের ওপর সহিংসতা—আমাদের দেশে এগুলো মোটামুটিভাবে অনুপস্থিত। কিন্তু সেগুলো যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারে তুলে ধরেছে।’

বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো শুনেছি গুয়ানতানামো বের কাহিনি, কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা তো জানি, ইরাকের কারাগারগুলোতে কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন। আমার বলার দরকার নেই।’

নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা নিহত হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন কিছু নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অনেক লোক মারা যায়। সব তথ্য বাজারে বের হয় না। কিন্তু প্রতিনিয়তই ঘটনা ঘটে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অধ্যাপক জাফর ইকবালকে একটি দুষ্ট লোক মারতে এসেছিল। পরে তাকে আটকানো হয়েছে। সরকার সজাগ থাকায় ও গার্ড রাখার কারণে তাকে ধরা হয়েছে। এটাকে কোনোভাবে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দেওয়া যায় কি না, আমি জানি না।’

ড. মোমেন অতীতে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর অধ্যাপনা করার তথ্য তুলে ধরে বলেন, কয়েক দিন আগে ওয়াশিংটনে তাঁর এক সহকর্মী শিক্ষক কম নম্বর দেওয়ায় একটি ছাত্র মারতে এসেছিল। রক্ষা যে তাকে মারার আগেই বিষয়টি টের পাওয়া গেছে। সেখানে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের ঝামেলায় পড়েন।

এ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘চেক পয়েন্ট’ বসানোর ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যেতে তল্লাশির শিকার হতে হয়। তিনি বলেন, ‘অ্যারিজোনা থেকে যদি আপনি ক্যালিফোর্নিয়ায় আসতে চান, আপনাকে শুধু চেক পয়েন্টে আটকাবেই না, আপনি যদি এমনকি একটি গাছও নিয়ে যান, সেগুলো রেখে দেবে, ফেলে দেবে। এক স্টেট থেকে আরেক স্টেটে গাছও নিতে পারবেন না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সব দেশেই ধরা হয়। আমাদের দেশেও সরকার সন্ত্রাসের ব্যাপারে বেশ সচেতন। হলি আর্টিজানের পর এখানে আর সন্ত্রাস হয়নি।’

নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে সব সময় একেকটা দ্বন্দ্ব থাকে। বুশ সাহেব যখন জিতলেন তখন বহু লোককে ভোট দিতেই দেওয়া হয়নি। এমনকি গত নির্বাচনেও মিশিগান, পেনসিলভেনিয়াতে বুথের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছিল। সেখানে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে ভোট দিতে চায় না।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান, এমন নয় যে তাঁরা সব সময় নির্বাচিত হন। সেখানে একটি আইনের মাধ্যমে চলে। তা না হলে অনেকেই প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, যাঁরা পপুলার ভোট কয়েক মিলিয়ন কম পেয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বড় বড় নির্বাচনে ২৬ শতাংশ ভোট দিলে মানুষ খুব খুশি। তারা বলে, অনেক ভোট হয়েছে। আমাদের দেশে ৮০ শতাংশ লোক ভোট দেয়। আমরা অন্যদের চেয়ে বেশি গণতন্ত্র চর্চা করি।’

এ ধরনের আরো অনেক উদাহরণ দেওয়া যায় উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভোট দেওয়ার আগ্রহ সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতিই হলো এমন, যেখানে তরুণরা ভোট দিতে যেতে চায় না। অন্য অনেক উন্নত দেশেও এমন সংস্কৃতি। তিনি বলেন, ‘এ কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ভোট না দিলে ৫০ ডলার জরিমানা হয়। উন্নত দেশগুলোতে ইন্টারনেট, অ্যাপসের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও লোকজন ভোট দেয় না। আমরা খুব সৌভাগ্যবান যে এখানে প্রত্যেক লোক গণতন্ত্রের, ভোটের প্রতি আগ্রহী।’

 

মন্তব্য