kalerkantho

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন দেশ পেতাম না

গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন দেশ পেতাম না

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর মোনাজাত করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে নেতার জন্ম না হলে আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সুযোগ পেতাম না; যে নেতার জন্ম না হলে আমরা একটি দেশ পেতাম না; আগামী বছর আমরা সেই নেতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করব।’

বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এসব কথা বলেন। শিশুদের বিষয়ে তিনি বলেন, আজকের শিশু যাতে আগামী দিনে একটি সুন্দর জীবন পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বেজে ওঠে বিউগলের করুণ সুর। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। 

সমাবেশে শিশুরা যেন শিক্ষা, খেলাধুলা, শরীরচর্চা, সাংস্কৃতিক চর্চা—সব দিকে পারদর্শী হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবেশ সৃষ্টি করছি যেন আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখতে পারে, মানুষের মতো মানুষ হতে পারে, উচ্চশিক্ষা নিতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘শিশুদের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয়, পাশাপাশি শিশু শিক্ষা, খেলাধুলা, শরীরচর্চা, সাংস্কৃতিক চর্চা—সব দিকে যেন তাদের পারদর্শিতা গড়ে ওঠে, সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছি।’

শিশুদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা আর নেতৃত্বে তাঁর দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (দেশ স্বাধীন হওয়ার পর) মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এরই মধ্যে তিনি শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা পুরোপুরি অবৈতনিক করে দিয়ে যান। শিশুদের যে অধিকার সেটা যাতে নিশ্চিত হয় তার জন্য ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা এই বাংলাদেশে শিশু আইন প্রণয়ন করেন, তখনো জাতিসংঘ শিশু আইন করেনি। কত দূরদর্শিতা ছিল তাঁর নেতৃত্বে, আমরা তার আলোকেই জাতীয় শিশুনীতি প্রণয়ন করি ২০১১ সালে।’

শিশুদের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা থেকেই ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দাদির কাছে গল্প শুনেছি, বঙ্গবন্ধু নিজের বই গরিব ছাত্রদের বিলিয়ে দিতেন। নিজের ছাতাও বিলিয়ে দিতেন। অনেক সহপাঠী বিভিন্ন বাসায় লজিং থেকে পড়াশোনা করতেন, তাঁদেরকে বাড়িতে ডেকে এনে তিনি নিজের খাবার ভাগ করে খেতেন। আমার দাদা-দাদি সব সময় আমার বাবাকে বকাঝকা না করে উৎসাহ দিতেন। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন যে রাজনীতি করেছেন তাঁর বাবা-মা সেই সমর্থনটা দিয়ে গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘সেই সাথে আমার মা-ও আমার বাবার রাজনীতির পাশে সব সময় ছিলেন। যে কারণে তিনি এত বড় আত্মত্যাগ করতে পেরেছিলেন, এত বিরাট হৃদয়ের অধিকারী তিনি হয়েছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার পর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সে ভাষণ প্রচার করেছিল। তাদের নির্মম নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু যেভাবে দেখতে চেয়েছিলেন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

গোপালগঞ্জ জেলা শহরের মালেকা একাডেমির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলি আজম বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেয় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেন। জেলা প্রশাসক মোখলেসুর রহমান সরকার গোপালগঞ্জ জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের লোগোর একটি রেপ্লিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। বঙ্গবন্ধুকে লেখা শ্রেষ্ঠ চিঠি পাঠ করে শোনায় যশোরের কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে দুস্থদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে প্রধানমন্ত্রী ‘আমার কথা শোন’ শীর্ষক ভিডিও প্রদর্শন ও জাতীয় কাব্যনৃত্যগীতি আলেখ্যানুষ্ঠান উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গল্প বলা প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি প্রযোগিতা ও ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এরপর শিশুদের সঙ্গে ফটোসেশন ও বইমেলা উদ্বোধন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের আঁকা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠান শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় হেলিকপ্টারযোগে শেখ হাসিনা ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। আর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সকাল ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

এর আগে সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টারা, সংসদ সদস্যরা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য