kalerkantho


প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী

খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি হবে

খেলাপি ঋণ আদায়ে শিগগিরই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ, কারা কারা খেলাপি তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা ঋণখেলাপি তাদের সম্পদ বিক্রি করে খেলাপি ঋণ আদায় করা হবে। সে জন্য অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠন করা হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনাসভা শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

অর্থ, বাণিজ্য, কৃষি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের নিয়ে এ প্রাক-বাজেট আলোচনাসভা হয়।

সভায় সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বলেছেন, যুক্তরাজ্যে করপোরেট করহার ২০ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডে ১৫ শতাংশ, অথচ বাংলাদেশে করপোরেট করহার ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ। ক্ষেত্রবিশেষে এই হার আরো বেশি। করপোরেট করহার বেশি হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেকে কর দিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। তাই করের হার কমিয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ এসেছে সভায়।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আসছে ১ জুলাই থেকেই ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। তবে নতুন ভ্যাট আইনে ভ্যাটের হার এক স্তর বা ১৫ শতাংশ হারে থাকবে না। ভ্যাটের হার হবে বহু স্তর। সেটি ৫ শতাংশ, ৭ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আসছে বাজেটে (২০১৯-২০ অর্থবছর) যতটা সম্ভব করপোরেট করহার কমানো হবে। করপোরেট করহার বেশি হওয়ার কারণে অনেকে কর দিতে নিরুৎসাহিত হন। সে জন্য আমরা করপোরেট করের হার কমিয়ে আনব। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা হচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করবে। আগামী তিন বছরে এটা করা হবে। সে জন্য যাচাই-বাছাই চলছে। যেগুলো যোগ্য বলে বিবেচ্য হবে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা এমনও হতে পারে যে ১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আগামী অর্থবছরে ৩৩ শতাংশ করে এমপিও দিলাম। আবার এমনও হতে পারে যে প্রথম বছরে ১০০-এর মধ্যে ৩৩টিকে এমপিও দিলাম, পরবর্তী দুই বছরে অন্যগুলোকে দিলাম। এ দুটির যেকোনো একটি হতে পারে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সকল জনগোষ্ঠীর জন্য গ্রুপ বীমা এবং কৃষকের জন্য শস্যবীমার কথা ভাবা হচ্ছে। আগামী বাজেটেই কৃষকদের বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’ এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণ করা হবে। নতুন নতুন রপ্তানি বাজার খোঁজা হবে। কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। এ জন্য প্রতিটি পরিবারের একজনকে চাকরি কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, দেশের মোট রপ্তানির ৮৫ শতাংশই পোশাক খাতনির্ভর। রপ্তানিতে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ জরুরি। সেটা প্রণোদনা দিয়ে হলেও করা যেতে পারে।

কৃষি মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী রাজধানীর যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যানজট নিরসনে অনেক টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু এর সুফল মিলছে না। এই খাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আ স ম ফিরোজ বলেছেন, গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত খেলাধুলার সুযোগ কমে গেছে। মাঠ সংকুচিত হয়ে আসছে। খেলাধুলার জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্দিষ্ট হারে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি করেন তিনি।



মন্তব্য