kalerkantho

এনবিআর চেয়ারম্যান

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা হবে যেকোনো মূল্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা হবে যেকোনো মূল্যে

বন্ড সুবিধায় নিয়ে আসা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির ঘটনায় অর্থনীতিতে চরম ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। গতকাল বুধবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত প্রথম ত্রৈমাসিক ভোজসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আরো বলেন, এই অবস্থা থেকে বের হওয়া না গেলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এনবিআর এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নেবে।

সংগঠনের সভাপতি নিহাদ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসি) সভাপতি শেহজাদ মুনিম, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম) চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবের আলী প্রমুখ।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বন্ডের সুবিধা নিয়ে গার্মেন্টস, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, পেপারস, কেমিক্যাল বাইরে থেকে এনে প্রতিষ্ঠানগুলো খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। এর ফলে দেশি কারখানাগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমনকি দেশে এসব পণ্যের জন্য বড় বড় কত বাজারও তৈরি হয়েছে। এসব বাজারে পাওয়া যায় বন্ডেড সুবিধা নিয়ে আসা পণ্য। তিনি বলেন,  ‘এগুলো বন্ধ করা না গেলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি এগুলো নির্মূলে কোনো রকম ছাড় দেব না। তাদের জন্য আমার শূন্য সহনশীলতা।’

এমসিসিআই সভাপতি বছর বছর কর না বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর নীতিমালা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর ব্যবস্থাও দরকার। বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে দীর্ঘমেয়াদি কর ব্যবস্থা চায়। এ ছাড়া উচ্চ করহারের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে বলেও তিনি মনে করেন। এ ছাড়া তিনি সব করহারকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন।

মুক্ত আলোচনায় বিএসআরএম চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এনবিআর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) নিলেও এটা সমন্বয়ে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করে। ফলে তাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। অডিটের নামে এই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অবস্থায় কম্পানির ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল (চলতি মূলধন) আটকে যাচ্ছে। তিনি জানান, গত তিন বছরে বিএসআরএমের ২৪০ কোটি টাকা আটকে আছে। এই বছর আরো ৯০ কোটি টাকা যোগ হবে।

বিএসআরএমসহ যারা ব্যক্তিগত সমস্যার কথা তুলে ধরেছে, তাদের এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি  বলেন, ‘এআইটির ওপর সরকারের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। রাজস্বের ৬৫ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। ফলে এআইটির ওপর চাপ কমানো যাবে না। তবে এআইটির শতাংশের হার নিয়ে আমরা কী করা যায় ভাবছি।’ আগামী বাজেট বিনিয়োগবান্ধব হবে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘গতবারও আমরা চেষ্টা করেছিলাম, কোথাও তা পারা গেছে, কোথাও পারা যায়নি।’ তিনি জানান, আগামী বাজেট থেকে নতুন ভ্যাট আইন চালু হবে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে বিপুল সম্ভাবনা আছে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিনিয়োগে আমাদের ভালো ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ডুয়িং বিজনেসসহ (ব্যবসায় সহজীকরণ সূচক) কাঠামোগত কিছু সমস্যা আছে। এ ছাড়া টেক্স এক্সামশন এবং টেক্স হলিডে সুবিধামতো আছেই। ডিভিডেন্ড রিফান্ড চালু করা হয়েছে। এটাকে আরো পরিশীলিত করার প্রয়োজন হয়, এটা করা যাবে।’

মন্তব্য