kalerkantho

নিজেদের দুটি ছাড়া বাকি ২৩ পদে পুনর্নির্বাচন দাবি

শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ব : ভিপি নুর

রফিকুল ইসলাম   

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ব : ভিপি নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি তাঁদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে পাশে থাকব। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে শপথ নিয়ে যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনেই পাশে থাকব।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নুর এসব কথা বলেন।

নুর বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি আবাসিক হল অবৈধ দখল ও বহিরাগতমুক্ত করতে কাজ করব। হলের বিদ্যমান গণরুম প্রথা ভেঙে দেব। শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে থাকা বন্ধ করব।’

ডাকসুর নতুন ভিপি বলেন, ‘আবাসনসংকট সমাধানে হলে উদ্বাস্তুর মতো থাকা বন্ধ করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে হলে সিটের ব্যবস্থা করা হবে।’

নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও গবেষণা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের ২০ শতাংশ গবেষণা খাতে বরাদ্দের দাবি জানাব, যার অর্ধেক থাকবে শিক্ষকদের জন্য, বাকি ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ৪ শতাংশ অন্যদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।’

ডাকসু নির্বাচনে নানা অনিয়ম, কারচুপি, ফল ঘোষণায় দেরি ও হামলার বিষয়ে কথা বলেন নুর। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

নুর আরো বলেন, ‘২৮ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি। এ সময়ের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী সমস্যার মধ্য দিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন। ডাকসু নির্বাচন চালু থাকলে সমস্যাগুলোর সমাধান হতো। আশা করছি ডাকসু এখন যথাযথ ভূমিকা পালন করতে সমর্থ হবে।’

নুরুল হক নুর কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেল বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে ভিপি পদপ্রার্থী হয়েছিলেন। গত সোমবার গভীর রাতে যখন নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয় তখন তিনি হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন।

গতকাল বিকেলে ক্যাম্পাসে এসে নুরুল হক নুর বলেছিলেন, ‘আমরা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রসংগঠন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বয়ে আমরা একটি উন্নতমানের শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলব। সেই লক্ষ্যে আমাদের পরস্পরের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

প্রায় ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সবার আগ্রহই ছিল তুঙ্গে। ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় অন্য কারো ভিপি হওয়ার সম্ভাবনা নেই—এমন ধারণা ছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলনের জনপ্রিয় নেতা নুরুল হক নুর প্রার্থী হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। নির্বাচনের আগেও ভিপি হিসেবে ছাত্রলীগের প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁকেই মনে করা হচ্ছিল।

নির্বাচনে নুর পেয়েছেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। তবে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। নুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা, মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হন তিনি।

‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলনেও সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করেন নুর। মূলত দুটি আন্দোলনই তাঁকে পরিচিতি এনে দিয়েছে।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘যারা ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাঁরাই নাকি আমাদের নামে মামলা দিয়েছেন। আমরা ভিপি ও সমাজসেবা পদ ব্যতীত বাকি পদগুলোতে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার দাবি করছি। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু যেহেতু সেটা হয়নি আমি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে চাই ফের একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।’

মন্তব্য