kalerkantho

রিজার্ভের অর্থ চুরি

উল্টো বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা ফিলিপিনো ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উল্টো বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা ফিলিপিনো ব্যাংকের

রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার সঙ্গে ফিলিপাইনের যে ব্যাংকটির জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, সেই রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ‘মানহানি’র পাল্টা মামলা করেছে। গত ৬ মার্চ মামলাটি করা হয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আশায় গত ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত আইনজীবী আজমালুল হক কিউসি চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, মামলা করলেও তাঁরা বিবাদীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চালাবেন। কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে উল্টো মানহানির মামলা করল আরসিবিসি। 

ফিলিপাইনের এই ব্যাংকটি বলছে, তাদের কম্পানির সুনাম ও ভাবমূর্তির ওপর বারবার ‘অশুভ আক্রমণ’ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ডলার) দাবি করা হয়েছে মামলায়।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আরসিবিসি ব্যাংক মামলায় কী বলেছে, কোন পর্যায়ে মামলা করেছে, কার কার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, এসংক্রান্ত তথ্য আমাদের কাছে এখনো আসেনি। যেহেতু আন্তর্জাতিক আদালতে এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের একটি প্রতিনিধিদল এখন ফিলিপাইনে অবস্থান করছে। তারা দেশে ফিরে এলে বাংলাদেশ ব্যাংক কী পদক্ষেপ নেবে, তা ঠিক করা হবে।’

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত আইনজীবী আজমালুল হক কিউসি, বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান, জিএম জাকির হোসেন চৌধুরী, উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথসহ পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি ফিলিপাইন যায়। গত ১১ মার্চ আরসিবিসির সঙ্গে প্রতিনিধিদলটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এ বৈঠক হয়েছে কি না জানতে চাইলে মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি মেসেজে শ্রীলঙ্কায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে দুই কোটি ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায় এবং সেই টাকা বাংলাদেশ ফেরত পায়। অন্য চারটি মেসেজের মাধ্যমে আট কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপাইনের আরসিবিসির জুপিটার স্ট্রিট শাখার চারটি অ্যাকাউন্টে, যা পরে কয়েকটি হাত ঘুরে ক্যাসিনো হয়ে স্থানীয় মুদ্রায় মিশে যায়। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিয়েছে ফিলিপাইন। কিন্তু বাকি অর্থ উদ্ধারে তাদের কোনো তৎপরতা নেই।

এ ঘটনায় দায়ী করে গত ১০ জানুয়ারি আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে কারাদণ্ড দেন দেশটির আদালত। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ অর্থপাচারের আট দফা অভিযোগে তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়। তবে এ রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দেগুইতো ছাড়াও আরসিবিসির আরো ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালেই অভিযোগ করা হয়। অথচ এখন নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছে আরসিবিসি।

 

মন্তব্য