kalerkantho

সাবেক নেতারা ক্ষুব্ধ হতাশ

ডাকসু কলঙ্কিত ফের নির্বাচন দিতে হবে

তৈমুর ফারুক তুষার   

১২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডাকসু কলঙ্কিত ফের নির্বাচন দিতে হবে

প্রায় তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন ঘিরে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গিয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত হতাশায় শেষ হলো। বিশেষ করে ভোটের দিন একটি হলে বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনা নির্বাচনকে কলঙ্কিত করেছে। এই ব্যালটগুলোতে বিশেষ কয়েকজন প্রার্থীর নামের পাশে ক্রসমার্ক দিয়ে ভোট দেওয়া হয়েছিল। ডাকসুর সাবেক কয়েকজন সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) বলছেন, এমন একটি নির্বাচনে জয়ীরা নৈতিকভাবে নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারেন না।  তাঁদের মতে, ডাকসুর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দু-এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন দেওয়া উচিত। গতকাল ডাকসুর ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার  পর কালের কণ্ঠ’র কাছে এমন প্রতিক্রিয়া জানান ডাকসুর সাবেক তিন ভিপি ও এক সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনাও করেছেন।

ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম বলেন, ‘গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী কতগুলো হলে ভালো ভোট হয়েছে আবার কতগুলো হলে অনিয়ম ধরা পড়েছে। কুয়েত মৈত্রী হল ও রোকেয়া হলে অনিয়ম প্রকাশিত হয়েছে। ছাত্রদল, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও অন্যরা নির্বাচন বর্জন করেছে। এটি বড় বিষয়। এত দিন পর ডাকসুতে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে এমন ঘটনা কেন ঘটল, তা বের করা দরকার। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, দেশবাসীর জন্যও লজ্জার। প্রশাসনের আরো সতর্ক ও তৎপর হওয়ার দরকার ছিল।’ একই ধরনের ক্ষোভ ব্যক্ত করেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মাহমুদুর রহমান মান্না ও ডা. মুশতাক আহমেদ।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ডাকসুতে কোনো নির্বাচনই হয়নি। চুরি, বাটপারির ভোট হয়েছে। বিগত জাতীয় নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচন কলঙ্কিত হয়েছে। এমন চেষ্টা আইয়ুব আমলে হয়েছে, স্বাধীন দেশে সামরিক শাসকদের সময়েও হয়েছে। তবে এবারের ডাকসু নির্বাচন সব নির্বাচনের কলঙ্ককে অতিক্রম করে গেছে। অনেক আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে ঐতিহ্য, যে সম্মান ঢাবি অর্জন করেছিল, তাকে ছুরিকাঘাত করা হলো। বিশ্ববিদ্যালয় হলো নীতি, আদর্শ, সততা শিক্ষাদানের কেন্দ্র। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) চুরি, বাটপারির কলাকৌশল শিক্ষার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। এটি শুধু নিন্দনীয় ও ধিক্কার জানানোর বিষয় নয়, দেশকে ধ্বংসের দিকেও নিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আগে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা ছাত্রদের জন্য বুকে গুলি খাওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এখন কতিপয় শিক্ষক নামধারী কুলাঙ্গার ছাত্রদের ভোটাধিকার হরণের ক্রীড়নকে পরিণত হলো। এই অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। আর দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে পুনরায় নির্বাচন করার দাবি জানাই। ছাত্ররা এই ভুয়া ডাকসু মানবে না। ডাকসু বলে নিজেদের কেউ দাবি করলে তাদের নৈতিক ভিত্তি থাকবে না। এই কলঙ্কমোচনের জন্য আমি ছাত্রসমাজের চেতনা ও ঐতিহাসিক ভূমিকার ওপরে আস্থা রাখতে চাই।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি। আগে থেকেই হলে অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দেওয়া হয়। এটা কেন করা হয়েছিল? মেয়েদের হলে তো ধরাই পড়ল ব্যালট বাক্সে সিল মারা ব্যালট পেপার রয়েছে। ছেলেদের হলগুলোতে তো অন্য সংগঠনের ছেলেরা নেই। সে জন্য সেখানে কী হয়েছে কে জানে! সব ছাত্রসংগঠন এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। আমি মনে করি, তারা ঠিকই করেছে।’

ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমরা শুরুর দিকে অনেক আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু যে নির্বাচন হলো, তাতে আমরা খুবই হতাশ। আগে থেকেই ব্যালটে সিল দিয়ে রাখা ডাকসুর ইতিহাসে অকল্পনীয় ব্যাপার। সাধারণ ভোটারদের ভোট দেওয়া বিঘ্নিত করতে ভুয়া ভোটার সারি তৈরি করে রাখে একটি ছাত্রসংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব ঘটবে, তা ভাবাই যায় না। যে উৎসাহ-উদ্দীপনায় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয়েছিল, তা একটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো। ছাত্রলীগ সাধারণ ভোটারদের বিপক্ষে ঠেলে দিয়ে সবাইকে শত্রুতে পরিণত করেছে। তাদের বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে হবে।’

মন্তব্য