kalerkantho

শাহজালালে ইলিয়াস কাঞ্চনের পর মামুন

স্ক্যানারে ফের ধরা পড়ল না পিস্তল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্ক্যানারে ফের ধরা পড়ল না পিস্তল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবার পিস্তল নিয়ে প্রবেশ করেছেন মোহাম্মদ মামুন আলী নামের এক যাত্রী। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার দুই দিন আগে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ঠিক একইভাবে পিস্তল ও গুলি নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করলে ধরা পড়েনি বিমানবন্দরের স্ক্যানারে। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দুবাইগামী বিজি-১৪৭ ফ্লাইটে খেলনা পিস্তল নিয়ে উঠে বিমান ‘ছিনতাইয়ের’ চেষ্টা করেন পলাশ আহমেদ নামের এক যুবক। পরে কমান্ডো অভিযানে তিনি মারা যান। এদের দুজনের পর তৃতীয়জন হলেন মামুন।

দেশের আন্তর্জাতিক টার্মিনালের নিরাপত্তার তুলনায় অভ্যন্তরীণের নিরাপত্তাব্যবস্থা ততটা শক্তিশালী নয়—এমন অভিযোগ ওঠার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় ফের এমন ঘটনায় বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেকে। এর অগে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্ক্যানার অপারেটর ফজলার রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত এবং দুজন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পরও কেন ফের এমন ঘটনা ঘটল তারও তদন্ত শুরু হয়েছে। 

যেভাবে মামুনের প্রবেশ : বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-১৩১ ফ্লাইটে সিলেটে যাওয়ার জন্য সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে আসেন মামুন আলী। এ সময় সঙ্গে পিস্তল ও গুলি নিয়ে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রথম গেটের আর্চওয়ে দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলি নিয়ে ভেতরে প্রবেশের সময় তাঁর শরীর তল্লাশি করেন আনসার সদস্য রিপন। তিনি মামুনের কাছে থাকা পিস্তল ও গুলি ধরতে পারেননি। এরপর মামুন নিজেই বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে প্রথম তল্লাশি পার হওয়ার পর নিজের সঙ্গে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীর কাছে।

মামুন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তল্লাশি শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে তিনি জানতে চান, তাঁদের চেকিং শেষ হয়েছে কি না। জবাবে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ‘হ্যাঁ’ বললে মামুন ওই নিরাপত্তাকর্মীকে বলেন, ‘আপনি কী চেক করলেন? আমার কাছে তো পিস্তল আছে। পরে পিস্তল বের করেন এবং এটির লাইসেন্স দেখান মামুন।’

এদিকে মামুনের এ ঘটনা ততক্ষণে বিমানবন্দরে আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন শাহজালাল বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) পরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী। সার্বিক বিষয় জানার পর তিনি ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষকে মামুনকে অফলোড করার জন্য বলেন। তবে এভসেক থেকে লিখিত কোনো ডকুমেন্ট না দেওয়ায় যাত্রী মামুনকে অফলোড করেনি ইউএস-বাংলা। পরে এয়ারলাইনসের নিয়ম মেনে পিস্তল ও গুলি সঙ্গে করে সিলেটে নিয়ে যান মামুন।

তবে এ ঘটনাকে মিডিয়া কাভারেজ পাওয়ার জন্য হীন প্রক্রিয়া অবলম্বন বলে মন্তব্য করেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক।

মন্তব্য