kalerkantho

রাজধানীর কোটি মানুষের গ্যাসসংকট মিটছে

মাঠে নামছে তিতাস

হায়দার আলী    

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীর কোটি মানুষের গ্যাসসংকট মিটছে

রাজধানী ঢাকার প্রায় এক কোটি মানুষের গ্যাসের সমস্যা দূরীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ হয়ে মাঠে নামছে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কর্তৃপক্ষ। গ্যাসসংকটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নের জন্য কাজও শুরু হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে লালমাটিয়া, পান্থপথ ও গ্রিন রোডসহ বেশ কয়েকটি এলাকার গ্যাসের সমস্যা সমাধানে জোরেশোরে কাজ শুরু করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। চাহিদা অনুযায়ী উচ্চতর ব্যাসের পাইপলাইন বসানোর প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে।

জানা গেছে, তিতাস কর্তৃপক্ষ ছয়টি অঞ্চলে ভাগ হয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করবে। আর কাজটি বাস্তবায়নে সর্বমোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ‘ক’ অঞ্চলে ১৫৯ কোটি, ‘খ’ অঞ্চলে ২০৩ কোটি, ‘গ’ অঞ্চলে ১৮৮ কোটি, ‘ঘ’ অঞ্চলে ১৮১ কোটি, ‘ঙ’ অঞ্চলে ১৮৫ কোটি ও ‘চ’ অঞ্চলে ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক প্রাক্কলনকে ভিত্তি করে ঢাকা শহরকে ১৪৩টি গুচ্ছ এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে। এসব এলাকাকে তিতাস কর্তৃপক্ষ ‘আইসোলেটেড’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথমেই ৬০টি গুচ্ছ এলাকার গ্রাহকদের গ্যাসসংকট দূর করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে শহরের প্রতিটি এলাকায় নির্বিঘ্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। লক্ষ্য রয়েছে চলতি বছরের মধ্যেই পুরো মহানগরীর গ্রাহকদের গ্যাস সমস্যা দূর করার। এই কাজে ব্যয় হবে এক হাজার ১১১ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লালমাটিয়া এলাকায় পৌনে এক ইঞ্চি থেকে দুই ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ থাকায় গ্রাহকরা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না। এখানে দুই থেকে চার ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে পান্থপথ, গ্রিন রোড, সেন্ট্রাল রোড ও বীর উত্তম সিআর দত্ত রোডে তিতাসের নেটওয়ার্কগুলোকে আইসোলেটেড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা শহরের প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে না। অথচ বছরের পর বছর গ্যাস ব্যবহার করেও শত শত কোটি টাকার বকেয়া বিল পরিশোধ করছে না নামিদামি শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বকেয়া উদ্ধারে গিয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষ উল্টো মামলার সম্মুখীন হচ্ছে। বকেয়া পড়ে থাকা তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা উদ্ধারে নতুন করে মাঠে নামছে তিতাস। উদ্দেশ্য, ওই সব বকেয়া অর্থ আদায় করে তা গ্যাসসংকট মেটানোর কাজে ব্যয় করা।

তিতাস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা যত বড় আর  প্রভাবশালী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, বিল পরিশোধ না করলে অভিযান চালিয়ে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামাল তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আশা করছি চলতি বছরের মধ্যেই রাজধানীবাসীর গ্যাসসংকটের সমাধান হবে। গ্যাসসংকটপ্রবণ এলাকা হিসেবে প্রাথমিকভাবে লালমাটিয়া, পান্থপথ, গ্রিন রোড ও সিআর দত্ত রোড এলাকায় কাজ শুরু করব। পুরো কাজ শেষ হলে রাজধানীর প্রায় এক কোটি মানুষ এর সুবিধা পাবে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিতাসের প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বিল বকেয়া পড়ে আছে। আর রাজধানীবাসীর গ্যাসের সমস্যা দূর করতে প্রয়োজন এক হাজার ১১১ কোটি টাকা। বকেয়া বিল উদ্ধার হলে সেই টাকা দিয়ে পুরো নগরের গ্যাসসংকট মেটানো যাবে।

বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘ঢাকা শহরের বহু বছরের পুরো পাইপলাইনগুলোতে অনেক জায়গায় লিকেজ হয়েছে। আবার অনেক এলাকায় পাইপ সরু হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ হয় না। নানা কারণেই শহরের অনেক এলাকায় গ্রাহকরা ঠিকমতো গ্যাস পায় না। এই সমস্যা দূর করতে তিতাস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি কম সময়ের মধ্যেই গ্যাসসংকট দূর হবে। আর গ্যাসের বিল আর বছরের পর বছর বকেয়া রাখা যাবে না। গ্যাস ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই বিল পরিশোধ করতে হবে।’

মন্তব্য