kalerkantho

বিমানবন্দরে ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রশ্ন

আমার পিস্তল স্ক্যানারে ধরা পড়ল না কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমার পিস্তল স্ক্যানারে ধরা পড়ল না কেন?

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাইগামী উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাই চেষ্টায় নিহত পলাশ আহমেদের ‘নকল’ পিস্তল স্ক্যানারে ধরে পড়েনি। ওই ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এবার নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘আসল’ পিস্তল আর গুলি ধরা পড়েনি বিমানবন্দরের স্ক্যানারে। দেশের আন্তর্জাতিক টার্মিনালের নিরাপত্তার তুলনায় অভ্যন্তরীণের নিরাপত্তাব্যবস্থা ততটা শক্তিশালী নয়—এমন অভিযোগ ওঠার মাত্র ১০ দিনের মাথায় এমন ঘটনায় বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে কেউ কেউ। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্ক্যানার অপারেটর ফজলার রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত এবং দুজন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।      

সূত্র জানায়, নভোএয়ারের ভিকিউ-৯০৯ ফ্লাইটে গত মঙ্গলবার বিকেলে শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। মনের ভুলে লাইসেন্স করা পিস্তলটি তাঁর ব্যাগেই রয়ে যায়। এরপর বুকিং কাউন্টারে গিয়ে তিনি জানান যে তাঁর সঙ্গে নাইন এমএম পিস্তল আর ১০ রাউন্ড গুলি আছে, যা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রথম গেটের স্ক্যানারে ধরা পড়েনি। তিনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পিস্তলটি সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যেতে যান।

বিমানবন্দরের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইলিয়াস কাঞ্চন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ল্যাপটপের ব্যাগে আর্মস ও গুলি ছিল। সেই ব্যাগ স্ক্যানিংয়ে দিয়েছি। আর্চওয়েতে শরীর তল্লাশি করালাম। ততক্ষণে স্ক্যানিং হয়ে আমার ব্যাগ চলে এসেছে। বোর্ডিং পাস নিয়ে ভেতরে প্রবেশের সময় মনে পড়ে যে আমার ব্যাগে আর্মস রয়েছে। তখন দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিষয়টি জানিয়ে নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্র-গুলি জমা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলি। প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অস্ত্র জমা দিয়ে সিকিউরিটির লোকদের বললাম, এই ব্যাগটা স্ক্যানিংয়ের ভেতর দিয়ে গেল, কিন্তু ধরা পড়ল না। এটা পছন্দ করলাম না। কয়েক দিন আগেই এমন একটা ঘটনা ঘটে গেছে। এটা আপনারা দেখবেন।’ তিনি বলেন, ‘দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা বিবেচনা করে আমি চাইনি ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসুক। কিন্তু একটি গণমাধ্যমে সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলেছে যে আমি নাকি স্ক্যানিং করাইনি। এটা আমার খারাপ লেগেছে।’

নভোএয়ারের হেড অফ মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস মেজবাউল ইসলাম কালের কণ্ঠ বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চনের হাতব্যাগে ফায়ার আর্মস ছিল, কিন্তু উনি ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি নিজেই তা জানিয়েছেন। পরে চট্টগ্রামে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত আর্মস ফিরে পেয়েছেন।’

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ অথবা আন্তর্জাতিক টার্মিনালের প্রবেশমুখেই যাত্রীদের দেহ তল্লাশি করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মীরা। একই সঙ্গে স্ক্রিনিং মেশিনে যাত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যাগগুলোও তল্লাশি করা হয়। এরপর বোর্ডিং পাস ইস্যু করে পুনরায় ব্যাগ তল্লাশি করে উড়োজাহাজে উঠানো হয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, ঘটনা তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান মাসুদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কতিপয় কর্মকর্তার যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ববোধের অভাব আছে। তারা দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করে না, সুপারভিশনও ঠিক মতো হয় না—এটাই বারবার প্রমাণ হচ্ছে। এই ঘটনা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের নিরাপত্তার দুর্বলতা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।’

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দুবাইগামী বিজি-১৪৭ ফ্লাইটে খেলনা পিস্তল নিয়ে উঠে বিমান ‘ছিনতাইয়ের’ চেষ্টা করেন পলাশ আহমেদ নামের এক যুবক। পরে কমান্ডো অভিযানে তিনি মারা যান।

মন্তব্য