kalerkantho

জাহালমকে জেল খাটানো প্রশ্নে দুদককে হাইকোর্ট

যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না তার দরকার নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না তার দরকার নেই

জাহালমের পরিচয় জানার পরও দুদক জামিনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাইকোর্ট উষ্মা প্রকাশ করেছেন। হাইকোর্ট বলেছেন, ‘জাহালম মূল আসামি নয়—এটা জানার পরও দুদক কেন তার জামিনের ব্যবস্থা করেনি, এর দায় দুদককেই নিতে হবে।’ আদালত দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আদালত বলেন, ‘যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না, সেই বিড়াল রাখার দরকার নেই।’ 

“৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে” শিরোনামে টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালমের কারাগারে থাকার বিষয়টি নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। আদালত কারাগারে থাকা জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুদক গতকাল বুধবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই প্রতিবেদনকে অপূর্ণাঙ্গ অভিহিত করেন। হাইকোর্ট জাহালম প্রশ্নে এবং ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা সব মামলার নথিপত্র দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দেন। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এ নথিপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংককে পক্ষভুক্ত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে হাইকোর্টে বিচারাধীন এসংক্রান্ত মামলায় ১৩টি ব্যাংককে পক্ষভুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। অন্য পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অমিত দাস গুপ্ত।

শুনানিকালে আদালত দুদক আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। দুদক সম্পর্কে মানুষের ধারণা খারাপের দিকে যাক, তা কেউ চায় না। তবে দুদককেও স্বচ্ছ থাকতে হবে। এ সময় দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, বেসরকারি টিভি চ্যানেল ২৪-এ জাহালমের বিষয়ে রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে তদন্ত করার উদ্যোগ নেয় দুদক। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এই তদন্তেই জাহালম যে আবু সালেক নন তা উঠে আসে। তখন আদালত জানতে চান, কখন দুদক জানতে পারল যে জাহালমই আবু সালেক নন? জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি তদন্ত শুরুর পর। এই তদন্ত  শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আদালত বলেন, ‘যখন জানতে পারলেন যে তার সম্পৃক্ততা নেই তখন কেন তার জামিনের ব্যবস্থা নিলেন না? এ ছাড়া মামলার শুনানিকালে আদালতে ও আপনাদের কাছে সে বারবার বলেছে, আমি জাহালম, আবু সালেক না। তার পরও তার জামিনের ব্যবস্থা করলেন না। তাহলে তার বিরুদ্ধে কিসের ভিত্তিতে চার্জশিট দাখিল করলেন? এর দায় আপনাদের নিতে হবে।’

 

 

মন্তব্য