kalerkantho

ছাত্রলীগের চ্যালেঞ্জ কোটা আন্দোলনকারীরা

শরীফুল আলম সুমন ও মেহেদী হাসান   

৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ছাত্রলীগের চ্যালেঞ্জ কোটা আন্দোলনকারীরা

আর মাত্র পাঁচ দিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। এরই মধ্যে জমজমাট প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। ভোটাররাও ভোট প্রদানের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। কিন্তু কাকে ভোট দেবে, কে ভালো প্রার্থী, শিক্ষার্থীদের দাবি কে পূরণ করতে পারবেন—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ফলে যিনিই জিতুন, জটিল হিসাব-নিকাশ পার হয়েই তাঁকে আসতে হবে নেতৃত্বে।

জানা যায়, ১০ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ক্ষমতাসীন সরকারের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের অধিপাত্য। মিছিল-মিটিংয়েও তাদের নেতাকর্মীদের জমজমাট উপস্থিতি চোখে পড়ে। কিন্তু গত বছর সাধারণ ছাত্ররা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে তোলে দুর্বার আন্দোলন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরাসরি সমর্থন জুগিয়েছে সেই আন্দোলনে। সেই আন্দোলনকারী নেতারাই এবার প্রার্থী হয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে। ফলে ছাত্রলীগের চ্যালেঞ্জ এখন মূলত কোটা আন্দোলনকারীরাই। তবে জনপ্রিয় কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গেও ছাত্রলীগের প্রার্থীদের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রলীগের প্রার্থী রেজওয়ানুল হক। একই পদে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন কোটা আন্দোলনকারীদের প্যানেলের নুরুল হক নূর। তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। মূলত কোটা আন্দোলন করেই তিনি শিক্ষার্থীদের মন জয় করেছেন। তবে বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দীও পরিচিত মুখ। যেকোনো কাজে ডাকলেই তাঁকে কাছে পাওয়া যায়। ফলে ভিপি পদে মূল লড়াইটা হবে এ তিনজনের মধ্যেই।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রলীগের প্রার্থী গোলাম রব্বানী। তবে এই পদে একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী, ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আসিফুর রহমান। কোটা আন্দোলনকারীদের জিএস প্রার্থী রাশেদ খান। এ তিনজনের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ছাত্রলীগের প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন। দল-মত-নির্বিশেষে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সারাদিন মাঠেঘাটেও ছুটে বেড়ান তিনি। ফলে তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষে এই পদের প্রার্থী হলেন ফারুক হোসেন।

ছাত্রদল দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় আন্দোলন-সংগ্রামেও তেমন একটা ছিল না। তাদের প্রার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত নন। তবে বিএনপির সহযোগী ছাত্রসংগঠন হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশের সমর্থন তাঁদেরও রয়েছে।

ডাকসু ও হল সংসদের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে ছেলে ভোটার ২৬ হাজার ৭৭২ এবং মেয়ে ভোটার ১৬ হাজার ১৪১। মোট ভোটারের ৬০ শতাংশ হলে থাকে, বাকিরা থাকে বাইরে। হলের ভোটারদের মধ্যে ছাত্রলীগের প্রাধান্য থাকলেও অনাবাসিক ভোটাররা প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রী হলগুলোতে ছেলেদের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেশি। আর সেখানে ছাত্রলীগের আধিপাত্য ছাত্র হলগুলোর তুলনায় কম। ফলে ছাত্রী হলগুলোতে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকা প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। কুয়েত মৈত্রী হলে স্বতন্ত্র প্যানেল ‘সাধারণ শিক্ষার্থী স্বতন্ত্র পরিষদ’, রোকেয়া হলে ‘রোকেয়া পরিষদ’, শামসুন নাহার হলে ১৩ সদস্যের স্বতন্ত্র প্যানেল এবং কবি সুফিয়া কামাল হলে ৯ সদস্যের স্বতন্ত্র প্যানেল রয়েছে। তবে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ছাত্রলীগের প্যানেল এগিয়ে রয়েছে।

ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী পরিষদ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সনজিত চন্দ্র দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রচারণায় ভালো সাড়া পাচ্ছি। কেউ আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাদেরকে আমাদের প্রতিপক্ষ বানাবে তারাই হবে আমাদের প্রতিপক্ষ। তবে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও বাম জোট হয়তো আমাদের বিরোধী শক্তি হতে পারে বলে আমরা মনে করছি।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূর বলেন, ‘ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ। আমাদের ডাকে তাঁরা সাড়া দিচ্ছেন। তবে এখনো শঙ্কা, সবাই সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেন তো! তবে এটা বলতে পারি, যারাই জিতুক আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই জিততে হবে।’

বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোটের’ ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ‘প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তবে একটা মহল আমাদের বাধা দিচ্ছে। আমরা মনে করি, ১১ মার্চ শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে আসবে। আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।’

জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফুর রহমান বলেন, নির্বাচনে ভোটের মাঠ সুষ্ঠু থাকলে শিক্ষার্থীরা যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবে। তবে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে এখনো দ্বিধাবিভক্ত। ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত তারা। একাধিকবার প্রশাসনকে ভোটের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে বলা হলেও কোনো অগ্রগতি নেই।

ছাত্রলীগের এজিএস প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা ও আবেগ রয়েছে। আমাদের নানা রং থাকতে পারে; কিন্তু আমাদের স্বপ্নের রং এক। ১১ মার্চের নির্বাচনে বিজয়ী হবে ঢাবির সব সাধারণ শিক্ষার্থী।’

মন্তব্য