kalerkantho

বিএনপিকে সংসদে নিতে উদ্যোগ নেবে না সরকার

আবদুল্লাহ আল মামুন   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপিকে সংসদে নিতে উদ্যোগ নেবে না সরকার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অনুরোধ জানানো হবে না। এ নিয়ে দলটির সঙ্গে কোনো আলোচনাও করবে না সরকার। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ ছাড়া বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের আরো দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান এবং পুনর্নির্বাচন দাবি করেছে। পাশাপাশি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন সরকারবিরোধী এই জোটের নেতারা। তবে ওই সিদ্ধান্ত থেকে ইতিমধ্যে সরে এসেছেন গণফোরামের দুই সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মুকাব্বির খান। তাঁরা আগামী ৭ মার্চ শপথ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পরও এমপি হিসেবে শপথ না নেওয়ার অধিকার তাদের (বিএনপি) রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমি নিজে বিএনপির এমপিদের শপথ নিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছি।’

গণফোরামের দুই সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এ অবস্থায় বিএনপিকে সংসদে নিতে কোনো উদ্যোগ নেবেন কি না? বা শপথ গ্রহণের জন্য কোনো চিঠি দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা তো আহ্বান জানিয়েছি, নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেব না। চিঠিও দেওয়া হবে না।’

সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া প্রসঙ্গে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৭-তে বলা হয়েছে, ‘১) কোন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন : তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পিকার যথার্থ কারণে বর্ধিত করিতে পারিবেন; খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাধিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদ সদস্যরা গত ৩ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে গত ৩০ জানুয়ারি। গতকাল রবিবার পর্যন্ত এই সংসদের ১৫ কার্যদিবস অতিবাহিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আরো ৭৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

মন্তব্য