kalerkantho

অভিনন্দনের দেহে জীবাণু বা চিপ ঢোকায়নি পাকিস্তান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিনন্দনের দেহে জীবাণু বা চিপ ঢোকায়নি পাকিস্তান

পাকিস্তানিরা কোনো গোপন নজরদারি যন্ত্র (মাইক্রোচিপ) বা জীবাণু পাইলট অভিনন্দনের দেহে ঢুকিয়ে দিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছিল ভারত। দৃশ্যত সুস্থ মনে হলেও অন্তঃক্ষরণেরও আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে সিটিস্ক্যান করে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাঁজর ও মেরুদণ্ডের নিচের দিকে চোট ছাড়া কিছু পায়নি। দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের রিসার্চ অ্যান্ড রেফারাল হাসপাতালে গতকাল রবিবার পরীক্ষাটি চলে।

দুই দেশের যুদ্ধপরিস্থিতি মিইয়ে আসার মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবার তোপের মুখে পড়েছেন গত মঙ্গলবার ভোররাতে ভারতের সেই সাঁড়াশি বিমান হামলায় শত্রুপক্ষের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে। পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে নরেন্দ্র মোদি যা বলেছেন, তাতে স্পষ্ট হচ্ছে যে তাত্ক্ষণিক জানানো কিছু বা অনেক তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল। আল-জাজিরা গণমাধ্যমের এক সাংবাদিক হামলার স্থলটি ঘুরে এসে জানাচ্ছেন ভারতীয় বোমা ইসলামাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে জাবা শহরের কাছে জঙ্গলে ও মাঠে আঘাত হানে। তবে এর পাশেই রহস্যঘেরা একটি মাদরাসা রয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

এদিকে পুলওয়ামা হামলা, তারপর ভারতীয় বিমানবাহিনীর মঙ্গলবারের পাল্টা হামলা এবং অভিনন্দন বর্তমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা—এই তিনটি বিষয়কে মোদি যখন ভোটের হাতিয়ার করতে চাইছেন তখন জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সাফল্যের বাস্তব প্রমাণ চাইছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। গতকাল এক রাজনৈতিক সভায় মোদি জবাব দেন এভাবে, ‘ওরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রমাণ চেয়েছিল। আর এখন বিমান হামলারও প্রমাণ চাইছে। কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলোর কাছে আমি জানতে চাই, কেন তারা সেনার মনোবলে ফাটল ধরাচ্ছে। কেন কংগ্রেস এমন বিবৃতি দিচ্ছে, যাতে ভারতবিরোধী শক্তির হাতই আরো শক্ত হচ্ছে। পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাস দূর করতে যখন আমাদের সবার একজোট হওয়া দরকার তখনই ২১টি দল আমাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে একজোট হয়েছে।’

ভারতের ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও সীমান্তে পরিস্থিতি গতকাল দিনভর মোটামুটি শান্তই ছিল। এর আগে ভারতের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বিবৃতিতে জানায়, গত শনিবার রাতে নেজাপির, জানদ্রোত ও বাঘসার সেক্টরে বিচ্ছিন্নভাবে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটলেও তা আগের দুই রাতের মতো ব্যাপক ও নিয়মিত ছিল না। ঐতিহাসিক সিমলা চুক্তির পর ১৯৭৬ সালে চালু হওয়া ট্রেন সমঝোতা এক্সপ্রেস গত বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে গতকাল দিল্লি থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেয় ট্রেনটি।

এদিকে কয়েক দিন বন্ধ রাখার পর পাকিস্তান গতকাল লাহোর বিমানবন্দর চালু করে। শুক্রবারই খুলে দেওয়া হয়েছিল করাচি, কোয়েটা, পেশওয়ার ও ইসলামাবাদ বিমানবন্দর। ভারতের হামলার আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এসব এয়ারপোর্টের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এখনো বন্ধ রয়েছে গিলগিট বালতিস্তান, পাঞ্জাব ও সিন্ধুর কিছু বিমানবন্দর।

গতকাল আরো দুটি খবর বিশেষ করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ফলাও করে প্রচার পায়। একটি হচ্ছে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা মাসুদ আজহারের মৃত্যুর গুজব। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবরটি কেউই নুিশ্চিত করতে পারেনি। অন্য খবরটি হচ্ছে, গত সপ্তাহে চরম যুদ্ধপরিস্থিতিতে পাকিস্তানি একজন পাইলটকে ভারতীয় ভেবে পিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে পাকিস্তানেরই কিছু গ্রামবাসী। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের নওশেরা সেক্টরের কাছে পাকিস্তানি জঙ্গিবিমানটি ভূপাতিত হয়। ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে, নিজে ধরাশায়ী হওয়ার আগে বিমানটিকে ঘায়েল করেছিলেন বহুল আলোচিত পাইলট অভিনন্দন বর্তমান। ভূপাতিত বিমান থেকে প্যারাশুট ব্যবহার করে নিরাপদে বেরিয়ে আসার পরও পাইলট শাহাজ-উদ-দিন প্রাণে বাঁচতে পারেননি। সূত্র : ভারতীয় গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা।

 

মন্তব্য