kalerkantho


মৃত্যুকূপ সরায়নি কেউ, ৬৭ প্রাণ অঙ্গার

এবারও পুরান ঢাকার রাসায়নিক মজুদ থেকে আগুন ছড়ায় দ্রুত

তৌফিক মারুফ ও রেজোয়ান বিশ্বাস   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মৃত্যুকূপ সরায়নি কেউ, ৬৭ প্রাণ অঙ্গার

আবারও পুরান ঢাকায় দাহ্য-রাসায়নিকের বলি হলো ৬৭ জন মানুষ। একুশের শোককে শক্তি করে উজ্জীবিত জাতি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রভাতফেরির আগেই দেখল আরেক শোকের বিলাপ। চকবাজারের চুরিহাট্টায় বুধবার রাতে বিস্ফোরণ থেকে সংঘটিত আগুনে আহত হয়েছে ৫০ জনের বেশি। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনার সূত্রপাত। শেষ রাত নাগাদ একযোগে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর ৪০টি ইউনিট মিলে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা নাগাদ আবারও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ভেতরে শুরু হয় বিস্ফোরণ। আবারও থেমে থেমে জ্বলতে দেখা যায় আগুনের কুণ্ডলী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে যাওয়া ৬৭টি লাশের সবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরিচয় মিলেছে ৪৬ জনের। তাদের মধ্যে ২২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের মরদেহ মর্গে রয়ে গেছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। মর্গে আসা মরদেহগুলোর মধ্যে পাঁচজন নারী, তিনটি শিশু এবং বাকি সবাই পুরুষ বলে জানানো হয়েছে মর্গের সূত্রে। এ ছাড়া আরো কিছুসংখ্যক নিখোঁজ থাকার কথা বিভিন্নভাবে বিভিন্নজন বললেও নাম-তালিকা পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কালের কণ্ঠকে জানান, ঢাকা মেডিক্যালে মোট ৬৭টি লাশ এসেছে। এর আগে দুপুরে তিনি গণমাধ্যমের কাছে বলেছিলেন ৭৮টি মৃতদেহ পেয়েছেন। আর সকালে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে বলা হয় মৃতের সংখ্যা ৭০। আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীও সকালে জানিয়েছিলেন, আগুনের ঘটনায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সোহেল মাহমুদ জানান, পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়ায় নিহত বেশির ভাগেরই চেহারা বোঝা যায় না। যাদের পরিচয় সাধারণভাবে পাওয়া যাবে না, তাদের পরিচয় জানতে ডিএনএতে যেতে হতে পারে।

যাদের পরিচয় জানা গেছে : ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার সেলিম রেজা জানান, শনাক্ত হওয়া ৪৬ জনের মধ্যে ১৫ জনই নোয়াখালীর। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক লাশের সঙ্গে স্বজনদের ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন নোয়াখালীর নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামের খাসের বাড়ির মো. সাহেব আলীর দুই ছেলে মাসুদ রানা (৩০) ও রাজু (২৮), নাটেশ্বর গ্রামের মিয়ন হাজি বাড়ির ভুলু মিয়ার ছেলে আলী হোসেন (৫৫), বটতল গ্রামের শাহাদাত হোসেন হিরা (২৭), মির্জা নগরের আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (২৮), নাছির উদ্দিন (২৯), মো. বাবু ও কামাল হোসেন, নোয়াখালীর সিদ্দিকুল্লাহ (৪৫), কুমিল্লার খবির উদ্দিন নাইম, ইলিয়াস আলী মিয়া, হাফেজ মো. কাউসার ও শাহাদত, কুড়িগ্রাামের মোরশেদ আলম, পটুয়াখালীর মো. এনামুল হক (২৮), সোনাইমুড়ির আয়েশা খাতুন ও হেলাল উদ্দিন (৩২), ঢাকার চকবাজারের মোহাম্মদ আলী, অপু রায়হান, ইয়াসিন খান রনি, জুম্মন (৫২), সুমি আখতার ও স্বামী মিঠু, তাঁদের তিন বছরের শিশুপুত্র সাহির, ধানমণ্ডির অসিউদ্দিন (২৩), মোশারেফ হোসেন (৪৩), ছনিয়া আক্তার (২৮), বিল্লাল হোসেন (৪৭), ইসাহাক ব্যাপারী (৪২), ইব্রাহিম (৩০), সুজন হক (৫৩), নয়ন খান (২৫), আব্দুর রহিম (৫১), জসিম উদ্দিন (২২), সামসুল হক (৬৮), পারভেজ (১৮), আরাফাত (৩), মাহাবুবুর রহমান রসু (২৯), শিপন আরাফাত (১৯), ওমর (৩০), আবু বকর সিদ্দিক (২৭), মজিবুর হাওলাদার (৫০), আশরাফুল হক (২৭), ইমতিয়াজ রাসু (২২) ও সজিব (৩৫)।

চিকিৎসাধীন যাঁরা : জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন কালের কণ্ঠকে জানান, আনোয়ার (৫৫), মাহামুদুল (৫২), সেলিম (৪৪), হেলাল (১৮), রেজাউল (২১) জাকির (৩৫), মোজাফফর (৩২), সোহাগ (২৫) ও সালাহউদ্দিন (৪৫) নামে ৯ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে ফোন করে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুসারে সব ধরনের চিকিৎসা চলছে।

ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, আহতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬২ শতাংশ পুড়ে যাওয়া সোহাগ, ৫১ শতাংশ পুড়ে যাওয়া রেজাউল, ৩৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া জাকির ও ২৮ শতাংশ পুড়ে যাওয়া আনোয়ারের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আনোয়ারকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এদিকে একই ঘটনায় আহতদের মধ্যে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মান্নান ও সুজন নামের দুজন। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আরো কয়েকজন বাড়ি ফিরেছে।

অন্যদিকে গতকাল দিনভর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকা ঘটনাস্থল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকা ঘুরে প্রত্যক্ষদর্শী, নিহত-আহতদের স্বজন, উদ্ধারকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, নানা ধরনের রাসায়নিক-দাহ্য পদার্থ, কাঁচামাল, প্রসাধনীর পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র, কারখানা ও গুদামে ঠাসাঠাসি ছিল ঘটনাস্থল। গতকাল শোকে মুহ্যমান ও বিক্ষুব্ধ মানুষ একই সুরে অভিযোগ করে জানায়, রাসায়নিক মৃত্যুকূপে পড়েই আট বছরের মাথায় আবারও প্রাণ গেল কমপক্ষে ৬৭ জন মানুষের। তারা ব্যবসায়ীসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনকে দায়ী ও বিচার দাবি করে।

ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে একই সঙ্গে পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে বলেছেন, এবার এ ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সকালে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, কেমিক্যালের কারণেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এত প্রাণহানি ঘটেছে। র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ বলেন, আগুন লাগার পর কেমিক্যালের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এত মানুষ পুড়ে মারা যায়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া লেখক কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি নিজেও অনেকবার স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পুরান ঢাকায় মানববন্ধন করেছি কেমিক্যালের কারখানা-গুদাম সরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু কিছুই কাজ হয়নি। ফলে এখন আবার এত মানুষের প্রাণ গেল।’

এদিকে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে আহতদের চিকিৎসায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের বিশেষ তহবিলে মোট ২০ লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের জনপ্রতি এক লাখ এবং আহতদের জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

ঘটনার আগে ও পরে : চুরিহাট্টা শাহি মসজিদের সামনেই হাজি ওয়াহেদ মঞ্জিল। তার সামনে পারফিউম কেমিক্যালের কৌটাভর্তি দুটি পিকআপ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি পিকআপে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে শূন্যে উঠে পড়ে। আবার নিচে নামে। ওয়াহেদ ভবনের পাশেই হোটেল রাজমহলের সামনে রাখা ছিল গ্যাস সিলিন্ডার। দ্রুত এখানেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। এর পরপরই আগুন আশপাশে আরো সাতটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থল পাঁচ রাস্তার মোড় দিয়ে সাধারণ মানুষ, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, মালটানা গাড়ি চলাচল করছিল ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। সেই সঙ্গে ওই এলাকাতেই একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল পাশের জামাল সরদার কমিউনিটি সেন্টারে। বরযাত্রীরাও ওই পথ ধরে কমিউনিটি সেন্টারে যাচ্ছিল। পুরো সড়কে ছিল তীব্র যানজট। ফলে অনেকে পালিয়ে বাঁচারও সুযোগ পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী মো. আশিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কী দিয়া কী হইল বুঝবার সময় পাই নাই। খালি দেখলাম শব্দ আর আগুন। মনে হইল বোম ফাটতাছে। মানুষগুলো যে যেইখানে ছিল সেইখানতেই লাশ অইয়া পড়তাছিল।’ আব্দুল বারেক নামের আরেকজন বলেন, ‘প্রথম মনে করছিলাম বৃষ্টির মতো সমানে বোম ফাটতাছে। পরে দেখলাম গাড়ি, সিলিন্ডার, কসমেটিকসের পাইকারি দোকান, কারখানা, প্লাস্টিক, কেমিক্যালের কারখানা-গোডাউন থেকেই শব্দ আসতাছে, আগুন লাগতাছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, আগুন এত দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে যে ঘটনাস্থলের আশপাশের সব ভবনে এবং পাঁচ রাস্তার মোড়ে অনেক মানুষ আটকে যায়। আর আগুন ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ ছিল প্লাস্টিকের সরঞ্জাম আর পারফিউম ও কেমিক্যাল। পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে যারা প্রাণ নিয়ে কোনোমতে বের হতে পেরেছে তারা এখন হাসপাতালে ভর্তি। বাকিরা আর প্রাণে বাঁচতে পারেনি। অর্থাৎ ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তারা পুড়ে মারা যায় বলে ফায়ার সার্ভিস ও ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

বাঁচার আকুতি : আগুনের সময় ভবনে আটকে পড়া ও পথচারীরা জীবন বাঁচাতে অনেক জোরে জোরে চিৎস্যর করছিল বলেও জানায় আশপাশের বেঁচে থাকা লোকজন। এ সময় যে যার মতো আগুন আগুন, মরে গেলাম, বাঁচাও বাঁচাও চিৎস্যর করতে থাকে। কিন্তু ততক্ষণে তাদের শরীরে আগুন ধরে যায়। দূর থেকে তাদের পুড়তে দেখা যায়; কিন্তু কারো কিছু করার ছিল না। কারণ আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে এগিয়ে গিয়ে কাউকে উদ্ধার করা তাত্ক্ষণিকভাবে কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না। এরপর ফায়ার সার্ভিস সেখানে পৌঁছানোর পরও তাদের জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। এ সময় সাতটি ভবনের আন্তত ৩০টি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি ওষুধ ফার্মেসিতে ছিলেন শাহাদত উল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, নাসির উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন নামে চার বন্ধু। দোকানের শাটার বন্ধ করে দিয়েছিলেন তাঁরা আগুন দেখে। পরে তাঁরা সবাই পুড়ে মারা যান বলে জানান চারজনের বন্ধু বাবর ওরফে বাবু। বাবু বলেন, ‘প্রতিদিনই আমরা শাহাদতের ওষুধের দোকানে আড্ডা দিতাম। আমারও সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাল আমার দেরি হয়ে গিয়েছিল।’

ঘটনাস্থল ঘুরে জানা যায়, হজরত আনাস হোটেলে আগুন ধরে গেলে কয়েকজন পুড়ে মারা যায়। পাশেই আরো একটি চারতলা ভবনে আগুন লাগলে কয়েকজন পুড়ে মরে। ওয়াহেদ মঞ্জিলের সিঁড়িতে আটকে পড়া ২১ জনও আর বের হতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিস তাদের পোড়া লাশ একসঙ্গে উদ্ধার করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট ছোট পারফিউমের কৌটা বিস্ফোরিত হয়ে ঘটনাস্থল পাঁচ রাস্তাজুড়ে পড়ে আছে। পুড়ে গেছে দুটি পিকআপ, দুটি প্রাইভেট কার, একটি অটোরিকশা, ছয়টি মোটরসাইকেলসহ বাইসাইকেল, মাল টানা ঠেলাগাড়ি, অন্তত ১০টি ভ্যান, রিকশাসহ কেমিক্যালের বিভিন্ন সরঞ্জামের কৌটা। ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় লোকজন মনে করছে, কেমিক্যালের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এসব সরঞ্জামে। এ কারণে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পাঁচ রাস্তার মাঝখানে আটকে পড়া লোকজনও আগুন টপকিয়ে বের হতে পারেনি।

বেশি পুড়েছে ওয়াহেদ ম্যানসন : ওয়াহেদ ম্যানসন নামে চারতলা (বেইসমেন্টসহ পাঁচতলা) ভবনের পুরোটাই পুড়ে গেছে। এ সময় ভবনের নিচতলায় থাকা দুটি প্লাস্টিক সরঞ্জামের দোকান, পারফিউম, একটি ওষুধের দোকানসহ ১৪টি দোকানের পুরোটাই পুড়ে যায়। এসব দোকানের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী আগুনে আটকে পড়ে। এই ভবনের দ্বিতীয় তলা ছিল কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকের গুদাম। এ ছাড়া এই ভবনের ওপরে থাকে ভবন মালিক হাজি ওয়াহেদ মিয়ার দুই ছেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার সময় তারা ভবনে ছিল না। এ কারণে তারা বেঁচে যায় বলে স্থানীয় লোকজন মনে করছে। তবে এই ভবনে থাকা কিছু ভাড়াটিয়া ও ব্যবসায়ীদের অনেকে পুড়ে মারা যায় বলে জানা যায়।

গতকাল সকাল থেকে ঘটনাস্থলে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাঠকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়। নুরুল ইসলাম নামের একজন তাদের বলেন, জসিম নামে তাঁর এক স্বজনকে পাওয়া যাচ্ছে না। সে ঘটনাস্থলে রাহাত এন্টারপ্রাইজে কাজ করত। জাহিদ নামে একজন বলেন,  নাছরিন (৩৩) ও লিপু (৪২) তাঁদের ছেলে আত্তাহি নামে সাড়ে সাত বছর বয়সী একটি শিশুকে নিয়ে ঘটনার সময় পাঁচ রাস্তার সড়কে আটকে পড়েন। তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রেড ক্রিসেন্টের সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা টিমের প্রধান শাকিলা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা লাশের তালিকা তৈরি করেছি। ব্যাগগুলো দিয়েছি। উদ্ধারকাজেও সহায়তা করেছি।’

বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত—এমনও শোনা যায় এলাকায়। তবে দেখা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার অনেক দূরে। ট্রান্সমিটারটি অক্ষতও আছে।

চুরিহাট্টা মসজিদে আগুন : প্রত্যক্ষদর্শী মোস্তফা কামাল বলেন, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে চুরিহাট্টা মসজিদের বাইরের টাইলস খসে পড়ে। তখন অনেক মুসল্লিসহ এতিম অনেক শিশু-কিশোর মসজিদে আটকে পড়ে। আগুন মসজিদের ভেতর ঢোকেনি বলে তারা অক্ষত ছিল। তবে মসজিদের দেয়ালে টাঙানো ঘড়ির কাঁটা ১০.৩৫ মিনিটে গিয়ে থেমে যায়। এতে ধারণা করা যায়, আগুন ১০টা ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটের মধ্যেই লেগেছিল।

চার তদন্ত কমিটি : আগুনের ঘটনা তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স থেকে আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।



মন্তব্য