kalerkantho

শিশু আসামির ছবি ও পরিচিতি প্রচার-প্রকাশ করা যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু আসামির ছবি ও পরিচিতি প্রচার-প্রকাশ করা যাবে না

আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলার শিশু আসামির ছবিসহ তার পরিচিতি গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারের আগে, বিচার চলাকালে এবং বিচারের পর সংশ্লিষ্ট শিশু সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। শিশুর পরিচয় প্রকাশ পায় বা তাকে চিহ্নিত করা যায়—এমন কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না বলে আদেশে বলা হয়েছে। আদালতের আদেশে আরো বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে শিশুকে অপরাধী, আসামি, সাজাপ্রাপ্ত এসব শব্দ লেখা যাবে না। তবে মামলায় রায়ের পর দোষী প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা যাবে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন। শিশু আসামির পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এক রিট আবেদনে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমনের করা এক রিট আবেদনে এ রায় দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারী নিজেই আদালতে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান। ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার কাজী এরশাদুল আলম।

আদালতের এই আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে তথ্য ও আইন সচিব এবং আইন, আদালত, মানবাধিকার ও সংবিধানবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সভাপতিকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বয় গেটস টেন ইয়ার্স ফর কিলিং ক্লাসমেটস’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্য ডেইলি স্টার পত্রিকাকে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া সব গণমাধ্যমকে ভবিষ্যতে শিশুর নাম-পরিচয় ও ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আদালত বলেন, আজকের একটি শিশুকে ভবিষ্যৎ জীবনে যাতে কোনো কলংক বহন করতে না হয় সেটা বিবেচনা করেই এই নির্দেশনা দেওয়া হলো। কোনো মামলায় বিচারের ক্ষেত্রে শিশুর গোপনীয়তা রক্ষা করাই শিশু আইনের মূল উদ্দেশ্য। সামাজিকভাবে শিশুর মর্যাদা বজায় থাকে এবং সে বা তারা (সংশ্লিষ্ট শিশু) যাতে সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ পায় সে জন্যই এই চেষ্টা।

ডেইলি স্টারে ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর ‘বয় গেটস টেন ইয়ার্স ফর কিলিং ক্লাসমেটস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ সংবাদে শিশু অপরাধীর পরিচিতি প্রকাশ করা হয়। এরপর শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের শিশু আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, শিশু আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলায় জড়িত বা সাক্ষ্য প্রদানকারী কোনো শিশুর ছবি বা এমন কোনো বর্ণনা, সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম অথবা ইন্টারনেটে প্রকাশ বা প্রচার করা যাবে না। এটা প্রচার বা প্রকাশ করতে হলে আদালতের অনুমতি লাগবে। কিন্তু এ আইন উপেক্ষা করে শিশুর পরিচিতি প্রকাশ করা হচ্ছে। এ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত বছরের ১৯ নভেম্বর রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল এ রায় দেওয়া হলো।

মন্তব্য