kalerkantho

সরকারি ডাক্তারের প্রাইভেট প্র্যাকটিস

নীতিমালা ও কমিশন করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীতিমালা ও কমিশন করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

সরকারি ডাক্তারদের রোগী দেখা নিয়ে একটি নীতিমালা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশন গঠন করতেও বলা হয়েছে। আদালত বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে যাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে—সে জন্যই একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন থাকা উচিত। এই গাইডলাইন করতে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএমডিসি সভাপতি এবং বিএমএ সভাপতির প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন ‘মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২’-এর ৪ নম্বর ধারা কেন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশেনের (বিএমএ) সভাপতিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান, অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন রিগ্যান, অ্যাডভোকেট সুজাদ মিয়া, অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল হক ও অ্যাডভোকেট মো. কাউছার উদ্দিন মণ্ডলের করা রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। সরকারি ডাক্তারদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ২৯ জানুয়ারি পাঠানো আইনি নোটিশের জবাব না পেয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি এ রিট আবেদন করা হয়। লক্ষ্মীপুরে বাবুল হোসেন নামের এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় গত ২৯ জানুয়ারি ‘ডাক্তার ব্যক্তিগত চেম্বারে, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়।

গতকাল আদেশের সময় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার চিকিৎসা খাতে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না, ওষুধ পাচ্ছে না। প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না। আদালত বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থা একটি সেবামূলক পেশা। অথচ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে। চিকিৎসকদের কাছে বাণিজ্যই যেন মুখ্য না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান আদালতে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। শুনানিতে রিট আবেদনকারী বলেন, সরকার নির্ধারিত কর্মঘণ্টা চলাকালে সরকারি ডাক্তারদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাকটিস করা শুধুই পেশাগত অসদাচরণই নয়, আইনের দৃষ্টিতে এটা অপরাধ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ জানয়ারি সরকারি চিকিৎসক ও নার্সদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ২১ জানুয়ারি দশটি জেলা সদর হাসপাতালে ৪০ শতাংশ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি পেয়েছে। এক পাবনা সদর হাসপাতালেই ৪৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৩৫ জনই অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ পরিস্থিতিতে সরকারি চিকিৎসকের প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

 

মন্তব্য