kalerkantho


মধ্যবিত্তের আবাসন এখনো অধরা

♦ ৫ দিনের মেলায় ১৫০০ কোটি টাকার বিক্রি
♦ আশ্বাস আরো ২০০০ কোটি টাকার

এম সায়েম টিপু   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মধ্যবিত্তের আবাসন এখনো অধরা

মিরপুরের বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক সেলিনা ফেরদৌস ও তাঁর স্বামী তিন বছর ধরে চেষ্টা করছেন রাজধানীতে মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করার। কিন্তু নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট বা বাসা পাওয়া এখনো তাঁদের সাধ্যে কুলাচ্ছে না। গতকাল রবিবার আগারগাঁওয়ে রিহ্যাব মেলার শেষ দিনে স্থায়ী আবাসন খুঁজতে গিয়েছিলেন সেলিনা। সেখানেই তিনি জানালের নিজের আক্ষেপের কথা।

মেলায় ঘুরতে যাওয়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন পিন্টু বলেন, ‘রোজগারের বড় অংশ চলে যায় বাড়িভাড়ায়। তখন খুব মন খারাপ হয়। নিজের একটি বাড়ি থাকলে এটা হতো না। কিন্তু ফ্ল্যাটের যে দাম, নিজের সঞ্জিত অর্থ দিয়ে তা কেনাও যাবে না। আবার লোন নিয়ে কিনব এমন ভরসাও করতে পারছি না।’

দেশের আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোশিয়েন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ওই মেলার আয়োজন করে।

রিহ্যাবের পরিচালক ও মেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান শাকিল কামাল চৌধুরী গতরাতে কালের কণ্ঠকে জানান, নানা সীমাবদ্ধতার পরও এবারের মেলায় পাঁচ দিনে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রি হয়েছে। এটা গত বছরের মেলা থেকে ২০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া মেলার পর কেনার আশ্বাস পেয়েছেন প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার। তিনি বলেন, ‘মেলার সময় বাড়ানোর আহ্বান থাকলেও এটা সম্ভব নয়। তবে দুই-এক ঘণ্টা বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া আগ্রহী ক্রেতারা চট্টগ্রাম মেলায় সব ধরনের সুযোগ পাবেন এই মেলার।’

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রাজধানীতে জমির দাম, রেজিস্ট্রেশন ফি, ব্যাংক ঋণের সুদের হার এতই বেশি যে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষরা মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই করে নিতে হিমমিশ খাচ্ছে। জমির দাম গত তিন দশকে প্রায় ৩০০ গুণ বেড়েছে। এ ছাড়া ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটির কাছাকছি। প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ লোক নতুন করে ঢুকছে রাজধানীতে। ফলে ঢাকার আবাসন সংকট বহুল আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, শহরে এখনো প্রায় ২০ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট অবিক্রীত আছে। কারো কারো মতে, এই সংখ্যা আরো বেশি। তাই আবাসন চাহিদা পূরণ করতে হলে উদ্যোক্তাদের স্বল্পমূল্যে জমি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে জমি না দিয়ে জমির সংকটে থাকা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাজে লাগাতে পারে। কেননা এই শিল্পের উদ্যোক্তারা গত তিন দশকে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন।

রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীন কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের প্রয়োজনীয় নীতির অভাবে রাজধানীতে জমির দাম এখন নাগালের বাইরে। ফলে মধ্য আয়ের মানুষের আবাসন চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, মোট চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশের কম মানুষের আবাসন চাহিদা পূরণ করা গেলেও বাকি বিপুলসংখ্যক মানুষের আবাসন সংকট থেকেই যাচ্ছে। সরকার বিদেশিদের জমি না দিয়ে বেসরকারি আবাসন ব্যবসায়ীদের সুলভ মূল্যে জমি দিলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।

সংগঠনের আরেক নেতা লিয়াকত আলী বলেন, ‘আবাসন মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার পূরণের দায় সামনে রেখে সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ২০২১ সালের মধ্যে নিশ্চিত করার কথা বলেছিল। আমাদের আশা, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে আবাসন সংকট সমাধানে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির ১২ দফা সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবয়ন করবে।’



মন্তব্য