kalerkantho


রিজার্ভ চুরি নিয়ে অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে মামলা এ মাসেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রে মামলা এ মাসেই

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে এ মাসের মধ্যেই মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনা যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে ঘটেছে, তাই মামলা হবে সেখানেই। অবশ্য চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে কার বিরুদ্ধে মামলা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মামলা করা হবে। এখন চলছে মামলার প্রস্তুতি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে করণীয় বিষয়ে গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মুস্তফা কামাল। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকর গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মামলার জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। আমাদের একজন আইনজীবী আছেন আর যুক্তরাষ্ট্রের একজন আইনজীবী আছেন। তাঁরা দুজনে বসে মামলার সময় ঠিক করবেন।’ তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেছে নিউ ইয়র্কে। তাই মামলা সেখানেই হবে। আমাদের আইনজীবী এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে কার বিরুদ্ধে কে মামলা করবে, তার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এ ছাড়া কয়জনকে আসামি, কয়জনকে বাদী করা হবে কিংবা কারা সাক্ষী তা দুই আইনজীবী বসে ঠিক করবেন।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রয়োজন হলে করব, না হলে করব না। মামলার আগে তদন্ত করা হলে মামলার দরকার কী? এ ছাড়া তদন্তে নেতিবাচক বা ইতিবাচক কী আছে আমি কিছু জানি না।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘যেসব আইনজীবী আমাদের পক্ষে লড়বেন, তাঁদের কমিশন অনেক বেশি। প্রতিটি আইনজীবীর একটি নির্দিষ্ট কমিশন থাকে। তবে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

গত ডিসেম্বরে তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছিলেন, রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে দুই প্রতিষ্ঠানকে আসামি করে মামলা করা হবে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। মূল আসামি আরসিবিসি হলেও ওই ঘটনার সঙ্গে অনেক দেশ জড়িত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কায় এবং আট কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনে জুয়ার আসরে। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত ফেরত এসেছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বাকি অর্থ ফেরত পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য