kalerkantho


দারুণ জয় রংপুর রাইডার্সের

মাসুদ পারভেজ, সিলেট থেকে   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



দারুণ জয় রংপুর রাইডার্সের

দিনের শেষে অপরাজিত ১৮ রানের অমূল্য এক ইনিংসের কাছে নিতান্ত মূল্যহীন ৮৫ রানের ইনিংসও।

আগের ছয় ম্যাচে মাত্র ৫৬ রান করা সাব্বির রহমানের চলতি বিপিএলে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ এই ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান তোলা সিলেট সিক্সার্সকে একাধিকবার ম্যাচে ফিরে এসেও শেষ পর্যন্ত হারের বেদনায় নীল হতে হলো। হতে হলো ফরহাদ রেজার ৬ বলে খেলা ১৮ রানের ইনিংসটির জন্যই। যা রংপুর রাইডার্সকে ৩ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটের জয়ই এনে দিল না শুধু, একই সঙ্গে হয়ে গেল ফরহাদের ‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত’ও!

এক ম্যাচ আগেই রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ঢাকায় শেষ ওভারে টানা চার বলে ব্যাটে লাগাতে না পারা এই অলরাউন্ডার রংপুরকে হারিয়ে রীতিমতো খলনায়কই বনে গিয়েছিলেন। কিন্তু কাল যখন শেষ ২ ওভারে জেতার জন্য ২৪ রান দরকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের, তখন ছোট্ট ইনিংসেই আবার জয়ের নায়কও হয়ে গেলেন তিনি।

সিলেটের বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানার করা ১৯তম ওভারটি শুরু হয় মাশরাফি বিন মর্তুজার মারা বাউন্ডারিতে। এরপর ফরহাদের বাউন্ডারি ও ছক্কায় রংপুরের জন্য সমীকরণ সহজ হয়ে আসে আরো। শেষ ওভারে সেই ফরহাদের ব্যাট থেকেই আসে জয়সূচক বাউন্ডারিও। তাতে রংপুরের শেষ চারে থাকার আশায়ও নতুন করে হয়েছে প্রাণের সঞ্চার। টানা তিন ম্যাচ হারা দলটি সপ্তম ম্যাচে পেল তৃতীয় জয়। সমসংখ্যক ম্যাচে পঞ্চম হারে পয়েন্ট টেবিলে সিলেটের অবস্থা অবশ্য শোচনীয়ই।

তাদের বিপক্ষে বিপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতল রংপুর। সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটিতেও আছে রংপুর রাইডার্সের নাম। ২০১৩ সালে তাদের ১৯৭ রানও নিরাপদ থাকেনি সিলেট রয়্যালসের কাছে। তবে এবার সিলেট সিক্সার্সের নিরাপত্তাহীনতার অনেকটা দায় তাদের নিজেদেরই। শূন্য রানে ক্রিস গেইলকে ফিরিয়ে দারুণ শুরুর পরও ম্যাচ থেকে তাদের ছিটকে যাওয়ার কারণ তাদের বাজে ফিল্ডিং।

এই আসরে ব্যাট হাতে একরকম একাই রংপুরকে টেনে আসতে থাকা রাইলি রুশোকে যে ২০ রানের মধ্যেই চারবার আউট করার সুযোগ হেলায় হারিয়েছে সিলেট। ১ ও ১২ রানে তাঁর ক্যাচ ফেলেছেন উইকেটরক্ষক জাকের আলী। ১৬ রানে প্রতিপক্ষের ভুলে রান আউট হতে হতেও বেঁচে যাওয়া রুশো ২০ রানেও জীবন পেয়েছেন আরেকবার। নিকোলাস পুরান সহজ ক্যাচ ফেলার পর রুশোও ম্যাচ সিলেটের হাতছাড়া করে নিতে থাকেন। তুলে নেন নিজের টানা দ্বিতীয় এবং টুর্নামেন্টে চতুর্থ ফিফটিও।

তবে এবার আর একা নন, পেয়ে যান সঙ্গীও। অ্যালেক্স হেলসকে নিয়ে (২৪ বলে ৩৩) ৩৯ বলে গড়েন ৬৩ রানের জুটি। এরপর প্রথম বিপিএল ম্যাচ খেলতে নামা এবি ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে ৩৮ বলে ৬৮ রানের আরেকটি জুটি। তাঁদের ব্যাটে যখন জয়ের তীরে পৌঁছাকে শুধুই সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে, তখনই সিলেটকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন প্রথম ২ ওভারে ২৫ রান দেওয়া তাসকিন আহমেদ। তাঁর বলেই দুইবার ক্যাচ পড়েছিল রুশোর। সেই রুশো আর ডি ভিলিয়ার্সের জুটি ভাঙতেই আবার তাঁকে বোলিংয়ে ফিরিয়ে আনেন সিলেট অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

ফিরে এসে প্রথম বলেই রুশোকে তুলে নেন তাসকিন, শেষ বলে ডি ভিলিয়ার্সকে। ওয়াইড বল তাড়ায় উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৩৫ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৬১ রানের ইনিংসে ম্যাচসেরা হওয়া রুশো। আর দুটি করে বাউন্ডারি আর ছক্কায় ২১ বলে ৩৪ রান করা ডি ভিলিয়ার্স হন বোল্ড। রংপুরকে তবু ম্যাচে রাখা মোহাম্মদ মিঠুন (১০ বলে ১৪) ও নাহিদুল ইসলামকেও (১৬ বলে ১৯) নিজের শেষ ওভারে তুলে নেন তাসকিন। ৪২ রান খরচায় এই আসরে দ্বিতীয়বারের মতো ৪ উইকেট নেন তরুণ ফাস্ট বোলার।

এরপরই দৃশ্যপটে ফরহাদ রেজা। রুশো-ডি ভিলিয়ার্সের জুটি ভাঙতে আগেভাগেই তাসকিনকে নিয়ে আসেন ওয়ার্নার। তাতে সফল হলেও তাসকিনের ৪ ওভারও শেষ হয়ে গিয়েছিল। ১৯তম ওভারে তাই মেহেদী হাসান রানাকে আনতে হয় সিলেট অধিনায়ককে। আর তাঁর ওপরই ঝড় বইয়ে দিয়ে রংপুরকে জয়ের নাগালেই শুধু নিয়ে যাননি ফরহাদ, জয়ের চৌকাঠও পার করিয়েছেন।

তাতে তাসকিনের বোলিং তো বটেই, দিনের শেষে বিফলে গেছে ৫ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কায় ৫১ বলে খেলা সাব্বিরের ৮৫ রানের ইনিংসটি। ১৮ রানের অমূল্য ইনিংসটির কাছে যা শেষ পর্যন্ত মূল্যহীনই।



মন্তব্য