kalerkantho


নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

আলোর পথে যাত্রায় চাই নৌকায় ভোট

তৈমুর ফারুক তুষার   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আলোর পথে যাত্রায় চাই নৌকায় ভোট

ফরিদপুরের কোমরপুর আব্দুল আজিজ একাডেমি মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশের সব উন্নয়ন ধ্বংস করে দেবে, খুন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-জঙ্গিবাদের মাধ্যমে দেশকে আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে। তাই দেশের মানুষ আর অন্ধকার যুগে ফিরে যেতে চায় না, দেশবাসী চায় নৌকায় ভোট দিয়ে আলোর পথেই এগিয়ে যেতে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে উন্নয়ন হবে। আমাদের রাজনীতি বিত্তশালীদের জন্য নয়, আমাদের রাজনীতি গরিব মেহনতি মানুষের জন্য।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের অন্ধকার থেকে আমরা আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছি, এই উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে যাত্রার ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে। সে জন্য আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করুন।’ তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ফরিদপুরে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন।

দুই দিনের নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে টুঙ্গিপাড়া থেকে বের হয়ে ঢাকায় ফেরার পথে সাতটি সমাবেশে বক্তব্য দেন। এসব সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে জনসাধারণকে ভোট দিতে অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী এ প্রচারণাকালে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেননি। তিনি ব্যক্তিগত মার্সিডিস বেঞ্জ গাড়িটি ব্যবহার করেন। গাড়িতে তিনি দলীয় পতাকা ব্যবহার করেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন টোল ও ফেরি পারাপারের সময় নির্দিষ্ট মাসুল পরিশোধ করেন। তাঁর বহরের ৩০টি গাড়ির সব কটিরই টোল পরিশোধ করা হয়।

গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে টুঙ্গিপাড়ার পৈতৃক বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণভবনে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে দোয়া, মোনাজাত করার পর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে পথিমধ্যে ফরিদপুরের মালিগ্রাম ভাঙ্গার মোড়, ফরিদপুরের কমরপুর মোড়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌরসভা মোড়, ধামরাই রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ এবং সাভার রোডে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী একাধিক সমাবেশে বলেন, ‘দেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছে, বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের ক্ষমতায় এনেছিল বলেই গত দশ বছরে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের রোল মডেল। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে প্রয়োজনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। দেশবাসীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আগামীতে দেশ উন্নয়নে পথে যাবে নাকি আবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে, জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাইয়ের জন্ম হবে। উন্নয়ন ও শান্তি চাইলে নৌকায় ভোট দিন।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যদি দেশের উন্নয়নের গতি আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাহলে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আরেকটিবার দেশসেবার সুযোগ দিন। একমাত্র নৌকাই দেবে উন্নয়ন, গতিশীলতা আর মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। নৌকা না থাকলে এসব থাকবে না, সব কিছু ধ্বংস করে দেবে।

তিনি বলেন, ‘খুনি, সন্ত্রাসী, বিদেশে অর্থপাচারকারী, অগ্নি সন্ত্রাসকারী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, স্বাধীনতাবিরোধী ও এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীরা আর যাতে ক্ষমতায় যেতে না পারে, দেশকে আবারও ধ্বংস করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত তরুণসমাজের জন্য উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনই আগামীতে আমাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তরুণসমাজ, বিশেষ করে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করুন

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রামে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহর নির্বাচনী এলাকায় সমাবেশে বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস, ডিসেম্বর নৌকার বিজয়ের মাস। এই আসনে আমরা নৌকার একজন প্রতিনিধি দিয়েছি। আপনারা তাঁকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন।’

ভোটারদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অনেকে অনেক প্রলোভন দেখাতে পারে। অনেক কথা বলতে পারে। কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী কিংবা মাদক কারবারি যাতে আপনাদের ভোট ছিনতাই করতে না পারে সে জন্য সবাই সতর্ক থাকবেন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। আপনার ভোট আপনি দেবেন, নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। সবাই মনে রাখবেন একটি ভোট এবং একটি আসনও আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান। একটি আসনের কারণেও হয়তো সরকার গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। সে কারণে যেখানে যাঁকে নৌকার প্রার্থী করেছি, তাঁদের ভোট দিয়ে আমাদের সরকার গঠন করতে সহায়তা করুন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল, অনেকে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। কিন্তু বিশ্বব্যাংক কোনো দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেছি। কোনো কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারলে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমি দেশবাসীর কাছে প্রত্যাশা করি, গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে সবাই নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন।’

উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা ওয়াদা দিয়েছেন নৌকায় ভোট দেবেন। আমিও ওয়াদা দিচ্ছি ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করব। দেশের মানুষের একটি ঘরও অন্ধকারে থাকবে না। প্রতিটি ঘর বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত হবে। প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করব। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবোই। আমরা ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। আমরা ক্ষমতায় থেকেই এটি পালন করতে চাই।’

ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়নাধীন

মালিগ্রামে সমাবেশ শেষ করে শেখ হাসিনা সড়ক পথে সোয়া ১২টায় ফরিদপুরের কমরপুরে পৌঁছান। সেখানে তিনি ফরিদপুর-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রায় ২০ মিনিটের বক্তব্যে শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। আগামী দিনে সরকারে আসতে পারলে তাঁর পরিকল্পনার কথাও জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফরিদপুরবাসীকে আমার কাছে কিছু চাইতে হয়নি কখনো। একসময় ফরিদপুরকে ফকিরপুর বলা হতো। কিন্তু এখানে আমরা এত উন্নয়ন করেছি যে ফরিদপুর এখন সত্যিই ফরিদপুর। ফরিদপুরকে বিভাগ করার বিষয়টি বাস্তবায়নাধীন। আসলে একটি জেলা নিয়ে তো একটি বিভাগ হয় না। আমরা আরো কয়েকটি জেলার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছি।’

বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরা ক্ষমতায় থাকতে দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ পর্যন্ত করেছে। এ কারণে বিএনপি নেত্রী দণ্ডিত হয়ে এখন কারাগারে।’ তিনি বলেন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস, বিদেশে অর্থপাচার, এতিমের টাকা আত্মসাৎ, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি—এটাই ছিল তাদের নীতি। আমরা ক্ষমতায় এসে পুরো বাংলাদেশেই ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এই উন্নয়নের মহাসড়কের গতি যেন চলমান থাকে, সেটাই আমার চাওয়া।’

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। কারণ মাদক শুধু তরুণ সমাজই নয়, একটি সমাজ, পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।’ তিনি সব অভিভাবক, শিক্ষক, মাদরাসার ইমামসহ সবার প্রতি বলেন, ‘আপনাদের সন্তান-ছাত্ররা মাদক কিংবা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে কি না, কে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে,  নজর রাখুন। চলমান সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানে সহযোগিতা করুন।

কমরপুরের সমাবেশে দুই জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়ক ফেরদৌস ও রিয়াজ নৌকার পক্ষে ভোট চান। ফেরদৌস বলেন, ‘মায়ের কোলে যেমন শিশুরা নিরাপদে থাকে, তেমনি শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে। আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে, যাতে দেশের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর কন্যাই থাকেন।’

নায়ক রিয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কারণ দেশের উন্নয়নের জাদুর কাঠি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই। তিনি সবাইকে হারিয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই এবারের ভোট শেখ হাসিনার পক্ষে, নৌকার পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষেই হোক।’

প্রয়োজনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করব

কমরপুরে সমাবেশ শেষ করে দৌলতদিয়া যান শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি এক সমাবেশে রাজবাড়ী-১ আসনে কাজী কেরামত আলী এবং রাজবাড়ী-২ আসনে জিল্লুল হাকিমকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েই তা মিথ্যা প্রমাণিত করেছি। পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করছি। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করছি। যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতুও করে দেব।’

দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার কোনো চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বাবা-মা, ভাইসহ সবাইকে হারিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছি, যাতে দেশের মানুষ একটু ভালো থাকে। দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটা উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ রেখে যেতে চাই। আগামীতে ক্ষমতায় এলে দেশের একজন মানুষের ঘরও অন্ধকার থাকবে না, কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। এ জন্য আরেকটিবার দরকার আওয়ামী লীগ সরকার। এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনাদের ভোট।’

মানিকগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম করব

দৌলতদিয়ায় সমাবেশ শেষ করে ফেরি পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে সমাবেশে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে মানিকগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এ এম নাইমুর রহমান দুর্জয়কে বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকায় দেবে উন্নয়ন, গতিশীলতা ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। নৌকা না এলে আসলে কিছুই থাকবে না, সব কিছু ধ্বংস করে দেবে।’ তিনি বলেন, ‘মানিকগঞ্জে অনেক মানিক আছে। আমরা তিনটি মানিক কুড়িয়ে এনেছি। নাইমুর রহমান দুর্জয় ক্রিকেটের একটি মানিক। তিনি আপনাদের এমপি। মমতাজ বেগম আরেকজন মানিক। তিনি গানের শিল্পী। তাঁদের দুজনকে নৌকা মার্কার প্রার্থী করেছি। তাঁদেরকে বিজয়ী করুন।’

বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন ঠেকানো এবং সরকার উত্খাতের নামে খালেদা-তারেক জিয়া হুকুম দিয়ে পাঁচ শ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অগ্নিসন্ত্রাস করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। কোনো সুস্থ মানুষ কোনো জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে না। দেশের মানুষের প্রতি এদের এতটুকু দরদ নেই, মানুষের ভালো তারা বোঝে না, শুধু ধ্বংস করতে জানে।’

মানিকগঞ্জের সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী ধামরাই এবং পরে সাভারে সমাবেশে অংশ নেন। ধামরাইয়ের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেনজির আহমেদকে ভোট দিতে আহ্বান জানান।

তৈরি পোশাক শিল্প অধ্যুষিত সাভারে সমাবেশে শেখ হাসিনা নৌকার প্রার্থী এনামুর রহমানকে ভোট দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় না এলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। মালিকরা হয়তো পরে নতুন কারখানা করবে। কিন্তু আপনারা কর্মহীন হবেন। আপনাদের বিপদ হবে। আমরা তা চাই না। আপনারা নৌকায় ভোট দিন। নৌকা আপনাদের উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রাখবে।’

সাভারের সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়।

 



মন্তব্য