kalerkantho

প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জটিলতার আশঙ্কা বিএনপির

৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির অনুরোধ

বিশেষ প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জটিলতার আশঙ্কা বিএনপির

আগামী ৯ ডিসেম্বর একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল বা জোটগুলোকে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের জানিয়ে দিতে হবে। কিন্তু ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা নিয়ে সংক্ষুব্ধদের আপিলের শুনানি রয়েছে। কমিশনের কাছে রিটার্নিং অফিসারের বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের আপিলের সঙ্গে বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও আপিল রয়েছে। এ অবস্থায় আপিলের রায় না পাওয়া পর্যন্ত কিছু আসনে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা করছে।

এই জটিলতা এড়াতে গতকাল বুধবার বিএনপি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে আপিল নিষ্পত্তির কাজ ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করার অনুরোধ করেছে। একই সঙ্গে আবারও বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ দাবি জানায়। এ সময় তাঁরা এসব বিষয়ে চারটি চিঠি হস্তান্তর করেন।

নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। গতকালও নির্বাচন কমিশনে দেওয়া চিঠিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করে দলটি বলেছে, ‘নির্বাচনী মাঠে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য  এবং ভয়ভীতিহীন পরিবেশে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গায়েবি অজুহাতে অন্যায় আটক,  গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার ও পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে বাম্পার ফলন দেখিয়েছে।’

বিএনপির আরেক চিঠিতে বলা হয়, ‘আপিল নিষ্পত্তি বিলম্বের জন্য ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দলের প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণে জটিলতা সৃষ্টি হবে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে কষ্টসাধ্য হবে। এ অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের স্বার্থে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণের সুবিধার্থে ৬ ও ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই কিংবা অতি দ্রুততার সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এ ছাড়া অন্য একটি চিঠিতে বিএনপি প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে কিছু বিষয় স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। আরপিওর ১৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে একটি আসনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের দুই বা ততোধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ফরম আছে কি না এবং ফরম না থাকলে দলের প্যাডে পত্র আকারে দেওয়া বৈধ বা গ্রহণযোগ্য হবে কি না সে বিষয়টি জানতে চেয়েছে দলটি।

আরপিওর ২০ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের একক প্রতীক বরাদ্দের চিঠির কোনো নির্দিষ্ট ছক আছে কি না, না থাকলে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি কমিশনে নাকি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে দিতে হবে সে বিষয়টিও জানতে চেয়েছে বিএনপি।

চিঠিতে আরো বলা হয়, কোনো কোনো আসনে দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের একাধিক বৈধ প্রার্থী রয়েছে। দলগুলো যৌথভাবে একক প্রার্থী ও প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যথাসময়ে কমিশনে চিঠি দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরপিওর ২০ (১) অনুচ্ছেদের বিধান মতে যেকোনো একজন বৈধ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দিলে জোটভুক্ত অন্য দলগুলোর বৈধ প্রার্থীর প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে কি না, অথবা জোটভুক্ত দলগুলোর যেকোনো একজন বৈধ প্রার্থীকে জোটের প্রধান দল হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর জোটভুক্ত অন্যান্য দলের বৈধ প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, বিএনপিসহ মোট ১১টি দলকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে রেখেছে দলটি। বিএনপি ছাড়াও অন্য দলগুলো হচ্ছে গণফোরাম, জেএসডি (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, এলডিপি (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

মন্তব্য