kalerkantho


সেনাপ্রধান বললেন

জাতীয় প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে

মাতৃভূমির অখণ্ডতা রক্ষা তথা জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে সব সময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

গতকাল রবিবার সকালে সাভার সেনানিবাসে অ্যাডহক ১১ বীরকে (মেকানাইজড) রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই আহ্বান জানান।

স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, ডেভেলপিং কান্ট্রির এই যে স্ট্যাটাস পেয়েছি, সেটা ২০২৪ সালের মধ্যে পার্মানেন্ট করতে হলে বর্তমানে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো, শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে সে অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে।’

উন্নয়নশীল দেশের স্থায়ী মর্যাদা পাওয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে এই অগ্রযাত্রার অংশীদার হিসেবে সরকার যেকোনো দায়িত্ব দিলে সেটা পালন করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকার কথাও জানান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দেশে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য যে পরিবেশ দরকার সেই পরিবেশ রক্ষায় আমাদের যদি কোনো দায়িত্ব পালন করার দরকার হয়, আমরা সে দায়িত্ব পালন করব।’

আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েনের বিষয়টি উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা অতীতেও এই দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সেই দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করব, যেন শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।’

এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান সাভারের সিএমপিসি অ্যান্ড এসের প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে তাঁকে স্বাগত জানান প্রিন্সিপাল স্ট্যাফ অফিসারগণ, জ্যেষ্ঠ অফিসারগণ, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. আকবর হোসেন।

এরপর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাডহক ১১ বীরকে (মেকানইজড) রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করেন সেনাপ্রধান। রেজিমেন্টাল কালার পাওয়ার বিরল সম্মান ও গৌরব অর্জন করায় রেজিমেন্টের সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি। এ ছাড়া কর্মদক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম ও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জিত পতাকার মর্যাদা রক্ষার জন্য তাঁদের যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে সব সময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন সেনাপ্রধান। অনুষ্ঠান শেষে সেনাবাহিনী প্রধান আশুলিয়ার নবীনগর এলাকায় সাভার সেনা শপিং কমপ্লেক্স ও খেজুরটেক রেসিডেনশিয়াল এরিয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া সাভার ডিওএইচএসের ভেতরে সেনা স্কুল ও কলেজ, লেক-১, লেক-২ ও কেন্দ্রীয় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

 



মন্তব্য