kalerkantho


খাশোগি হত্যা

সৌদির ‘গল্পে’ অবিশ্বাস ক্রমেই বাড়ছে

খুনিদের বিচার দাবি বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সৌদির ‘গল্পে’ অবিশ্বাস ক্রমেই বাড়ছে

সৌদি রাজপরিবারের সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাশোগির খুনের ঘটনায় রিয়াদ যে ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে, তার প্রতি অবিশ্বাস ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে এই প্রশ্ন বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে খুন হওয়া খাশোগির লাশ কী করা হয়েছে?

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যাওয়া খাশোগি বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তুরস্ক শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, খাশোগিকে কনস্যুলেট ভবনে সৌদি এজেন্টরা হত্যা করেছে। রিয়াদ দুই সপ্তাহ ধরে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও গত শনিবার খাশোগি খুন হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে একটি বিবৃতি দেয়। কিন্তু বিবৃতিতে খুনের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া খাশোগির লাশ কী করা হয়েছে, সে বিষয়েও কিছু বলেনি সৌদি আরব। তবে তুরস্ক ঘোষণা দিয়েছে, খাশোগির সঙ্গে যা যা হয়েছে, তার সবই তারা উদ্ঘাটন করে ছাড়বে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খাশোগি সৌদি আরবে ফিরতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছিল। এই নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে কয়েকজন কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের কথাবার্তা প্রত্যাশিত পরিস্থিতির দিকে এগোয়নি; বরং খাশোগির সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের মারামারি বেধে যায়। আর ওই মারামারিতে তিনি খুন হন।’

রিয়াদের এমন ‘কাহিনি’ বিশ্বাস করতে নারাজ জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, তুরস্কসহ অনেক দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘খাশোগি খুন হওয়ার ব্যাপারে সৌদি আরবের স্বীকারোক্তি ইতিবাচক।’ কিন্তু এর ঘণ্টা কয়েক পর তিনি নিজের অবস্থান থেকে খানিকটা সরে গিয়ে বলেন, ‘আমি আরো প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই। তার আগে আমি সন্তুষ্ট হতে পারব না।’ যদিও সৌদি আরবের ব্যাখ্যায় সন্তোষ জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, কুয়েত ও ওমান।

যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট বিষয়ক (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আলাদা হওয়ার প্রক্রিয়া) মন্ত্রী ডমিনিক রাব গতকাল বিবিসিকে বলেন, ‘আমার কাছে সৌদির ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তারা যা বলছে, তাতে বড় বড় অসংগতি রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের যে ঘোষণা তুরস্ক দিয়েছে, আমরা তা স্বাগত জানাই। এ ছাড়া ব্রিটিশ সরকার প্রত্যাশা করে, এ ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’

গতকাল তুরস্কের ক্ষমতাসীন ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’র (একেপি) মুখপাত্র ওমার সেলিক বলেন, ‘আমরা আগ বাড়িয়ে কাউকে অভিযুক্ত করছি না। কিন্তু মনগড়া কোনো কাহিনি আমরা মানব না। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের ব্যাপারে আমরা শ্রদ্ধাশীল।’

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভস লা দ্রিয়ান বলেন, ‘এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা রয়ে গেছে।’ অন্যদিকে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। একই আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক ফেডেরিকা মোগারিনি।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, ‘আমরা খাশোগির খুনের ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি। এ ছাড়া খুনের ঘটনার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তাতে অসংগতি রয়েছে। আমরা চাই, হত্যায় জড়িতদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হোক।’

‘সৌদি নতুন নতুন গল্প বানাচ্ছে’—এমন অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, সৌদি কর্মকর্তারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, খাশোগির খুনের ঘটনার সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে এ ঘটনায় তুরস্ক যাঁদের সন্দেহ করেছে, তাঁদের একজনের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ঘটনায় জড়িতদের একজনকে প্রায়ই যুবরাজের সঙ্গে দেখা যায়। তিনজন আছেন, যাঁরা যুবরাজের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করেন। আর ঘটনায় জড়িত আরেকজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। সূত্র : এএফপি।

 

 



মন্তব্য