kalerkantho


জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ

শৃঙ্খলা-নিরাপত্তার উল্টো পথে সড়ক

পার্থ সারথি দাস   

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



শৃঙ্খলা-নিরাপত্তার উল্টো পথে সড়ক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত জুলাই ও আগস্টে ৯ দিন ধরে দেশ কাঁপানো আন্দোলন করেছিল খুদে শিক্ষার্থীরা। ওই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক নিরাপদ করতে সরকারি উদ্যোগের ঝড় উঠেছিল। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিষদ ও কমিটি সভা ও নির্দেশনা জারি করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও বিআরটিএ অভিযানে নামে। তবে এত ছোট-বড় উদ্যোগের পরও সড়কে প্রাণহানি থামেনি, আসেনি শৃঙ্খলাও।

রাজধানীতে পাম্প থেকে তেল না পাওয়ার ভয়ে অবশ্য মোটরসাইকেল চালক ও সহযাত্রীদের হেলমেট পরার হার বেড়েছে। কিন্তু রেষারেষি করে পাল্লা দিয়ে বাস চালানো বন্ধ হয়নি। ১২১টি স্থান চিহ্নিত করা হলেও সেসব স্থানে বাস থামানো হচ্ছে না। দরজা বন্ধ রেখে বাস চালানোর হার বাড়েনি। বাসের ভেতরে প্রদর্শন করা হচ্ছে না চালকের লাইসেন্সের কপি। অথচ এসব বিষয় মেনে চলতে ছিল কঠোর সরকারি নির্দেশনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং তদারকি বাড়ানো হয়। মূলত পরিবহন খাতের নেতাদের অসহযোগিতায় বেশির ভাগ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

সড়কে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে গত ১৯ সেপ্টেম্বর। এই আইনে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন অপরাধের জরিমানা। অপরাধ জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। আইনটি যাতে অনুমোদন না পায় সে জন্য গত সাত বছর সরকারকে চাপে রেখেছিলেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। এই আইন পাস হওয়ার পর এখন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা অপরাধ জামিনযোগ্য করতে এবং বিভিন্ন অপরাধের জরিমানা কমাতে আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ধর্মঘটে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এ জন্য দেশের বিভিন্ন বিভাগে সমাবেশ করছে। সরকার দাবি না মানলে ফেডারেশন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাবে।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারকে ভোট ব্যাংকের লোভ দেখিয়ে এবং ধর্মঘটের চাপে ফেলে নতুন আইনের বিভিন্ন শাস্তি লঘু করতে চাইছেন পরিবহন নেতারা।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ ২২ অক্টোবর। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, ৯০ শতাংশ মানুষই আইন মানে না। এ কারণে এবার এ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আইন মানি নিরাপদ সড়ক গড়ি’। এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আলোচনাসভা হবে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমপ্লেক্স মিলনায়তনে। শোভাযাত্রা বের করা হবে সকাল সাড়ে ১০টায় মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তবে দিবসটির প্রাক্কালে ঢাকার সড়কের চিত্র সরেজমিন দেখে হতাশ হতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর গত ১৮ আগস্ট ১৭টি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নৈরাজ্য কমছে না। কারণ সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ করার লক্ষ্যে ঢাকায় কম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় দেওয়া হয়েছে দুই বছর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট কম্পানি ও নির্দিষ্ট রুটে বাস চললে রেষারেষি ও প্রতিযোগিতা করে বাস চালানো বন্ধ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে গঠিত কমিটির সদস্য ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভুইয়া কালের কণ্ঠকে জানান, রাজধানীতে নতুন চার হাজার বাস নামানো এবং কম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প ছক (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। এ জন্য নতুন গঠিত উপকমিটি আগামী ২৩ অক্টোবর বৈঠক করবে।

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১২, মিরপুর-১০, আগারগাঁও, গুলিস্তান, কাকরাইল, পল্টন, ফার্মগেট, নতুন বাজার, কুড়িলসহ সবখানেই সড়কের ওপর আড়াআড়ি করে বাস রাখতে দেখা গেছে। বাসের ফাঁক দিয়েই চলাচল করছে পথচারী ও যাত্রীরা। যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা হয়েছে। মিরপুর ১২ নম্বরে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭১৯৮) চলতে গিয়ে দেখা গেল, নির্দিষ্ট স্থানে থামছে না বাসটি। বাসের ভেতর কোথাও চালক ও তার সহকারীর ছবিসহ নাম, চালকের লাইসেন্স নম্বর, মোবাইল নম্বর টাঙানো নেই। অথচ গত ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তাতে বাসের ভেতরে দৃশ্যমান দুটি স্থানে এসব প্রদর্শনের নির্দেশনাও ছিল। বাসে দেখা গেল, ভাড়ার সরকারি হার লেমিনেট করে টাঙানো আছে চালকের সামনে। তবে যাত্রীদের তা দেখার সুযোগ নেই। বাসের চালক দিনু মিয়া বলেন, এ নির্দেশনার বিষয়টি তিনি জানেন না। চালকের সহকারী দীন ইসলাম বলেন, তিনিও বিষয়টি জানেন না। নির্দেশনা না মেনে বাসের দরজা খোলা রেখেই চালানো হচ্ছিল। আগারগাঁওয়ে চলন্ত বাসেই দৌড়াতে দৌড়াতে ওঠেন মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘দরজা খোলা থাকে বলেই উঠি, বাসের অভাব।’ 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সব মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে বাধ্যতামূলক হেলমেট পরিধান ও সিগন্যালসহ ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করার নির্দেশনা ছিল। ডিএমপি গত মাসের শুরুতে নির্দেশনা দেয়, হেলমেট ছাড়া পাম্প থেকে তেল দেওয়া হবে না। এতে হেলমেট ব্যবহার বেড়েছে।

সব সড়কে, বিশেষত মহাসড়কে চলমান সব পরিবহনে (বিশেষত দূরপাল্লার বাসে) চালক ও যাত্রীর সিটবেল্ট ব্যবহারের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। গতকাল রাজধানীর বিজয় সরণিতে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মাত্র ছয়টি প্রাইভেট কারে সিটবেল্ট ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

ঢাকা শহরের যেসব স্থানে ফুট ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস রয়েছে, সেসব স্থানের উভয় পাশে ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করা কিংবা ফুট ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাসগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও বাস্তবায়িত হয়নি। গতকাল কাকলী, বনানী, বাড্ডা লিংক রোড, হাজি মার্কেটের সামনে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে দেখা গেছে হাতে গোনা কয়েকজনকে। আন্ডারপাসগুলোতে লাইট, সিসিটিভি স্থাপনসহ আন্ডারপাস ব্যবহার করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি। ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের তৎপরতা এ ক্ষেত্রে নেই বললেই চলে।

গত ১৮ আগস্টের মধ্যে ঢাকা শহরের সব সড়কে জেব্রাক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করা, ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা, সব সড়কের নামফলক দৃশ্যমান স্থানে সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ডিএনসিসি ও ডিএসসিসিকে। এ ক্ষেত্রে জেব্রাক্রসিং ও সড়কে সংকেত চিহ্নিত করার অগ্রগতি আছে। অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদে অগ্রগতি কম।

গত ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি। ঢাকায় রিমোট কন্ট্রোলড অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগন্যালিং পদ্ধতিও চালু হয়নি। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা শহরের সব সড়কের রোড ডিভাইডারের উচ্চতা বাড়ানোর নির্দেশনা ছিল। কমলাপুর, শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁশ দিয়ে সড়কদ্বীপের উচ্চতা বাড়াতে দেখা গেছে। বেশির ভাগ স্থানে এর কোনো অগ্রগতি নেই। মহাখালী ফ্লাইওভারের পর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত (আপ এবং ডাউন) ন্যূনতম দুটি স্থানে স্থায়ী মোবাইল কোর্ট বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত দৈবচয়নের ভিত্তিতে যানবাহনের ফিটনেস এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করার নির্দেশনা ছিল। অভিযান এ নিয়মে পরিচালনা করা হচ্ছে না।

ঢাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি বা শুরু হওয়ার সময় জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী, স্কাউট ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা ছিল। প্রথম দিকে কাকলী, মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় তা ছিল। এই কর্মসূচি বিস্তৃত হয়নি।

বিআরটিসির ৯৪০ বাস ফিটনেসহীন : রাজধানীতে বিআরটিসির প্রায় ৫৫০টি বাস চলাচল করে। এসবের মধ্যে ৪৩০টি বাস দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। সারা দেশে ৯৪০টি বাসের ফিটনেস হালনাগাদ করা ছিল না ২০১৪ সাল থেকে। এ জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। বিআরটিসির চেয়ারম্যান বলেন, ফিটনেস হালনাগাদ করতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সড়কে ফুটপাত ঘেঁষে দোতলা ও একতলা বাস দাঁড় করানো এবং আইন মানতে সব ডিপো ব্যবস্থাপক চালকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছেন। খুদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর ৭০ জন নতুন বাসচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরো ৫০০ চালক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত ২৯ জুলাই। তার আগে ঈদুল ফিতর মৌসুমে সড়কে প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২৫ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে সড়ক নিরাপত্তার ১৫টি বিষয় উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কোনো চালকের টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালানো, দূরপাল্লার যানবাহনে বিকল্প চালক রাখার নির্দেশনাও ছিল। এ নির্দেশনার শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এগুলো বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বৈঠক করে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের কমিটি করেছিল। মহাসড়কে বিশ্রামাগার নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি আছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিশ্রামাগার স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ আগস্ট সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের ৪২তম সভায় ২০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। যেমন সড়ক ও মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজি বাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও লেগুনা চলাচল বন্ধ করতে বলা হয়েছিল পুলিশকে। তার পরও এগুলো চলছে। ঢাকার প্রধান সড়কে গত মাসের প্রথম দিকে লেগুনা চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল পুলিশ, তাও চলাচল করছে।

সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের অননুমোদিত অ্যাঙ্গেল, হুক ও বাম্পার। এগুলো অপসারণ করা হয়েছে ৯০ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান উদ্যোগী হয়ে বৈঠক করেন গত আগস্টে। গঠিত হয় কমিটি। ওই কমিটি ঢাকা মহানগরসহ দেশের ট্রাফিকব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণের সব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করছে।

অভিযানে জরিমানা বেড়েছে : ঢাকায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ডিএমপি ও বিআরটিএ। নির্বাহী হাকিম বাড়িয়ে ১১ জন করেছে বিআরটিএ। ডিএমপির তথ্যানুসারে, আইন অমান্য করায় গত মাসে পুলিশ এক লাখ ৭২ হাজার ৬০০ মামলা করে। ফিটনেস না থাকায় সাত হাজার ৬২৮, রুট পারমিট না থাকায় ছয় হাজার ৪৯৫, ড্রাইভিং লাইসেন্সসংক্রান্ত ৩০ হাজার ৫৬৪, উল্টো পথে গাড়ি চালানোয় ১৩ হাজার ৮৮, মোটরসাইকেল চালানোয় ৬৫ হাজার ৮০৩টি মামলা হয়। ভিডিও মামলা হয় ১৯ হাজার ৩০৪টি। জরিমানা আদায় করা হয় ১৪ কোটি ১৯ লাখ ৪৭৯ টাকা। একই সময়ে বিআরটিএ ঢাকায় চার হাজার ৮৩২ মামলা এবং প্রায় ৯৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে। ৪৬ জনকে কারাদণ্ড দেয়।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এস এম সালেহ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকায় প্রায় ৩০০ রুটে ২৪৬ কম্পানির বাস চলে। ৩০৬ বর্গকিলোমিটারের ঢাকা মহানগরে রুট ও কম্পানি নির্দিষ্ট করা সমীচীন। এটা না হলে শৃঙ্খলা আসবে শুধু মামলায়।

ফুট ওভারব্রিজ রং করা হয়েছে : গতকাল ঘুরে দেখা গেছে, পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এ মাসের শুরুতে শাহবাগে শিশু পার্কসংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজ রং করা হয়েছে। ডিএসসিসি এ উদ্যোগ নিয়েছে। সেখান থেকে হকার ও ভবঘুরেদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে আবার ভবঘুরেরা সেখানে অবস্থান নিয়েছে। ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর অধীনে ১৭টি ফুট ওভারব্রিজের আটটিতে রং করার কাজ শেষ হয়েছে।

 



মন্তব্য