kalerkantho


আজ শুরু ‘জয়ে’র সিরিজ

শিকার এখন শিকারি

নোমান মোহাম্মদ   

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



শিকার এখন শিকারি

সাকিব-তামিম না থাকায় অনেক দায়িত্ব এখন মুশফিকুর রহিমের ওপর। ছবি : কালের কণ্ঠ

যমের ভ্রুকুটি হানত তারা বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে। নব্বইয়ের দশকে শুরু এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই দলের মুখোমুখি প্রথম ১০ ওয়ানডেতেই তো জয় জিম্বাবুয়ের। সময়টা কিভাবেই না বদলে গেছে ক্রমশ! বিশেষত নতুন শতকের এই দশকে। শিকার রূপান্তরিত এখন শিকারিতে। দ্বৈরথের সর্বশেষ ১০ লড়াইয়ে বিজয়ীর নাম তাই বাংলাদেশ।

আজ থেকে শুরু ওয়ানডে সিরিজে তাই সংশয়াতীত ফেভারিট হিসেবে নামছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। সে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল না থাকলেই-বা কী! মাত্রই খেলে আসা এশিয়া কাপে তো এই দুই মহাতারকাকে ছাড়াই ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানকে হারানো, ভারতের কালঘাম ছুটিয়ে দেওয়া সেই দলের সামনে জিম্বাবুয়ে কোন ছার!

দুই দলের মুখোমুখি প্রথম ও সর্বশেষ ১০ ওয়ানডের ফলে যেমন বৈপরীত্য, সাম্প্রতিক ফর্মেও তাই। সর্বশেষ ১০ ওয়ানডেতেই হেরেছে জিম্বাবুয়ে। নিজেদের দশে বাংলাদেশের বিজয়রথ ছোটেনি অপ্রতিরোধ্য গতিতে। জিতেছে মোটে অর্ধেক, মানে পাঁচ ম্যাচ। তবে যখন জানবেন, এই সময়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এসেছে, উঠেছে এশিয়া কাপের ফাইনালে— তখন ওই পাঁচও আলাদা গুরুত্বের দাবিদার। তার ওপর আবার খেলাটি বাংলাদেশে। যেখানে সর্বশেষ ১৩ ম্যাচেই স্বাগতিকরা হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। বাংলাদেশ সফরে এসে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও বিসিবি একাদশের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ তাদের। দ্বৈরথের আগে তাই আফ্রিকান দেশটির জন্য নেই অনুপ্রেরণার বার্তা।

জিম্বাবুয়েকে বাংলাদেশ উড়িয়ে দেবে—এমন আবহ নিয়েই সিরিজ শুরু হচ্ছে আজ।

কিন্তু ক্রিকেট তো আর এসব তথ্য-পরিসংখ্যানে চলে না। নির্দিষ্ট দিনের খেলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তা জানেন। জানেন বলেই কাল সংবাদ সম্মেলনে তাঁর অমন উপলব্ধি, ‘ওদের বিপক্ষে জিতলে সবাই হয়তো বলবে, এটাই হওয়ার কথা ছিল। হারলে কিন্তু ভিন্ন কথা হবে।’ সাকিব-তামিম না থাকার পরও অমনটা হওয়ার আশঙ্কায় কিছুটা চাপে থাকার কথা মেনে নেন তিনি, ‘এশিয়া কাপে ওদের দুজনকে ছাড়া যে ক্রিকেট খেলে এসেছি, এরপর এই ধরনের সিরিজে খারাপ করলে অনেক কথা ওঠে। এমন ভাবনা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ওই জায়গাটায় কাজ করা প্রয়োজন। এমন তো না যে জিম্বাবুয়ের কাছে আমরা কখনো হারিনি বা হারতে পারব না।’ কাগজ-কলমে প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও সতীর্থদের প্রতি মনপ্রাণ উজাড় করে খেলার তাগিদ অধিনায়কের, ‘সবার প্রত্যাশা, আমরা জিতব। এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, অন্য দলের সঙ্গে যে চ্যালেঞ্জটা নিয়ে খেলেছি, গত এশিয়া কাপে যেভাবে খেলেছি—এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। ওদের প্রায় সব সিনিয়র ক্রিকেটার দলে ফিরেছে। আর দেশের বাইরে জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে ভালো রেকর্ড বাংলাদেশেই। আমাদের তাই একশ ভাগ দিয়েই খেলতে হবে।’

দলের দুই মহাতারকা নেই। যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের সামনেও ব্যক্তিগত লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছেন অধিনায়ক। আর ক্রিকেটারদের অমন লক্ষ্য পূরণ হলেও দল হিসেবেও ভালো না করার কারণ নেই। ‘এখানে একজন যদি সেঞ্চুরি করে সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেঞ্চুরি হিসেবেই গণ্য হবে। কেউ পাঁচ উইকেট পেলে পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব হিসেবেই ধরা হবে। যে প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলি না কেন, এগুলো করা কঠিন। অমন অর্জনের জন্য ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনুপ্রাণিত করতে হবে।’ পূর্ণশক্তির জিম্বাবুয়ে দল আসায় তা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সহায়ক বলেও মনে হচ্ছে মাশরাফির কাছে, ‘আমাদের জন্য এই সিরিজটা গুরুত্বপূর্ণ। ওরা সেরা দল পাঠিয়েছে বলে আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে এমন চারটি সিরিজ আছে। আমরা তাতে প্রস্তুতি নিতে পারব।’

রেকর্ড-পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থাকলেও সিরিজ মাঠে গড়ানোর আগে হার মেনে নিচ্ছে না জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজার প্রত্যাশা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজের, ‘আমরা বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি খেলেছি। প্রতিপক্ষ এবং কন্ডিশনের সঙ্গে অন্য অতিথি দলগুলোর চাইতে বেশিই পরিচিত। তাই দল হিসেবে আমাদের বেশ ভালো একটা সুযোগ আছে, বিশেষ করে বলা যায় অন্য যেকোনো প্রতিপক্ষের চেয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষেই আমাদের ভালো করার সম্ভাবনা বেশি। আমার তো মনে হয় সিরিজটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে।’ এরপর তো নিজেদের এমনকি ফেভারিট হিসেবেও রায় দেন, ‘বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে। তাদের বিপক্ষে আমরাও বেশ অনেকবারই খেলেছি, আমাদের সামনেও ভালো একটা সুযোগ। ফেভারিট তকমাটা আমি জিম্বাবুয়েকেই দেব।’

বলে হাসেন মাসাকাদজা। মুখে নিজেদের ফেভারিট বলছেন বটে, কিন্তু তা কি আর বিশ্বাস করেন! বাংলাদেশ যে শিকার থেকে শিকারি হয়ে উঠেছে, সেটি তো জিম্বাবুয়েরও অজানা নয়।



মন্তব্য