kalerkantho


ওবায়দুল কাদের বললেন

জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ঐক্যে জনগণের কিছু আসে যায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ঐক্যে জনগণের কিছু আসে যায় না

ফাইল ছবি

জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এই জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ঐক্যে বাংলাদেশের জনগণের কিছু আসে যায় না। এ নিয়ে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তাও নেই। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। তারা আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে নৌকায় ভোট দেবে, শেখ হাসিনাকে ভোট দেবে।’ তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করতে অনেকে যোগাযোগ করছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অলরেডি আমাদের সঙ্গে দেখা করেছে জাকের পার্টি, সাতদলীয় বাম জোট—অফিসে এসে একটি আবেদন রেখে গেছে। তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করতে চায়। ইসলামী ফ্রন্টের বাহাদুর শাহ, তিনিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে শামিল হতে চান। প্রতিদিনই দু-একটি দল আবেদন বা দেখা করে তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করছে। তবে আমরা এখনো এ বিষয়ে মুখ খুলছি না। সবার কথা শুনছি। আমাদের নেত্রী দেশে ফিরলে কার্যনির্বাহী সংসদে বসে সিদ্ধান্ত নেব কাকে আমরা জোটে নেব, কাকে নেব না। আমাদের অলরেডি এদিকে ১৪ দল, ওই দিকে জাতীয় পার্টি আছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টিও আমাদের সঙ্গে মহাজোট করেছে। সবাইকে নিয়ে একটা কিছু করলে নির্বাচনী মহাজোট হতে পারে। সেটা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর, মেরুকরণের ওপর। আমরা জোটের পরিসর বাড়াব, কী বাড়াব না। অথবা জোটবদ্ধ নির্বাচন করব কি না—এটা আরো কয়েক দিন পরে সিদ্ধান্ত নেব।’

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘অলি আহমদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করতে চান এমন কোনো কথা হয়নি। আর বদরুদ্দৌজা চৌধুরী সাহেবের যে যুক্তফ্রন্ট সেখানে তারা নিজেরাই বোধহয় একটি জোট করার চিন্তাভাবনা করছে বলে আমি যতটুকু জানি।’ আরো জোট হলে তাতে অসুবিধার কিছু নেই মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভালোই তো, আরো জোট হলে অসুবিধা তো নাই। ১৪টা হয়েছে, ২০-২৫টা হলে অসুবিধা তো নাই।’

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জোটের ভাঙা-গড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই গড়ছে-ভাঙছে। মেকিং-ব্রেকিং দুটি বিষয় সমানে চলছে। শেষ পর্যন্ত পোলারাইজেশন। এরপর কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে অ্যালায়েন্সের সমীকরণ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।’

নির্বাচনে ভারত নাক গলাতে চায় না : গতকাল রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনে সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারত চায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক। তারা বাংলাদেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করে। আমাদের নির্বাচনে নাক গলানোর মতো কোনো ভূমিকা পালন করতে চায় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘শ্রিংলার সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি। তাঁরা আগে থেকেই বাংলাদেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশের নির্বাচনে জনগণের চাওয়া প্রতিফলিত হবে, এটাই গণতন্ত্রিক একটি দেশ হিসেবে ভারত প্রত্যাশা করে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগ চেয়ে বুধবার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্য আওয়ামী লীগের দলীয় বক্তব্য নয়। তিনি বলেন, ‘মাহবুব তালুকদারের বিষয়টি নিয়ে কেন এত হৈচৈ? আমি এটা জানি না। একজন একটি বিষয় ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন। এতে কি নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে? আমি তো মনে করি ভিন্নমত পোষণ করার অধিকার যেকোনো নির্বাচন কমিশনারের রয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, তাঁর (মাহবুব) সঙ্গে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের ভিন্নমত হয়েছে। তাতে করে নির্বাচন কমিশনে কোনো সংকট তৈরি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমরা কেন নির্বাচন কমিশনে কারো পদত্যাগ দাবি করব! আমি এবং আমাদের দল এ ধরনের কোনো চিন্তাভাবনাও করেনি। এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের বিষয়। আমরা যখন দলীয় সভায় অংশগ্রহণ করি, তখন কি সবাই এক ইস্যুতে একমতে মিলিত হতে পারি? এখানে তো নির্বাচন কমিশন সেখানে ভিন্নমত হতেই পারে।’



মন্তব্য