kalerkantho


‘শেষ লেখাতেও’ মত প্রকাশের স্বাধীনতা চেয়েছেন খাশোগি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



‘শেষ লেখাতেও’ মত প্রকাশের স্বাধীনতা চেয়েছেন খাশোগি

নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিজের ‘শেষ নিবন্ধেও’ সৌদিসহ আরব বিশ্বের মত প্রকাশের স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের জন্য লেখা ওই নিবন্ধে তিনি বলেছেন, আরব বিশ্বে যে ‘লোহার পর্দা’ দেখা যাচ্ছে, তা কেবল বাইরের শক্তিই চাপিয়ে দেয়নি; বরং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে সেখানকার অভ্যন্তরীণ শক্তি এই পর্দা তৈরি করেছে।

সৌদি বংশোদ্ভূত সাংবাদিক খাশোগি মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের হয়ে নিবন্ধ লিখতেন। তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর থেকে তিনি নিখোঁজ। তুরস্ক সরকারের দাবি, খাশোগিকে কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি এজেন্টরা হত্যা করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোও বলছে, তাঁকে হত্যার বিষয়টি ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আল-আরব নিউজ চ্যানেলের সাবেক প্রধান সম্পাদক খাশোগি গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ছেড়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে যান।

গতকাল নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার আগে খাশোগি একটি নিবন্ধ তাঁর সহকারীকে দিয়েছিলেন। সেটিই ছাপা হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টে। শিরোনাম ছিল ‘আরব বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মত প্রকাশের স্বাধীনতা’। নিবন্ধটির শুরুতে একটি মুখবন্ধ লিখেছেন ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদক কারেন আটিয়া। সেখানে তিনি জানান, খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার এক দিন আগে নিবন্ধটি তাঁর এক সহকারী ও অনুবাদকের মাধ্যমে ওয়াশিংটন পোস্ট হাতে পায়।

প্রায় ৭০০ শব্দের ওই নিবন্ধে খাশোগি বলেছেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে আরব বিশ্বের অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলো নিজ নিজ জনগণের ওপর ‘লোহার পর্দা’ চাপিয়ে রেখেছে।

সম্প্রতি রাজনৈতিক অধিকার ও বেসামরিক নাগরিকদের স্বাধীনতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘ফ্রিডম হাউস’ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সেখানে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ আরব রাষ্ট্রের মানুষ এ ধরনের অধিকার পায় না। খাশোগি নিজের ‘শেষ নিবন্ধে’ ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, আরব বিশ্বের রাষ্ট্রযন্ত্রগুলো গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে রাখলেও এর বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিবাদ দেখা যায় না। সাধারণ মানুষ সব সময় ভয়ে চুপ করে থাকে। সোভিয়েত আমলে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ‘রেডিও ফ্রি ইউরোপের’ মতো আরব বিশ্বের জন্য কিছু বানানো যায় কি না, তা বিবেচনা করার কথাও বলেন খাশোগি।

উল্লেখ্য, এই সাংবাদিক একসময় সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা ছিলেন। তাঁকে অঘোষিত মুখপাত্রও বলা হতো। পরের দিকে ইয়েমেনের যুদ্ধ, সৌদিতে নারী আন্দোলনকর্মীদের বন্দি করা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা ইস্যুতে রিয়াদের সমালোচনা শুরু করেন তিনি। কিন্তু সমালোচনায় বাধা পেয়ে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যান। তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিসের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকেছিলেন তিনি। নিউ ইয়র্ক টাইমস।

 



মন্তব্য