kalerkantho


মহানবীর রওজায় শেখ হাসিনা

‘বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশ হতে চায় সৌদি’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



‘বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশ হতে চায় সৌদি’

সৌদি আরবের জেদ্দায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সৌদি আরব বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশ হতে চায় বলে জানিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় রিয়াদের রাজকীয় প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক জানিয়েছেন। যুবরাজ সৌদির উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

রিয়াদে কর্মব্যস্ত দিন কাটিয়ে গত বুধবার রাতে মদিনায় পৌঁছেই শেখ হাসিনা মসজিদে নববীতে এশার নামাজ পড়েন এবং মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতে যান। জিয়ারত শেষে তিনি মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে বাংলাদেশের জনগণের পাশাপাশি সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সফরসঙ্গীরাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সৌদি সরকারের একটি বিশেষ বিমানে করে প্রধানমন্ত্রী মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেদ্দার উদ্দেশে মদিনা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। গত বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি যুবরাজের বৈঠকের বিস্তারিত জেদ্দা যাওয়ার সময় উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রসচিব।

শহীদুল হক বলেন, ‘অত্যন্ত উষ্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা ও মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ বৈঠকে বলেন, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে জানেন। বাংলাদেশে এখন অনেক কিছু ঘটছে। ক্রাউন প্রিন্স বলেন, ‘বাংলাদেশের এই উন্নয়নের অংশ হতে চাই।’

সৌদি যুবরাজ বাংলাদেশে সৌদি প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর নির্দেশ দেন বলেও পররাষ্ট্রসচিব জানান। যুবরাজ এ সময় বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কোন খাতে বিনিয়োগ করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সৌদি আরব বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করছে, বাংলাদেশেও করবে। প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে যুবরাজ বলেন, এই সহযোগিতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলতে থাকবে।

শহীদুল হক বলেন, ‘মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার কথা বলেছেন। এটা খুবই পরিষ্কার। সৌদি আরবের বড় বিনিয়োগ হবে বলে আশা করি।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ তা গ্রহণ করেন বলেও জানান পররাষ্ট্রসচিব। প্রধানমন্ত্রী ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি না করে সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার। এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরাও চাই সবাই মিলে শান্তিতে থাকুক।’

বৈঠকের প্রাণবন্ত পরিবেশের কথা তুলে ধরে শহীদুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সাল থেকে ছয়বার সৌদি আরব সফরের কথা উল্লেখ করলে যুবরাজ বলেন, তাহলে আপনি অর্ধেক সৌদি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, আইসিটি সচিব জুয়েনা আজিজ এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব রৌনক জাহান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে রিয়াদের রাজপ্রাসাদে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌদি বাদশাহ সালমানের বৈঠক হয়। পরে তাঁরা মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

গতকাল দুপুরে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সরকারপ্রধান হিসেবে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা জীবনে পুরনো সময় নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এই জেদ্দায় এমনও দিন গেছে, তিনটি জায়গায় সভা করেছি। আগের মতো যে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতাম, সে সুযোগটা আর এখন হচ্ছে না। এখন একটা প্রটোকলের বেড়াজাল, সিকিউরিটির বন্দি জীবন; এই হয়ে গেছে আমার সমস্যা।’ সরকারপ্রধান হিসেবে কাজের চাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সময়ও কম, অনেক অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে হচ্ছে।’

কনস্যুলেট ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করতে পেরে নিজের আনন্দের কথা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে বাংলাদেশের নিজস্ব একটা ভূখণ্ড হলো।’

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রেমিটেন্স আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। আমরা প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নিয়েছি।’ বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে বিদেশে কাজ করতে এসে বিপদের সম্মুখীন হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখের বিষয় এটাই; এই যে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি, মহিলা যারা আসে তাদের জন্য, অনেকেই ট্রেনিং করে না ঠিকমতো। দুই পয়সা খরচা করেই একখানা সার্টিফিকেট নিয়ে নেয়। আর বিদেশে এসে বিপদে পড়ে। এখানে অনেকে আছেন; তাঁরা এই কথাটা পৌঁছে দেবেন। ট্রেনিংটা তারই কল্যাণে। তা না হলেই তারা অত্যাচারিত হয়, নির্যাতিত হয়। অনেকেই ট্রেনিং ফাঁকি দিয়ে চলে এসে বিপদে পড়ে। এটা যেন কেউ না করে।’

এরপর গত রাতে এশার নামাজের পর মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে গত মঙ্গলবার সৌদি আরব পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে আজ শুক্রবার তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সূত্র : বাসস।

 



মন্তব্য