kalerkantho


কূটনীতিকদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জানাল ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



কূটনীতিকদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জানাল ঐক্যফ্রন্ট

বিএনপিকে নিয়ে জোট গঠনের পর একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে জোটের বক্তব্য কূটনীতিকদের জানালেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার গুলশানে লেক শোর হোটেলে কূটনীতিকদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তাঁরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সভার পর জোট শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে আমরা শুধু বাংলাদেশে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনার-কূটনীতিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় করেছি। অত্যন্ত সফলভাবে এই মতবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের শীর্ষ নেতা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেন সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের প্রশ্নের জবাবও তিনি দিয়েছেন।’

মতবিনিময়সভায় অংশ নেওয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি, এর বেশি কিছু বলা যাবে না।’

বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য কূটনীতিকদের সরবরাহ করা হয়েছে বলে উপস্থিত এক নেতা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, একাদশ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পূর্বশর্তাবলি, ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়ার বিষয় সম্পর্কিত কূটনীতিকদের কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন ড. কামাল হোসেন।

ওই নেতা আরো বলেন, বিকেলে এক ঘণ্টার এই বৈঠকের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল কূটনীতিকদের স্বাগত জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেন। জোটের অন্যতম প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন ফ্রন্টের সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য কূটনীতিকদের উদ্দেশে পাঠ করেন। এরপর বর্তমান গণতন্ত্র, সরকার, নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, কাতার, মরক্কোসহ ৩০টি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য দেওয়ার পরই কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন করতে শুরু করেন। ড. কামাল সব প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচনে বিজয়ী হলে ঐক্যফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? উত্তরে ড. কামাল বলেন, এটা সংসদের বিষয়। নির্বাচিত সংসদই ঠিক করবে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন।

ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা জানান, বৈঠকে কূটনীতিকরা জানতে চান, নবগঠিত এই জোটের মূল নেতা কে? এই প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল তাঁদের বলেন, এখানে কোনো একক নেতৃত্ব নেই। যৌথভাবেই এই জোট পরিচালিত হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি কারাগারে থাকলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে কি না সেটিও জানতে চান কূটনীতিকরা। এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল কূটনীতিকদের জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে তাঁরা অবশ্যই নির্বাচনে যাবেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবং ঐক্যফ্রন্টে স্থান না পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা নিয়েও ঐক্যফ্রন্টের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান কূটনীতিকরা। এ প্রসঙ্গে ড. কামাল জামায়াতের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এরই মধ্যে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য উঠে এসেছে। এর বাইরে তাঁরা আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।

বিকল্পধারা ফ্রন্টে আসেনি জামায়াতের কারণে—এ প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, ‘উনি (বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট বি চৌধুরী) আমাদের সমমনা লোক। কেন ঐক্যফ্রন্টে এলেন না তা বুঝতে পারছি না। তবে আমরা আশা করি তিনি ভবিষ্যতে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন।’

প্রায় ৫৫ মিনিটের বৈঠকের পর ঐক্যফ্রন্টের লিয়াজোঁ কমিটির (সম্ভাব্য নেতা, লিয়াজোঁ কমিটি এখনো গঠন হয়নি। ঐক্যফ্রন্টে বিভিন্ন দলের সিনিয়র নেতা) সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন কূটনীতিকরা।

বৈঠক শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, ‘আমরা বিদেশিদের সঙ্গে সাত দফা ও ১১ লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেছি। এসব দাবি আমরা তাঁদের কাছে তুলে ধরেছি।’ ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনীতিকরা কী বলেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাঁরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা কী ভাবছেন, সেটা তাঁরাই বলতে পারেন। আপনারা তাঁদের কাছ থেকেই জেনে নিতে পারেন।’

এদিকে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া আগামী নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নেবে কি না—কূটনীতিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা পেলে তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

তাঁরা আরো জানান, জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধিত দল নয়। তাঁদের ঘোষিত সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্যের মধ্যে তারা অন্তর্ভুক্ত নয়।

বৈঠকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, জেএসডির তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়াও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতাদের মধ্যে আরো ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আবদুল মান্নান, শাহজাহান ওমর,  ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, মীর নাছির, শাহিদা রফিক, শামা ওবায়েদ, তাবিথ আউয়াল, মীর হেলাল প্রমুখ।

সিলেটে সমাবেশ ২৪ অক্টোবর : ২৩ অক্টোবর অনুমতি বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ২৪ অক্টোবর সিলেটে সমাবেশ করতে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘২৩ তারিখে আমাদের যে জনসভা ছিল সিলেটে, আজকে (গতকাল) সকাল পর্যন্ত তার অনুমতি ছিল। ইতিপূর্বে আমরা জানতে পেরেছি তা বাতিল করা হয়েছে। আমরা হলের মধ্যে করতে চেয়েছি, সেটাও বাতিল করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আশা করি ২৩ অক্টোবর না হলেও ২৪ অক্টোবর সরকার অনুমতি দেবে।’

 



মন্তব্য

abid commented 26 days ago
Juta leader Dr kamal luta loia bedeshir gasa gurin kena