kalerkantho


একান্ত সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল

গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যে আসা উচিত

এনাম আবেদীন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যে আসা উচিত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ায় তাঁরা খুশি হয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ‘আরো খুশি হতাম যদি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী এই ফ্রন্টে আসতেন।’ তাঁর মতে, ‘যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝির সূত্র ধরে হয়তো তিনি আসেননি। কিন্তু ভবিষ্যতে তিনি যুক্ত হবেন না—এটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।’

গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিককালে উদারপন্থী তিনটি দলের সঙ্গে জোট গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ফখরুল। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের কোনো গোপন সমঝোতা হয়নি। জোট সম্প্রসারণের উদ্যোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে জোটের দলগুলোর মধ্যে কোনো সমস্যা হবে না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিতর্কিত ডিজিটাল আইন বাতিল করা হবে।

 

কালের কণ্ঠ : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে আপনারা খুশি?

মির্জা ফখরুল : দেশের এই ক্রান্তিকালে জোট গঠন করতে পেরে অবশ্যই আমরা খুশি। তবে আরো খুশি হতাম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সাহেবরা প্রথম দিন উপস্থিত থাকলে। তবে আশা করি এই জোট হওয়ায় দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষ উৎসাহিত হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের বাইরে যারা রয়েছে তারাও একসময় এর সঙ্গে একীভূত হবে বলে আশা করছি। বিশেষ কোনো দল বা নেতার নেতৃত্ব এখানে বিষয় নয়; বিষয় হচ্ছে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য দেশের মানুষকে এক হতে হবে। যেটি কারাগারে যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় দেশনেত্রী বলে গেছেন। তা ছাড়া আদালতে যতবার তিনি এসেছেন ততবারই এই বার্তা তিনি দিয়ে গেছেন যে সবাইকে নিয়ে ঐক্য করতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : দফায় দফায় বৈঠক করে এবং অনেক দূর এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত বিকল্পধারা জোটে থাকল না কেন?

মির্জা ফখরুল: আমার কাছে যেটি মনে হয়; এখানে কোনো একটা ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তফ্রন্টের মধ্যে কোনো ভুল-বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে তারা হয়তো শেষ পর্যন্ত আসেনি। তবে আমি বিশ্বাস করি, তাদের আন্তরিকতা এখনো আছে। ভবিষ্যতে তার প্রতিফলন দেখাও যেতে পারে। এ ধরনের জোট যখন হয় তখন নানা ধরনের প্রস্তাব থাকে। আলোচনা হয়; যার মাধ্যমে জোট রূপ লাভ করে। কিন্তু সমস্যাটা হলো সময় হাতে খুবই কম। কারণ দ্রুততার সঙ্গে সরকার যেনতেন একটি নির্বাচন করে ফেলতে চাইছে। তারা আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করার ছক কষছে। এ জন্য পুরো জাতির এটির প্রতিবাদ উচিত। অত্যন্ত আশার কথা হলো, সরকারি জোটের বাইরে থাকা বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ অন্যান্য দলের ঘোষিত দাবি-দাওয়ার সঙ্গে আমাদের দাবি-দাওয়ার খুব বেশি মৌলিক পার্থক্য নেই। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনও প্রায় একই রকম দাবির ঘোষণা করেছে।

 

কালের কণ্ঠ : বাম জোট বা ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে তাহলে যুগপৎ আন্দোলনের সম্ভাবনা আছে?

মির্জা ফখরুল : এটা নির্ভর করছে ভবিষ্যতে আমরা কিভাবে কথা বলব এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তার ওপর। ওই দলগুলোর নেতারা কী ভাবছেন তার ওপরও নির্ভর করছে অনেক কিছু। তবে এ ধরনের সম্ভাবনা যে নেই একথা বলা যায় না। যুগপৎ হলেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কারণ সব দলের চাওয়াগুলো এক—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সুষ্ঠু নির্বাচন। সে জায়গায় ওই দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি বা আমাদের নতুন জোটের কোনো দ্বিমত নেই।

 

কালের কণ্ঠ : বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিকল্পধারা নানা চাপ দিচ্ছিল। কী ধরনের চাপ?

মির্জা ফখরুল: প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই নিজস্ব চিন্তাভাবনা ছিল। তাদের চিন্তাভাবনা, দফা বা লক্ষ্যগুলোর পাশাপাশি বিএনপি ও ড. কামাল হোসেন, আ স ম রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নার লক্ষ্যগুলোও ছিল। কিন্তু সব কিছু মিলিয়ে আমরা প্রায় একমত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরের ব্যাপারটি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি (বি চৌধুরী) সেদিন কেন যে বৈঠকে এলেন না সেটি বুঝতে পারলাম না।

 

কালের কণ্ঠ : কিন্তু সেদিন তো আগের শিডিউল অনুযায়ী ড. কামাল হোসেনের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল বি চৌধুরীর...

মির্জা ফখরুল : এই বিষয়কে আমি বড় করে দেখতে চাই না। এটি কোনো বড় ফ্যাক্টর নয়। রাজনীতিকে আমি একটি বড় ক্যানভাসে দেখার পক্ষপাতী। আমি বিশ্বাস করি, বি চৌধুরী সাহেবরা ঐক্যে বিশ্বাস করেন এবং তাঁরা গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবেন।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি এখনো আশা করছেন তাঁরা ঐক্যে আসবেন?

মির্জা ফখরুল : আমি এখনো আশাবাদী যে তাঁরা ফিরে আসবেন। কারণ বি চৌধুরী সাহেবকে আমি একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবেই জানি।

 

কালের কণ্ঠ: বিকল্পধারার সন্দেহ, প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়ে ড. কামালের সঙ্গে বিএনপির কোনো গোপন সমঝোতা হয়ে থাকতে পারে...

মির্জা ফখরুল : এটি একেবারে অমূলক সন্দেহ। কোনো আলোচনাই হয়নি। সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। এ ধরনের বিষয়ে কথা বলার অর্থ সব কিছু নস্যাৎ করে দেওয়া।

 

কালের কণ্ঠ : কিন্তু বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী গণমাধ্যমে এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন...

মির্জা ফখরুল : এটি মাহীর অপরিণামদর্শী বক্তব্য। একজন রাজনীতিক হিসেবে তাঁর এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সঠিক হয়নি।   

 

কালের কণ্ঠ : সরকারের সঙ্গে বিকল্পধারার দূরবর্তী কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে কি আপনারা সন্দেহ করেন—যেমন গুঞ্জন বাইরে রয়েছে?

মির্জা ফখরুল : আমি এগুলো বিশ্বাসও করি না। জানিও না। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলবও না। আমি মনে করি, কাজের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাজনীতির আদর্শের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আমি বিশ্বাস করি বিকল্পধারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে। এ দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন তারাও চায়। এ লক্ষ্যে তারা কাজও করছে।

 

কালের কণ্ঠ : জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয় এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রশ্নে সমঝোতা না হওয়ায় কী শেষ পর্যন্ত বি চৌধুরী সরে গেলেন?

মির্জা ফখরুল : সেটি আমি বলতে পারব না। কারণ এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। দাবি ও লক্ষ্যের বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছিলাম। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

 

কালের কণ্ঠ : তাহলে আপনি বলতে চাইছেন ওই দুই দাবির বিষয়ে ঐকমত্যের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন আপনারা?

মির্জা ফখরুল : তাঁদের কোনো আপত্তি থাকলে আগের দিনই তাঁরা সেটি বলতে পারতেন। সেটাই উচিত ছিল। আবার পরেও বলতে পারতেন। আসলে মতপার্থক্যের জায়গা এগুলো নয়। তাঁরা মূলত যেটি বলতে চাচ্ছেন সেটি হলো ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তাঁদের ভুল-বোঝাবুঝি। যাওয়া না যাওয়া নিয়ে। তবে আমি মনে করি, এখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এগুলোকে বড় করে দেখা উচিত নয়। দেশ ও দেশের মানুষ এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সবারই ঐক্যের মধ্যে চলে আসা উচিত।

 

কালের কণ্ঠ : রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের সূত্র ধরে বিএনপির সঙ্গে বি চৌধুরীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই সম্পর্কের উন্নতি কি হয়েছে?

মির্জা ফখরুল : আমি মনে করি দূরত্ব বহুলাংশে কমে গেছে। বিএনপির বহু কর্মসূচিতে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার সময়ও বি চৌধুরী সাহেব বহুবার গেছেন। আমি যতবার বৈঠক করতে গেছি তাঁকে বেশ আন্তরিক মনে হয়েছে। বিএনপির অনশন কর্মসূচিতে তিনি এসেছেন।

 

কালের কণ্ঠ : তাহলে কী ‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’—ব্যাপারটা এ রকম?

মির্জা ফখরুল : বিষয়গুলো আমি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাই। ভুল-বোঝাবুঝি বা সমস্যা তৈরি হতেই পারে। তবে আমরা আবারও কথা বলব। বাইরে যেসব দল আছে তাদের সঙ্গেও কথা বলব। কারণ আমাদের সবার লক্ষ্য এক। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই করা।

 

কালের কণ্ঠ : তাহলে জোট আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ আছে?

মির্জা ফখরুল : অবশ্যই আছে।

 

কালের কণ্ঠ : ইঙ্গিত আছে কারা কারা আসতে পারে?

মির্জা ফখরুল : (হেসে) এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আগে থেকে বলে দিলে বা প্রকাশ করলে অনেক ভালো উদ্যোগও অনেক সময় ভেস্তে যায়। তাই এ নিয়ে কথা বলতে চাই না।

 

কালের কণ্ঠ: উদারপন্থী তিন দলের সঙ্গে বিএনপির জোট হলো। আসন বণ্টন ও ক্ষমতার ভারসাম্যসহ সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না...

মির্জা ফখরুল : বড় কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছি না। জোট টিকে না থাকার কোনো কারণ নেই। কারণ অনেক কাঠখড় পেরিয়ে জোট এই জায়গায় এসেছে। সবচেয়ে বড় কথা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাই একমত হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের জোট গঠনের পর আসন বণ্টন ইস্যুতে সমস্যা দেখা দেয়—এমন উদাহরণ আছে...

মির্জা ফখরুল : ওই আলোচনার সময় এখনো আসেনি। তা ছাড়া আসন বণ্টন নিয়েও সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। কারণ যাঁরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছেন তাঁরা সবাই রাজনীতিতে যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল বলে আমি মনে করি। তাঁরা সবাই বাস্তব পরিস্থিতি বোঝেন যে এখানে সংকীর্ণ ও হঠকারিতার কোনো অবকাশ নেই। গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে উদার হতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : জোটগতভাবে একসঙ্গে কবে থেকে আন্দোলন শুরু করবেন?

মির্জা ফখরুল : দু-এক দিনের মধ্যেই আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কর্মসূচিও আসবে। এক সঙ্গেই সব কিছু হবে। প্রথমে সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করা হবে। এ জন্য আন্দোলন লাগবে। আর ক্ষেত্র তৈরি হলে আসবে নির্বাচন প্রসঙ্গ; এরপর সরকার গঠন। এগুলো সব জোটের ১১ দফা লক্ষ্যের মধ্যে বলা আছে। তবে সবার আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। হাত-পা বেঁধে দিয়ে বলবেন নির্বাচনে যাও, এটি সম্ভব নয়।

 

কালের কণ্ঠ : বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে তাহলে অস্পষ্টতা রয়েছে?

মির্জা ফখরুল : এ প্রসঙ্গে আমি জবাব দিতে গেলে রাজনীতি ক্লোজ হয়ে যাবে। কিন্তু রাজনীতিতে সব সময় ক্লোজ করতে নেই। দরজা খোলা রাখতে হয়। ফলে আমরা বলছি; সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা পরিবেশ চাই। রাজবন্দিদের মুক্তি চাই। এই ইস্যুগুলো নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগোব।

 

কালের কণ্ঠ : কিন্তু সরকার কঠোর অবস্থানে, কোনো দাবি মানবে বলে মনে হয়?

মির্জা ফখরুল : না মানলে সেই পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী থাকবে। গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্যও ইতিহাসের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে। কারণ সারা বিশ্ব সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে। শুধু সরকারি দল এ ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করলে এ দেশের জনগণ দেখবে; বহির্বিশ্বও দেখবে।        

 

কালের কণ্ঠ : দুর্নীতিবাজ ও মানি লন্ডারিংয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ঐক্য করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন। বিএনপির প্রতিক্রিয়া কী?

মির্জা ফখরুল : প্রধানমন্ত্রী যখন এসব কথা বলেন তখন তিনি একবারও ভাবেন না যে তাঁদের দলের বহু লোককে দুর্নীতিবাজ এই আদালত থেকেই বলা হয়েছে। তাঁদের দলের বহু লোকের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলা ছিল। এগুলো তাঁরা গিলে ফেলেছেন। আর কোনো কোর্ট এই সাজাগুলো দিচ্ছে? তারা কারা? এই কোর্টের সব সিদ্ধান্ত সরকারের তরফ থেকে আসে। এগুলো আমরা জানি। বানিয়ে বলছি না। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। সরকারের নির্দেশে এখন আদালতের রায় তৈরি হয়; লোয়ার কোর্টে তো বটেই। সেই সাজাকে কোনোক্রমেই সঠিক সাজা বলতে পারা যাবে না। যেখানে দেশের প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয় সেখানে বিচারব্যবস্থা নিয়ে কথা বলে লাভ কী! এর আগে তারেক রহমানকে একটি মামলায় খালাস দেওয়ায় সেই বিচারককে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর এসব কথায় কোনো যুক্তি নেই। কিন্তু তাঁদের এখন সুবিধা আছে সব কিছু বলতে পারেন; গণমাধ্যম তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। বললে ঠেকাবে কে? লেটেস্ট হচ্ছে ডিজিটাল আইন। রাজনীতিবিদ বা গণমাধ্যমের কথা বাদ; বাড়ির গিন্নিরও গলা বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ এখন ফেসবুকে লাইক দিতেও ভয় পাচ্ছেন। কারণ লাইক দিলেও শাস্তি হতে পারে। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি চলছে।

 

কালের কণ্ঠ : বিএনপি ক্ষমতায় এলে ডিজিটাল আইন নিয়ে কী চিন্তা করবে?

মির্জা ফখরুল : অবশ্যই ডিজিটাল আইন বাতিল করা হবে। পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের কালো আইন নেই।

 

 



মন্তব্য