kalerkantho


একান্ত আলাপচারিতায় ওবায়দুল কাদের

ঐক্যফ্রন্টের দাবি অবাস্তব অসাংবিধানিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ঐক্যফ্রন্টের দাবি অবাস্তব অসাংবিধানিক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে তৎপর রয়েছেন তাঁর দল ও জোটের শক্তি বৃদ্ধিতে। তাঁর মতে, নবগঠিত বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি অবান্তর, অবাস্তব ও অসাংবিধানিক। এই জোটে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে তিনি নারাজ। তাঁকে জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতিবিদ বলছেন তিনি। বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ধারণা, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে সুকৌশলে বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট বাড়ানোর ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের আশাবাদী। গতকাল এক জনসভায় তিনি বলেছেন, ‘জাকের পার্টি ও বাম দল আমাদের জোটে ভিড়তে চায়।’ রাজনীতিতে আরো মেরুকরণের বিষয়ে তিনি সবাইকে অপেক্ষায় থাকতে বলেছেন। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে আলাপচারিতায় নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান, কৌশলসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে।

ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি অবাস্তব ও অসাংবিধানিক : ওবায়দুল কাদেরের মতে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি অবান্তর, অবাস্তব ও অসাংবিধানিক। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দণ্ডিত, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়ে লন্ডনে পলাতক। বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা আছেন। তাঁদের বাদ দিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে তাঁরা কিভাবে ভর করল তা বোধগম্য নয়। তাদের জোটের দুই উইকেট পড়ে গেছে। আরো অনেক উইকেট পড়বে। অপেক্ষা করুন। আমাদেরও ১৪ দল আছে। জাতীয় পার্টি আমাদের সঙ্গে আছে। জাকের পার্টি ও বাম দল আমাদের জোটে ভিড়তে চায়। আমরা আমাদের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তাঁদেরকে জোটে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব। রাজনীতিতে অনেক মেরুকরণ হবে। শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায় সেটার জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।

তাঁর মতে, ঐক্যফ্রন্ট থেকে সুকৌশলে বি চৌধুরীকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি অপমানজনক অবস্থায় পড়েছেন। তাঁকে বাড়িতে ডেকে কেউ থাকেন না। ঘরের দরজা খোলা হয় না। এ ধরনের ঐক্য ইউনিক না। ড. কামাল সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি রাজনীতিতে সিনিয়র। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে মনে করেছিলেন তাঁর পেছনে হাজার হাজার লোক জোট বাঁধবে। মনে করেছিলেন জনসমর্থন পাবেন। আসলে তিনি জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতিবিদ। তিনি কোনো রকমে টিকে আছেন।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে স্বাগত জানানো হবে

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে অন্য দলকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির যে কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসতে চাইলে তা বিবেচনায় আনা হবে। আমাদের ১৪ দলের বাইরে কিছু দল আছে যারা মুক্তিযুদ্ধের  সপক্ষের। যেমন কমিউনিস্ট পার্টি, আমাদের বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে তারা থাকবে না, সাম্প্রদায়িক কোনো জোটের সঙ্গেও থাকবে না। কাদের সিদ্দিকী সাহেব মুক্তিযোদ্ধা, তিনিও এসেছিলেন, মেজর মান্নান সাহেবও এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। কর্নেল অলির সঙ্গে ফোনে আলাপ হয়েছে। আমাদের সবার মধ্যে ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকা জরুরি বলে আমি সব সময় বলে আসছি।

বিএনপি ইলেকশন করবে বলেই মনে করছি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে। আমরা সতর্ক আছি। বিএনপি কী প্রস্তুতি নিচ্ছে এ ব্যাপারে আমরা ওয়াকিবহাল। বিএনপি যদি ২০১৪ সালের মতো কিছু করতে চায়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তার জবাব দেব। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আছি। জনগণ গত ১০ বছরে বিএনপির আহ্বানে একবারও সাড়া দেয়নি। তারা কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের নেতারাই আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে বসে থাকেন। হিন্দি সিরিয়াল দেখেন। আমাদের দলের নেতারা নির্যাতনের মধ্যেও রাস্তা ছাড়েননি। তাঁদের তো সৎ সাহস নেই। বিএনপি ইলেকশন করবে না এটা আমরা মনে করছি না। জোটের সঙ্গীদেরও এটা বলে দিয়েছি।

থার্ড টাইম নির্বাচনে জেতা একটু কঠিন

আগামী নির্বাচনে বিজয় অর্জনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সব কিছু সব সময় অনুকূলে থাকে না। আওয়ামী লীগ পর পর দুবার ক্ষমতাসীন। তাই থার্ড টাইম নির্বাচনে জেতা একটু কঠিন। তুরস্কের রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এরদোয়ান প্রথমবার যেভাবে জিতেছেন, দ্বিতীয়বার সেভাবে জেতেননি। দ্বিতীয়বার ভোট ছিল আগেরবারের চেয়ে কম। তৃতীয় দফায় তাঁর ভোট আরো কমেছিল। তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকে।

বিএনপি না এলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব হবে না

বিএনপি না এলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে কেউ না এলে বা কেউ নির্বাচন না করলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব পড়বে বলে মনে হয় না। বিএনপিকে আমরা ‘না’ করিনি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকার তারা নেবে, নাকি গত নির্বাচনের মতো পুনরাবৃত্তি করবে—সেটা তাদের ব্যাপার। নির্বাচনে না এলে নির্বাচনী ট্রেন থেমে থাকবে না। বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য আমাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার চাইছে। যা নাকচ করে আসছে আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তও যোগ করেছে বিএনপি। কিন্তু খালেদা জিয়া কারাগারে থাকবেন, নাকি থাকবেন না—এটা আদালতের ব্যাপার। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। আমি এ কথা বারবার বলে আসছি। 

ওবায়দুল কাদের জানান, সংলাপের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এ বিষয়ে এখন সময়ও নেই, সুযোগ নেই, তার প্রয়োজনও নেই।

নতুন মুখ আসবে কিছু আসনে

নির্বাচনে দলের নতুন প্রার্থী কেমন আসতে পারে—এ বিষয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, নতুন মুখ আসবে বেশ কিছু আসনে। কতটি আসনে পরিবর্তন হবে তা তিনি প্রকাশ করতে চাননি। তবে বলেছেন, এখন যাঁরা আছেন তাঁদের কর্মকাণ্ডে কোনো ঘাটতি থাকলে, ইমেজ সংকট থাকলে নতুনদের ভাবা হবে। তবে পুরনোদের শুদ্ধ হওয়ার জন্য সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্পষ্ট বলেছেন, জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

বিভিন্ন স্থানে দলের কোন্দল নিরসন করা হচ্ছে

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কোন্দল নিরসন করতে চাই। সে জন্য আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। সংকট যেখানে দেখা যায় সেখানকার নেতাদের নিয়ে আমরা নিয়মিতভাবে বৈঠক করছি। বিরাজমান দ্বন্দ্ব মীমাংসা করা হচ্ছে। খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে। তার ফলাফলও আমরা পাচ্ছি। আওয়ামী লীগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ। এ কারণে আওয়ামী লীগকে হারানোর কোনো শক্তি নেই।

তরুণ ও নারীরাই হবে জয়ের হাতিয়ার

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা নির্বাচনী ট্রেনে আছি। প্রস্তুতি বহু আগেই শুরু করেছি। প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলছে। বিভিন্ন আসনে আমাদের দলের সংসদ সদস্যদের কী অবস্থা তা নিয়ে জরিপ চলছে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা জরিপ করছে। আমরা দলীয় পর্যায়েও খোঁজ নিচ্ছি। ক্লোজলি মনিটর করা হচ্ছে। আমাদের সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে চলছে। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি সভা করেছি। জেলা পর্যায়ে বহু প্রতিনিধিসভা করেছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনছি। তাদেরও প্রার্থী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা আছে। সেটা আমাদের আলোচনায় প্রকাশ পাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তৃণমূলকে চয়েস দেওয়া হবে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। তারা প্রার্থী বাছাইয়ে তিনজন পর্যন্ত নাম পাঠাতে পারবে। সেটা আমরা জরিপের সঙ্গে মিলিয়ে প্রার্থী বাছাই করব, মনোনয়ন দেব। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা মনোনয়ন দেব। সবার আমলনামাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। সব জরিপ দেখেই আমরা বিবেচনা করব। কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তা ঠিক করা হবে এসব বিষয় দেখেই। আগামী নির্বাচনে তরুণ ও নারীরাই হবে আওয়ামী লীগের জয়ের হাতিয়ার।

আমরা ব্যাপক উন্নয়নকাজ করেছি

আগামী নির্বাচনে জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছি। অনেক মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেবা প্রযুক্তি নির্ভর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায়, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাজেটের আকার সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। উন্নয়নের ব্যাপক উদ্যোগের ফলে গোটা বাংলাদেশ বদলে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকা উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে। উন্নয়নের আলো সর্বত্র ছড়িয়েছে। শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি, গণমানুষের জন্য তাঁর রাজনীতি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের রাজনীতি মানুষের মনে রেখাপাত করেছে। তরুণ ভোটাররা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তারা আজ সহযাত্রী। আমার বিশ্বাস মানুষ আওয়ামী লীগকে আবারও নির্বাচিত করবে। বিজয়ের বিশ্বাস দৃঢ় হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি এও বলেন, যারা এতিমের টাকা মেরে খায়, হাওয়া ভবনের নামে ‘খাওয়া ভবন’ তৈরি করে দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে সন্ত্রাসের রাজনীতির ওপর নির্ভর করে, মানুষ তাদের ওপর ভরসা রাখতে চায় না। মানুষ চায় না সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ।

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল। বড় একটি দলে দ্বন্দ্ব-সংকট থাকবেই। এটাই স্বাভাবিকতা। তবে আমি বলব, আমাদের কর্মীরা সচেতন। কিছু নেতা নবাগত। অর্থ-কড়ি আছে, নির্বাচনের ইচ্ছা আছে। দলের পুরনো অনেকে নির্বাচন করতে চান। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে তাঁদের মধ্যে। তবে আমরা বলে দিয়েছি, বর্তমানে কোনো প্রার্থী নেই—সামষ্টিক স্বার্থে প্রার্থী হচ্ছে নৌকা। নৌকাকে সামনে রেখে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। বিভিন্ন বিচারে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাঁকে সামনে রেখে, নৌকার জয়ের জন্য কাজ করতে হবে সবাইকে। 

অতীত টেনে তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মীকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল। ২১ হাজার নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। বিএনপি এই সরকারের সময়ে গুমের অভিযোগ তোলে। ওই সময় আমাদের কতজন যে গুম হয়েছে তার হিসাব নেই। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা, নিশ্চিহ্ন করা। আইভী রহমানসহ ২৩ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। প্রধান লক্ষ্য ছিলেন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। এই বিভীষিকার কথা সবার মনে আছে। বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে কী হবে? ২০০১ সালের চেয়ে ভয়াবহ দুঃসময় আসবে। এই বিবেচনাবোধ থেকেও আওয়ামী লীগ অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।

নির্বাচন কমিশনের কোনো বিরোধিতা নয়

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান অনুসারে, নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনকালীন সরকার যেভাবে হয়ে থাকে আমাদের দেশেও সেভাবেই হবে। নির্বাচন কমিশনকে আমরা গ্রহণ করেছি, বিএনপিও গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের তাই কোনো বিরোধিতা নয়। বিএনপি যদি এ নির্বাচন কমিশনকে মেনে নেয় তাহলে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করাটাই তো যৌক্তিক। নির্বাচনের সময়ে সরকার রুটিন ওয়ার্ক করবে। নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকবে নির্বাচন করার জন্য যা যা দরকার। নির্বাচনকালীন সরকার তাতে সহযোগিতা করবে। নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব কী হবে। বিএনপির তো ভয় থাকার কথা নয়।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর কোনো ক্ষমতা থাকবে না। নির্বাচনকালীন সরকার নীতিনির্ধারণী কোনো কাজ করবে না। একটি অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনকালীন সরকার প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেবে। আমরা নির্বাচনের আগে সংবিধান পরিবর্তনের কথা ভাবছি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারচুপি, যড়যন্ত্র, জালিয়াতি করে ক্ষমতায় আসবেন এমন মানসিকতা তাঁর নেই। বিএনপি এটা ভাবলে ভুল করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছোট হয়ে থাকে। মন্ত্রিপরিষদ ছোট আকারে হবে।

 



মন্তব্য