kalerkantho


বাংলাদেশের গ্রাম উন্নয়ন দেখে মুগ্ধ ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী

ভোলায় কাটালেন সফরের দ্বিতীয় দিন

ভোলা প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশের গ্রাম উন্নয়ন দেখে মুগ্ধ ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী

ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প এবং অসামরিক বিমান মন্ত্রী সুরেশ প্রভু গতকাল ভোলার বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজ অডিটরিয়ামে মতবিনিময়সভায় বক্তব্য দেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে তা নিজ চোখে না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ। উন্নয়নের পথে দেশটির এই এগিয়ে যাওয়াটা অভূতপূর্ব। আমি সত্যিই অভিভূত। বাংলাদেশ-ভারত উভয়েই উন্নয়নশীল দেশ। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ব্যাবসায়িক চুক্তিগুলো হচ্ছে সোনালি চুক্তি।

ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প এবং অসামরিক  বিমানমন্ত্রী সুরেশ প্রভু গতকাল মঙ্গলবার ভোলায় এক মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন। সুরেশ প্রভু পাঁচ দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে এসেছেন। সফরের তৃতীয় দিনে আজ বুধবার ঢাকায় তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের আমন্ত্রণে গতকাল সস্ত্রীক ভোলা সফর করেন সুরেশ প্রভু। সকাল ১১টায় ভোলায় পৌঁছে তিনি প্রথমে বাংলাবাজারে তোফায়েল আহমেদ প্রতিষ্ঠিত স্বাধীনতা জাদুঘর, ফাতেমা খানম বৃদ্ধাশ্রম এবং নির্মাণাধীন আজাহার ফাতেমা খানম মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন করেন।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীকে জাদুঘরে রাখা বিভিন্ন নথি, দলিল ও ছবি দেখান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, মুজিব-ইন্দিরার নেতৃত্বে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে ভিত রচিত হয়েছিল হাসিনা-মোদির নেতৃত্বে সেই সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হয়েছে। পরে দুপুরে সুরেশ প্রভু ভোলা জেলা চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় বক্তব্য দেন।

সুরেশ প্রভু বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একে অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। ভারতের সরকার উল্লেখ করেছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় ব্যাবসায়িক চুক্তি হচ্ছে সোনালি চুক্তি। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অনেক শহরের রেললাইন রয়েছে। ঢাকা-জয়দেবপুর রেললাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে বঙ্গবন্ধু ভাষার জন্য বায়ান্ন সালে অনেক সংগ্রাম-আন্দোলন করেছিলেন। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি স্থাপন করেছিলেন। বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে বিশ্বসম্প্রদায়কে আমরা একসঙ্গে সাহায্য করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ ও ভারত ভিন্ন দেশ হলেও দুই দেশের মধ্যে ভাষা-সংস্কৃতির অনেক মিল রয়েছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন মহান নেতা। তিনি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন শূন্য হাতে। বাজেট ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু বর্তমানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং বাজেট আড়াই লাখ কোটি টাকা। দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি আরো বলেন, ‘তিন মাস পর আমাদের জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে।’

ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল মোমিন টুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

এদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ভোলার বাংলাবাজারে স্বাধীনতা জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনাগত প্রজন্মের কাছে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এ ধরনের জাদুঘর প্রতিটি জেলা-উপজেলায় স্থাপন করাটা এখন সময়ের দাবি।’ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সামর্থ্যবানদের এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময়সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর স্ত্রী উমা প্রভু, ক্যাপ্টেন এ বি এম তাজুল ইসলাম (অব.) এমপি, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম এবং বিজিএমইএ নেতা ও ক্রোনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম সানী।

এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম, ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিকি, পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন, বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজের সভাপতি মইনুল হোসেন বিপ্লবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 



মন্তব্য