kalerkantho


চট্টগ্রামে ওবায়দুল কাদের

সারা দেশে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে

♦ বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে যুক্তফ্রন্টের ওপর ভর করেছে
♦ ধানের শীষ এখন বিষ, এই বিষ মানুষ আর পান করবে না

কালের কন্ঠ ডেস্ক    

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সারা দেশে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে জাতীয় ঐক্যের নামে যুক্তফ্রন্টের ওপর ভর করেছে। আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় দলকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য সম্ভব নয়। বিএনপি জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য করেছে। এই জাতীয়তাবাদী ঐক্য জনগণের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’

দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সব ধরনের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। সারা দেশে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে।’ তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধানের বাইরে এক চুলও নড়বে না। 

নির্বাচনের প্রচারে সড়ক পথে কক্সবাজার যাওয়ার পথে গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও আনোয়ারায় এবং কক্সবাজারের চকরিয়া ও সদর উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। 

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ক্রসিং এলাকায় এসআর স্কয়ারে জনসভায় ‘ধানের শীষ এখন বিষ’ মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সবাই বলেন, ধানের শীষ পেটের বিষ, ধানের শীষ সাপের বিষ। দেশের মানুষ এই বিষ আর পান করবে না। কারণ তারা জনগণের কাছে বিষে পরিণত হয়েছে। বিএনপি জনসমর্থন হারিয়েছে। জনগণ বিএনপিকে আর গ্রহণ করবে না।’

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেখতে দেখতে ১০ বছর, মানুষ বাঁচে কয় বছর?  দেখতে দেখতে ১০ বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর? ১০ বছরে হয়নি, এক মাসে হবে? বিএনপি ঈদের পর আন্দোলন করছে করছে বলে ১০ বছরে ২০টা ঈদ গেলেও ১০ দিনও আন্দোলন করতে মাঠে নামতে পারেনি। নির্বাচনের এক মাস আগে যুক্তফ্রন্টের নামে বেঈমান ক্ষমতালোভীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যের নামে জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য করছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে ছাড়া কোনো জাতীয় ঐক্য হবে না। শেখ হাসিনার প্রতি দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে। বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যের নামে তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। জনগণ নির্বাচনের মুডে আছে, আন্দোলনের মুডে নেই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। এখন দেশের মানুষের নিরাপত্তা রয়েছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কখনো দেশের উন্নয়ন হবে না। অতীতেও হয়নি। মানুষের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। বিএনপি যে ভুয়া-মিথ্যাবাদী দল তার প্রমাণ হয়ে গেছে। জাতিসংঘের দাওয়াত নিয়ে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’

গতকাল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ক্রসিং এলাকায় এসআর স্কয়ার চত্বরে কর্ণফুলী আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

সংবাদমাধ্যম আওয়ামী লীগের প্রতি ‘অবিচার’ করছে অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) মহানগর নাট্যমঞ্চে ৩০ দলের সমাবেশে দুই হাজার লোকও হয়নি, আর আওয়ামী লীগের পথসভা জনসভায় রূপান্তর হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছে। মিডিয়ার একটি মহল তাদের ছবি বড় করে প্রচার করেছে। অথচ আমাদের সিঙ্গেল ছবি দিয়েছে। সমাবেশের লাখো মানুষের ছবি দেয়নি। ছবি না দিয়ে আমাদের জনপ্রিয়তা ঢাকা যাবে না। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ঢাকা যাবে না। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা সারা বাংলায়।’

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছাতে ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত শনিবার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উদ্দেশে সড়কপথে রওনা হয় ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি প্রতিনিধিদল। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় পথসভা-জনসভা হয়েছে। রাতে প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামে অবস্থানের পর গতকাল সকালে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা ও জনসভা করে আওয়ামী লীগ। এসব সমাবেশ-জনসভায় মানুষের ঢল নামে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের এসব এলাকার পর কক্সবাজারের চকরিয়া, রামু, ঈদগাঁওসহ বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েকটি পথসভার পর কেন্দ্রীয় নেতারা কক্সবাজার শহরে যান। রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা হয়। এসব এলাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে পথসভা ও জনসভাকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে কোটার ওপরে ভর করেছিল। তারপর স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের মধ্যে ঢুকেছে। ভুয়া প্রমাণ হয়েছে চার মহিলাকে আটকে রাখার ও  একজনকে রেপের ভিডিও ঘটনা। চোখ চলে গেছে আওয়ামী লীগ কর্মীর। কিন্তু কোনো কোনো মিডিয়া প্রচার করল আন্দোলনরত এক ছাত্রের চোখ চলে গেছে। এটা গুজব সন্ত্রাস। গুজব সন্ত্রাস এখনো আছে। এই সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হবে।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্বারোপ করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলীয় কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন। ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টাঙাবেন না। ঐক্যবদ্ধ থাকেন। ঐক্যের রেজাল্ট আছে। গাজীপুরে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম এবং জিতেছিও। খুলনায় ঐক্যবদ্ধ আমরা জিতেছি। সিলেটে কলহ ছিল, সামান্য ভোটে হেরেছি। কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ কত বছর আগে জিতেছে। আমার মনে নেই। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমদের সভাপতিত্বে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেকের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

সন্ধ্যায় চকরিয়ায় পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত জনসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে খালেদা জিয়া এখন কারাগারে রয়েছেন। তাঁর দল বিএনপি এখন একেবারেই জনবিচ্ছিন্ন।’ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। দলের ভেতর যাঁরা প্রতিপক্ষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও হাই স্কুল মাঠে এক বিশাল জনসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, সুন্দর বিলবোর্ড এবং পোস্টার ব্যানার দেখে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এবার মনোনয়ন পাবেন যিনি জনপ্রিয় ও জনসমর্থন যাঁর বেশি রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মনোনয়নযোগ্য প্রার্থীর নাম দলীয় সভানেত্রীর গুডবুকে রয়েছে। বিলবোর্ড পোস্টার না তুলে ওই টাকা দিয়ে অসচ্ছল দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করুন।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যজোট নামের ষড়যন্ত্রকারীদের একটি অংশ দেশের মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি  ছড়াতে মাঠে নেমেছে। এতে কোনো কাজ হবে না। ঐক্যজোট নেতাদের মিটিংয়ের ছবিও জনগণ দেখেছে। তারা সব কিছুতেই দুর্বল যা তাদের মিটিংয়ের ঘুমন্ত ছবি দেখলেই বোঝা যায়।

চকরিয়া ও সদর উপজেলায় জনসভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মেয়র, কক্সবাজার-২ আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক ও কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা লায়ন কমরুদ্দীন আহমদ, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদুর, সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুরসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং চকরিয়া প্রতিনিধি)



মন্তব্য