kalerkantho


নিউজ২৪ টক শোতে আইন ও স্বরাষ্ট্র সচিব

মুক্তি পাবে বয়স্ক, অসুস্থ লঘুদণ্ডের বন্দিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মুক্তি পাবে বয়স্ক, অসুস্থ লঘুদণ্ডের বন্দিরা

লঘুদণ্ড কিংবা ছোট অপরাধে দণ্ডিত, বয়স্ক ও অসুস্থ কারাবন্দিকে মুক্তিদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকে এই প্রক্রিয়া সিলেটে শুরু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারেই তা অনুসরণ করা হবে। সারা দেশে এমন বন্দির সংখ্যা রয়েছে ২০ হাজারের মতো। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ২৪ আয়োজিত ‘পরিচিত সব গল্প’ শীর্ষক টক শো অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রসচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এসব কথা জানান। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এই কাজ শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী হায়দার হোসেন।

স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘কারাগারের ধারণক্ষমতা আছে ৩৬ হাজার ৬১৪ জনের, থাকছে ৮৯ হাজার ৬৭ জন। এর মধ্যে মাদকের আসামি আছে ৩০ হাজারের বেশি, যা মোট বন্দির প্রায় ৩৪ শতাংশ। এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় কারাগারের ধারণক্ষমতা ছিল ২৮ হাজারের মতো, সেটা বর্তমানে ৩৬ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। যে প্রকল্পগুলো বর্তমানে চলছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এখন কোনো কারাগারে সাত গুণ পর্যন্ত বন্দি আছে, যেমন কক্সবাজারে। একটা রুমে যেখানে ৪০-৪৫ জনের থাকার কথা, সেখানে থাকছে ২০০-২৫০ জন। এ এক কঠিন অবস্থা।’ সচিব বলেন,  কয়েদিদের অনেকেই লঘুদণ্ডের, এমন সংখ্যা পাঁচ হাজারের মতো। অল্প অপরাধ করেছে এদের সংখ্যাটাই বেশি। অনেক বয়স্ক লোকও আছে, যারা দীর্ঘদিন কারাগারে। সত্তর বছরের বেশি বয়স্ক লোক রয়েছে ৩৬৪ জন। ৬৫-৭০ বয়সের মধ্যে রয়েছে ৭৯৭ জন, সরাসরি ক্যান্সার আক্রান্ত বন্দি ২০ জন, প্যারালাইজড ৩৯ জন, মানসিক ভারসাম্যহীন ৪১৬ জন। তাদের মুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে জানিয়ে সচিব বলেন, লঘু অপরাধ করে যারা কারাগারে আছে, যদি তারাও দোষ স্বীকার করে তাদের এই প্রক্রিয়ায় আনা হবে। ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট কারাগারে এ ধরনের বন্দির সংখ্যা তিন শর বেশি রয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ১৪২ জনকে মুক্ত করা গেছে। সারা দেশে এমন বন্দির সংখ্যা ২০ হাজারের মতো।’

আইনসচিব বলেন, ‘কারাগারে বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা দেখা, এটা কেবল প্রধানমন্ত্রীই করছেন। তাঁর নির্দেশেই আইনগতভাবে যা যা প্রয়োজন সেটা করছি।’ সচিব আরো বলেন, ‘ব্যাপক হারে আমাদের মামলা হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করেই কোর্ট বাড়ানো যায় না, লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারছি না। যুগ যুগ ধরে সাক্ষ্য নেব, বিচার করব, এর মধ্যে তিন গুণ আসামি চলে আসবে। আর এটা হলে কারাগারেও লোড নিতে পারবে না, আদালতেও বিচার সম্ভব হবে না।’ আইন সচিব বলেন,  কারাগারে একজন আসামি থাকলে খাওয়াতে হয়, চিকিৎসা দিতে হয়। তারা বাইরে গেলে সরকারের খরচও কমবে।



মন্তব্য