kalerkantho


অনুমতির খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

চট্টগ্রাম মোংলা দিয়ে চার বন্দরে পণ্য নেবে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রাম মোংলা দিয়ে চার বন্দরে পণ্য নেবে ভারত

ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারতকে তাদের চারটি বন্দরে পণ্য পরিবহনের অনুমতির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ভারতের পণ্য পরিবহনের রুট হচ্ছে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে আগরতলা ভায়া আখাউড়া, ডাউকি ভায়া তামাবিল, সুতাকান্দি ভায়া শেওলা ও বিবিরবাজার ভায়া সীমান্তপুর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার তাঁর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বি ইউজড অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া বিটুইন দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। খসড়ায় বলা হয়েছে, ভারত এর মাধ্যমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে তাদের চারটি বন্দরে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার এই চুক্তি করছে। চুক্তি অনুযায়ী নেপাল ও ভুটান ইচ্ছা করলে এতে যুক্ত হতে পারবে।

চুক্তির শর্তগুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এর উদ্দেশ্য। ভারত চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে তাদের নিজস্ব পণ্য দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে পরিবহন করবে। দেশের অভ্যন্তরে পণ্যসামগ্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি (গ্যাট) ও দেশের নিয়ম মেনে চলতে হবে। শুল্ক বিভাগ ডিউটিজ অ্যান্ড ট্যাক্স গ্রহণ করবে। মালবাহী কার্গো শনাক্ত করার জন্য ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা অনুসারে মালামাল পরিবহনে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে মালামাল পরিবহনের জন্য গ্যাট প্রিন্সিপাল অনুসারে শুল্ক কর ছাড়া চার্জ ফি ও পরিবহন খরচ আদায় করা হবে। বাংলাদেশের স্থলবন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে স্থলবন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির ফিও আদায় করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব আরো জানান, চুক্তি অনুযায়ী নৌসচিবদের নেতৃত্বে গঠিত ইন্টার গভর্নমেন্ট কমিটির মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার নিরসন করা হবে। উভয় দেশের কর্মকর্তা সমন্বয়ে কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সাব গ্রুপ গঠন করা হবে। জরুরি প্রয়োজনে বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো পক্ষ চুক্তির বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুযোগ রয়েছে। চুক্তিটি পাঁচ বছরের জন্য হবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরো পাঁচ বছর বলবৎ থাকবে। তবে ছয় মাসের নোটিশে যেকোনো পক্ষ চুক্তিটি বাতিল করতে পারবে।

এক প্রশ্নের জবারে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, এটিকে ঠিক ট্রানজিট বলা যাবে না। কারণ পণ্য পরিবহনে তাদের আমাদের পরিবহন ব্যবহার করতে হবে। আর আমাদের আইন অনুযায়ীই তাদের শুল্ক ও ট্যাক্স দিতে হবে।

গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আইন-২০১৮ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন ২০১৮-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড এবং হ্যাক্সিন ইলেকট্রিক্যাল লিমিটেড চায়নার যৌথ উদ্যোগে জয়েন্ট ভেঞ্চার কম্পানি গঠনের জন্য জয়েন্ট ভেঞ্চার অ্যাগ্রিমেন্ট এবং কম্পানির মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, প্রস্তাবিত নতুন আইনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশের বিধান রাখা হয়েছে। আগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য ছিলেন একজন চেয়ারম্যানসহ মোট পাঁচজন। তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯ জন।



মন্তব্য