kalerkantho


শেখ হাসিনা বললেন

উত্তরপাড়া আর আসবে না তাদের ক্ষমতায় বসাতে

তৈমুর ফারুক তুষার   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



উত্তরপাড়া আর আসবে না তাদের ক্ষমতায় বসাতে

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করে ভোটারদের পক্ষে টানার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। যেসব নেতা সরকারের উন্নয়ন প্রচার না করে মনোনয়নের দ্বন্দ্বে সংসদ সদস্যদের বিরোধিতা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে এমনটা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন প্রচার বাদ দিয়ে কেবল এমপির বিরোধিতা করলে দলের ক্ষতি হয়। এটা যাঁরা করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে বাসস জানায়, বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী সভায় দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল, যারা অপেক্ষা করেই থাকে কখন দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতা দখল করবে আর তাদের অবস্থার উন্নতি হবে।’ ‘কিন্তু সেই আশা করে আর লাভ নেই। উত্তরপাড়া আর আসবে না তাদের ক্ষমতায় বসাতে’, বলেন তিনি।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্যই জনগণ নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার নির্বাচিত করবে—এই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘জনগণের মাঝে এখনো আওয়ামী লীগের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে, কারণ জনগণ বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশ এগিয়ে যাবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপেও এটা উঠে এসেছে।’

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন দুটি ঐক্য ফোরাম গঠনকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ রকম হওয়া উচিত। আরো নতুন নতুন পলিটিক্যাল অর্গানাইজেশন তৈরি হোক। তিনি বলেন, ‘তাঁরা আগামীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং করতে চেয়েছেন। তাঁরা যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চান, আমরা করতে দেব। আমাদের কোনো আপত্তি নাই, আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি। পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ করব, আপনারা বাধা দেবেন না।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘দরকার হলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি স্থায়ী মঞ্চ করে দেব। যার যত খুশি সেখানে বত্তৃদ্ধতা দিতে পারবে। আমি বলব একটি কর্নার ঠিক করে দিতে, সেখানে বত্তৃদ্ধতা দিক, আন্দোলন করুক, যা খুশি করুক। কারণ আমরা কারো গলা চেপে ধরিনি, আমরা কারো মুখ বন্ধ করিনি।’ ‘কিন্তু যারা মিথ্যাচার করবে, উসকানিমূলক কাজ করবে এবং সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইবে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘যখন ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে (নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন), সেই সময় আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণ করল, আমাদের ৪৬ জন নেতাকর্মী আহত হলো। তখন একটি রিউমার ছড়ানো হলো—সেখানে চারটি লাশ পড়ে আছে এবং মহিলাদের সেখানে ধর্ষণ চলছে। এরপর তিন-তিনবার আওয়ামী লীগ অফিসে ছাত্ররা গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে কিছু পেল না।’ তিনি বলেন, ‘একজন আঁতেল আলজাজিরা টেলিভিশনে এই সম্বন্ধে ইন্টারভিউ দিয়ে দিল; পরে সেই আলজাজিরা টিভিকে ক্ষমা চাইতে হলো মিথ্যা নিউজ দেওয়ার জন্য এবং তারই মিথ্যা অপপ্রচারের জন্য আওয়ামী লীগ অফিসে আক্রমণ হলো।’ সরকারপ্রধান প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, এই যে মিথ্যা কথা বলে, উসকানি দিয়ে একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করল তার বিরুদ্ধে কি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না? তিনি বলেন, জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়াটা তাঁর সরকারের কর্তব্য এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তাবিধানে করণীয় কাজটা সরকারকে করতে হবে।

এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য জরিপের কাজ চলছে। এসব রিপোর্ট আমার কাছে আসছে। সব কিছু দেখে, শুনে, বুঝে সিদ্ধান্ত নেব। অনেক এমপির পক্ষেই ভালো রিপোর্ট আসছে। তার মানে অনেকেই নিজ এলাকায় কাজ করেছেন।’ বৈঠকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ ও তাঁতি লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের ইলিশ-পোলাও দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, তিনি নিজে এই খাবারের রেসিপি দিয়েছেন এবং নিজেই চারটি ইলিশ রান্না করেছেন।



মন্তব্য